বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা প্রতিপক্ষ হিসেবে দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন। তবে মাঠের সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি অবশ্য মানবিক আচরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের উপলক্ষে ভোজিনহার পরিবারকে বিশেষ ভিআইপি টিকিট উপহার দিয়েছেন মেসি। শুধু টিকিট নয়, কেপ ভার্দে থেকে এসে যেন তারা নির্বিঘ্নে ফাইনাল উপভোগ করতে পারেন, সেই জন্য ভ্রমণের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
গোল ডট কম-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো বিষয়টি ফাইনালের আগে গোপন রাখা হয়েছিল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের পর ভোজিনহার পরিবারের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই মেসির এই মানবিক উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন ভোজিনহা। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে মেসি তার পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ভোজিনহা বলেন, "খেলা শেষে আমি মেসির কাছে গিয়েছিলাম। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, তুমি খুব ভালো খেলেছ। তোমার দেশ তোমাকে নিয়ে গর্ব করবে।" মেসির মতো কিংবদন্তির কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের।
মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতার এই নজির আবারও প্রমাণ করল, লিওনেল মেসি শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলারই নন, তিনি একজন অসাধারণ মানুষও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি মাছ বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ১৫৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক কোরাল মাছ। বিরল আকারের এই মাছটি দেখতে অসংখ্য ক্রেতা ও কৌতূহলী দর্শনার্থীরা বাজারে ভিড় করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন যে, সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় সমুদ্র এলাকা থেকে ধরা পড়া মাছটির খবর তিনি দুই দিন আগে একটি মাছ ধরার ঘাট থেকে পেয়েছেন। পরে তিনি মাছটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কেনেন। মাছ পরিবহনে আরও প্রায় ১০ হাজার টাকার ব্যয় হয়নি।
তিনি জানান, মাছটির বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ কেজি মাছ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত বুকিং নেওয়া হবে। এরপর বুকিং অনুযায়ী মাছটি কেটে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, এত বড় আকারের কোরাল মাছ বাজারে খুব কমই আসে। ফলে মাছটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উন্নত মানের সামুদ্রিক মাছ হওয়ায় অনেক ক্রেতাই আগেভাগে বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোরাল মাছ সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ হিসেবে পরিচিত। সাধারণত বঙ্গোপসাগরসহ উষ্ণমণ্ডলীয় উপকূলীয় সমুদ্র এলাকায় এ মাছের দেখা পাওয়া যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনা ঘটেছে। মিরাজ আলী (২৪) নামে এক যুবককে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
এই ঘটনার ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম তার ছেলে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং চুরি, মারামারি, অশান্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার তাকে মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হলেও সে ফিরে এসে পুনরায় মাদক সেবন করে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাদক কেনার টাকা না পেলে অভিযুক্ত ছেলে বাড়ির মালামাল বিক্রি করে দেয়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করে এবং বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এর আগে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সে দুইবার কারাভোগও করেছে। তার অত্যাচারে তার স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে যান।
সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বাড়িতে অশান্তির একপর্যায়ে বাবা জাহিদুল ইসলাম কারণ জানতে চাইলে, মিরাজ আলী ঘর থেকে একটি করাত এনে বাবার গলায় ধরে জবাই করার চেষ্টা করে। এ সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। পরে তারা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানির সময় মিরাজ আলী সবার সামনে স্বীকার করেন তিনি মাদক সেবন করেন। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি করে মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি, অভিযোগের বিবরণ এবং ঘটনাপ্রবাহের বিশ্লেষণ করে আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক, পারিবারিক সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১০-এর অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি তপন সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার পৌরবাপ্তা এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে মো. পারভেজ (৩১) এবং কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের ইসহাক বাবুর্চির ছেলে মো. সুমন হোসেন (২২)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের পূর্ব চরাইল বালুর মাঠ এলাকায় একটি সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ সদর দপ্তরের একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযানে যায়।
অভিযান চলাকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে, র্যাব সদস্যরা দ্রুত গতিতে ধাওয়া করে পারভেজ ও সুমনকে গ্রেপ্তার করেন।
এ সময় তাদের কাছে উদ্ধার করা হয় ছুরি, তলোয়ার, চাপাতি এবং মোবাইল ফোন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই একটি পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। তারা কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
এ ঘটনায়, তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টার থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭টি ঔষধ জাউত হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। গত ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে এসব ঔষধের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ এসব ঔষধের আনুমানিক বাজার মূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা।
এছাড়াও প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বরত অবহেলা, মেডিক্যালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন জাকসুর নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।
এ পরিস্থিতিতে, প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা ডা. শামসুর রহমানকে তার কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন জাকসুর কয়েকজন নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
এদিকে, এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেডিক্যাল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুর রবকে সভাপতি করে গঠিত এ তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার, এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলাউদ্দিন মোল্লা। তাদের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক বলেন, 'ঔষধের হিসাবের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।' প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ঔষধের হিসাবসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির বিষয়ে কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এজন্য তার কার্যালয় অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, 'মেডিক্যাল সেন্টারের ঔষুধের হিসাবের অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর প্রধান মেডিক্যাল অফিসারের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ