১২:৩৩ পি.এম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জমা দেওয়া রিট আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠন করা হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশটি প্রদান করে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ এই রিটটি দায়ের করেছিলেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৩ সালের আইনটিকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের জন্য সরকারের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিট বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের এখতিয়ার দিয়ে ১৯৭৩ সালের এই আইনটি তৈরি করা হয়েছিল।
এই আইনের মূল উদ্দেশ্য বা রেশিও লেগিস ছিল মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। তবে পরবর্তীতে সম্পাদিত শিমলা চুক্তি এবং ত্রিপাক্ষিক দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে সকল যুদ্ধবন্দীদের নিঃশর্ত প্রত্যাবাসন ঘটে। এর ফলে, এই আইন অনুযায়ী বিচারের সম্ভাবনা তখনই শেষ হয়ে যায়।
রিট আবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৯ সাল থেকে অকার্যকর এই আইনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে এবং পূর্বে বিরোধী দলের নেতাদের টার্গেট করে ‘বিচারিক হত্যা’র মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
আবেদনকারীর অভিমত, এই আইনের প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) এবং ৩৫ অনুচ্ছেদের (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ) স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে। এছাড়া, সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকগণ শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগের সীটে আসন গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনা সংবিধান বিরোধী। তবে এভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে হুমকির সম্মুখীন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিটে।
আরও পড়ুন: ঢাকা সৌদির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চেয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন