বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:০৪ পি.এম
নির্মাণাধীন পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতোমধ্যে ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে পটুয়াখালী ইপিজেড। এখানে মোট ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরি করা হচ্ছে।
বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০টি শিল্প প্লট প্রস্তুত করেছি। খুব শিগগিরই এসব প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু করব।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্লট বরাদ্দের কাজ একইসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই কারখানা স্থাপন করে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে পারেন।
দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই পটুয়াখালী ইপিজেড গড়ে তোলা হচ্ছে।
১ হাজার ৪৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল শুরুতে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বেপজার মধ্যে জমির দখল ও হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল।
প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ইপিজেডটিতে প্রায় ১৫৩ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে বছরে প্রায় ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হবে।
এ ছাড়া ইপিজেডটিতে সরাসরি প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে আরও প্রায় ২ লাখ মানুষের।
ইপিজেডের অবকাঠামো উন্নয়নকাজও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একইসঙ্গে ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে।
বর্তমানে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, অফিস ভবন, আদর্শ কারখানা ভবন, আবাসিক ভবন, সীমানাপ্রাচীর, পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, ১১ কেভি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইন এবং ৩৩/১১ কেভি গ্যাস ইনসুলেটেড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।
পুনর্বাসন এলাকায় পরিকল্পিত ১৫৪টি বাড়ির মধ্যে প্রায় ১৩০টির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, কবরস্থান ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ।
প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা চারটি আদর্শ কারখানা ভবন, ১০ তলা তিনটি আবাসিক ভবন এবং তিনটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া একটি সাবস্টেশন, হেলিপ্যাড, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), পয়ঃনিষ্কাশন বর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) নেটওয়ার্ক এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে ইপিজেডের ভেতরে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৭০০টি ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে।
এদিকে প্রস্তুত প্লটের খবর বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহী করে তুলছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল পটুয়াখালী ইপিজেড পরিদর্শন করে সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চীনের আরও একটি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলও সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রেখেছে বেপজা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত শিল্প প্লট ও আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার মাধ্যমে পটুয়াখালী ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি রপ্তানি বাড়ানো এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে চীনা কোম্পানি কাজ করছে। প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ সম্মতি দেন।
বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে তারা জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেবে, মানে ময়লা আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে দেবে।’
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়েছে। চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি হবে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, কোম্পানি ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে।
মীর শাহে আলম জানান, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহ রয়েছে। মোংলা বন্দর উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এর সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে চলেছে টালিউডের জনপ্রিয় জুটি দেব ও শুভশ্রীর ছবি ‘দেশু ৭’। দীর্ঘ সময় পর এই জুটিকে আবার পর্দায় দেখা যাবে এবং দেবও এই সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।
দেব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন, যা নতুন পরিচালকের অনুভূতি প্রকাশ করে।
পরিচালনা এবং ছবির মুক্তি নিয়ে যখন দেব অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন, তখন শুভশ্রী বিনা দ্বিধায় তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি গল্প বা টাইটেল সম্পর্কে কিছু না জেনেই ছবিতে অভিনয় করতে সম্মত হয়েছিলেন।
চিঠিতে দেব উল্লেখ করেন, ‘তোমায় অনেক দিন ধরেই চিনি, কিন্তু এই সিনেমা আমায় উপলব্ধি করিয়েছে মানুষ হিসেবে তুমি কতটা বিকশিত হয়েছ।
’ শুভশ্রীর কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের প্রশংসা করেন তিনি।
একই সময়ে ক্যারিয়ার শুরু করে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আবার একসাথে কাজ করতে পেরে দেব নিজেকে গর্বিত মনে করছেন। ভক্তদের মাঝে জুটির প্রতি ভালোবাসা অটুট রাখার জন্য শুভশ্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল সীমান্তে নতুন বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, ভূমিধসের ক্ষত শুকানোর আগেই। চীনের গিরং কাউন্টিতে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে ভূমিধসের কারণে। ধসে পড়া মাটি দিয়ে তৈরি অস্থিতিশীল বাঁধে আটকে থাকা পানি ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, গিরং কাউন্টিতে এখনো ভূমিধস, কাদাধস ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বিদ্যমান। আগামী তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সিসিটিভিতে সম্প্রচারিত সর্বশেষ ড্রোনের ফুটেজে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী একটি ভূমিধসে তৈরি ক্ষতচিহ্নের মধ্যে পানি জমে নতুন একটি হ্রদ গড়ে উঠেছে। হ্রদটি গিরং বন্দরের নিকটে অবস্থিত, তবে এটি নেপালের অংশে বলে জানানো হয়েছে।
সিসিটিভির তথ্য অনুসারে, নতুন তৈরি হওয়া হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। পানি ইতোমধ্যে উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবাহিত হতে পারে। এতে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে বলে সিসিটিভি জানিয়েছে।
নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় চীনা সামরিক বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডের কয়েকটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সিসিটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় কমান্ডের সদস্য চেন শি জানান, ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে কয়েকটি ইউনিট একটি কমান্ড সেন্টারে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
চেন শি বলেন, আশপাশের পাহাড়ের ঢাল যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। কারণ সড়কটি খাড়া পাহাড়ের পাশ দিয়ে গেছে। একই সঙ্গে নতুন করে কাদাধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের নজর এখন মূলত ভূমিধসে তৈরি হওয়া নতুন হ্রদটির দিকে। সেখানে পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নাসা, সিনেট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সম্প্রতি বড় ধরনের সাইবার অভিযান চালিয়েছেন চীনা হ্যাকাররা। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় অবশ্য চীনা হ্যাকারদের এই অভিযান অনেকাংশে করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করেছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ওই সাইবার অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা।
মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি কোম্পানিও ছিল।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ই-মেইলে বলেন, বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে তিনি বলেন, ‘চীনা সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।’
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয় ব্যবহার করে ‘চীনকে কলঙ্কিত বা অসম্মান করার চেষ্টা’ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার পরিচালনা করত চীনে অবস্থিত নানজিং শিনজিউয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মিও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
আদালতে দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসছে চীনা হ্যাকাররা। তবে, তাদের সব চেষ্টা সফল হয়নি। ২০১৯ সালের আগস্টে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের একটি দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যাকাররা জ্বালানি বিভাগের তিনটি গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।
এফবিআই, এনএসএ এবং মার্কিন সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শপত্রে বছরের পর বছর ধরে চালানো একাধিক হ্যাকিং প্রচেষ্টার বিস্তারিতও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে অজ্ঞাত কয়েকটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও ছিল।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে হ্যাকাররা মার্কিন সিনেট এবং একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগও প্রশ্নগুলো বিচার বিভাগের কাছে পাঠিয়েছে। তবে, অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বিচার বিভাগ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে এফবিআই কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, হ্যাকাররা এফবিআইয়ের তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংস্থার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছিল। পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই অনুপ্রবেশের সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়।
চীনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি কমিটির নেটওয়ার্ক এবং একাধিক বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানিতে অনুপ্রবেশের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ