মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
১০:৪৯ এম
নেত্রকোনার পূর্বধলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কারিগরি (বিএম) শাখায় ভরাডুবি হয়েছে। উপজেলার তিনটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৩২ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৮৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৪৯ জন। ফলে এ শাখায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশে।
গত ৩১ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ফলাফলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে ইকরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র তিনজন। পাসের হার ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির ৪১ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ছাড়া জটিয়াবর কলেজ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে পূর্বধলা সরকারি কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭০ জন। পাসের হার প্রায় ৫০ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষাকে কর্মমুখী ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পূর্বধলায় এ ধারার ফলাফল হতাশাজনক। বিশেষ করে ইকরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসায় শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও যথাযথ তদারকির অভাব এ ধরনের ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি বাস রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে আজ রবিবার ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, নতুন ব্যবস্থায় একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমে যাবে। নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, বাস চলাচলে শৃঙ্খলা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন করার পাশাপাশি যানজট কমাতেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র বাস থামানো এবং একই পথে অতিরিক্ত বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানিয়েছেন, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা ও যানবাহন চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ৯৮টি রুটকে ৩২টি সমন্বিত রুটে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। ৯৮টি সচল বাস রুটের প্রতিটিতে ১৮টি ট্রিপের যাত্রী ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর যাত্রা শুরুর স্থান ও গন্তব্য নিয়ে জরিপ করা হয়েছে। মহানগরীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনাও করা হয়েছে।
প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ডিটিসিএর হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে চালু হতে যাওয়া ছয়টি রুট হলো, গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুলকুটিয়া, মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড-কাঁচপুর ব্রিজ, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ এবং টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির।
এসব রুটে ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। টঙ্গী কলেজগেট থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২২ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার পথে ২০টি এসি বাস চালুর প্রস্তাবও রয়েছে।
এ ছাড়া ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকায় তিনটি চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি রুটে ২০টি করে বাস পরিচালনার প্রস্তাব রয়েছে।
রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে। তবে সে সময় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালে ডিটিসিএ নতুন করে পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে। প্রথমে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হলেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিআরটিএ, দুই সিটি করপোরেশন, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ৩২টি রুট চূড়ান্ত করা হয়।
পরিকল্পনায় ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন ও পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ কয়েকটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বাস রাখার জন্য বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে হাসানুর (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। শিশুর মৃত্যুর পর অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাঁকুয়াবাড়ি গ্রামের পাকা রাস্তার মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাসানুর ওই গ্রামের আনিসুর রহমান ও হাসনা বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালুভর্তি একটি ট্রাক্টরের চাকা শিশুটির শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক্টরটির মালিক ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পণ্ডিতপাড়া গ্রামের ফুলবর মিয়া বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, সাত বছরের শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় এভাবে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা কতটা গ্রহণযোগ্য?
সমঝোতার বিষয়ে নিহত শিশুর ফুফা হাছিমুদ্দির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন,আমি বিষয়টি জেনেছি। পরে স্থানীয় লোকজন এক লাখ টাকায় সমাধান করেছেন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক প্রধান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেও থানায় মামলা বা অভিযোগ না করেই তড়িঘড়ি করে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
হাসানুরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক বিএনপি নেতা, দীর্ঘ ১৭ বছর একটি মামলা আসামি না, অসুস্থার কথা বলে বেশি ভাগ সময় দেশের বাইরে অবস্থা করা আনিসুল ইসলাম সানি নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের নিবার্চনে ভোট দিতে এসে। নিবার্চনের প্রধান নিবার্চন কমিশন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আহবায়ক ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আন্দোলনের প্রথম সারির অন্যতম সহযোদ্ধা নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে ব্যর্থ বলে মিডিয়ার সামনে হঠকারী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।।।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট নগরের অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার দক্ষিণ সুরমার চন্ডীপুল সিএনজি স্টেশনে সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চন্ডীপুল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত নির্ধারিত অটোরিকশা ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে যানজট ও নানাবিধ অজুহাত দেখিয়ে চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪০ টাকা করে আদায় করছেন। একই ভাবে চন্ডীপুল থেকে বন্দরবাজার এলাকার নিয়মিত ভাড়া ২৫ টাকা হলেও সেখানে ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিদিন এই রুট গুলোতে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে আসা অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনরা এই অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কোনো যাত্রী নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে চালকরা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই চালকরা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এ বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করলে অটোরিকশা চালকদের তোপের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতি নিরসনে এবং সিএনজি চালকদের অহেতুক ভাড়া বাড়ানো ও অনিয়ম বন্ধে অতি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিলেট দক্ষিণ সুরমা থানার দায়িত্বরত প্রশাসন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ পুলিশি তদারকি বাড়ানো না হলে এ ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ