বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:১১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নাসা, সিনেট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সম্প্রতি বড় ধরনের সাইবার অভিযান চালিয়েছেন চীনা হ্যাকাররা। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় অবশ্য চীনা হ্যাকারদের এই অভিযান অনেকাংশে করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার নামে দুটি হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহৃত ডোমেইন জব্দ করেছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ওই সাইবার অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা।
মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি কোম্পানিও ছিল।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র ই-মেইলে বলেন, বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত নন। তবে তিনি বলেন, ‘চীনা সরকার সব ধরনের সাইবার হামলার দৃঢ় বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে লড়াই করে।’
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয় ব্যবহার করে ‘চীনকে কলঙ্কিত বা অসম্মান করার চেষ্টা’ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, কিউস্ক্যান ও কিউটিআরাউটার পরিচালনা করত চীনে অবস্থিত নানজিং শিনজিউয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি। তাদের গ্রাহকদের মধ্যে চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মিও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
আদালতে দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে নিজেদের তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে আসছে চীনা হ্যাকাররা। তবে, তাদের সব চেষ্টা সফল হয়নি। ২০১৯ সালের আগস্টে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের একটি দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যাকাররা জ্বালানি বিভাগের তিনটি গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের একটি অজ্ঞাত সংস্থা এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।
এফবিআই, এনএসএ এবং মার্কিন সাইবার কমান্ডের সাইবার ন্যাশনাল মিশন ফোর্সের যৌথ সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শপত্রে বছরের পর বছর ধরে চালানো একাধিক হ্যাকিং প্রচেষ্টার বিস্তারিতও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের মে মাসে অজ্ঞাত কয়েকটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে তথ্য চুরির ঘটনাও ছিল।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে হ্যাকাররা মার্কিন সিনেট এবং একটি মার্কিন হাসপাতালের নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। নাসার এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগও প্রশ্নগুলো বিচার বিভাগের কাছে পাঠিয়েছে। তবে, অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বিচার বিভাগ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে এফবিআই কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, হ্যাকাররা এফবিআইয়ের তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংস্থার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছিল। পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই অনুপ্রবেশের সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়।
চীনা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি কমিটির নেটওয়ার্ক এবং একাধিক বড় টেলিযোগাযোগ কোম্পানিতে অনুপ্রবেশের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপের দেখা মিলেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯তলার করিডোরে প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি সাপ দেখা যায়। এই তলাতেই শিক্ষামন্ত্রী ও সচিবের কার্যালয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক বলেন, ‘করিডোরে সাপের বিষয়টি শুনেছি। সত্য ঘটনা।’
মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তারা জানান, সকালে অফিসে প্রবেশের পর করিডোরে প্রথমে দুটি সাপ দেখতে পান তারা। কিছুক্ষণ পর সেখানে আরও একটি সাপ দেখা যায়। সাপগুলো করিডোরে ছোটাছুটি করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা তিনটি সাপই মেরে ফেলেন। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সচিবালয়ের ১৯ তলার মতো উঁচু ভবনের করিডোরে সাপের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ধারণা, ভবনের ভেতরের কোনো স্টোরেজ বা অন্য কোনো স্থানে আরও সাপ থাকতে পারে। এ কারণে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল একটি ‘ভাইব’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি এ সময় বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার করতে চায়। তবে আমরা জুলাই সনদের ধারেকাছেও যেতে পারিনি। বিরোধী দল তাদের প্রতিনিধি দিবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
তিনি আরও জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় থাকার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিয়েছেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনাও প্রদান করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত, তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট তাকে সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৭ আগস্ট ধার্য করেন।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট সিএমএম আদালতে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। পরে ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন বা সালমান শাহ মারা যান। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। আদালত অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সেসময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোনাল দিনুশা যেন একাই শ্রীলঙ্কার দুর্গকে রক্ষা করছেন। কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভারতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন, এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় বোলারদের সামনে তিনি একটি দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
একটি দায়িত্বশীল হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে, তিনি অপরাজিত থেকে ম্যাচটিকে ভারতের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টটি এখন এমন একটি রোমাঞ্চকর মোড়ে এসে পৌঁছেছে, যেখানে ম্যাচ ড্র কিংবা ফল হওয়া—দুটোই সম্ভব। বর্তমানে ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ শুভমান গিলের দলের জয়ের পথে দিনুশা বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
এছাড়া কলম্বোর আকাশও ম্যাচকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
একটি ড্র আগামী বছরের ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) সমস্ত হিসাব-নিকেশ বদলে দিতে পারে।
আগামী বছর জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডব্লিউটিসি ফাইনালের লড়াইয়ে ভারতের জন্য এই ম্যাচটির গুরুত্ব অপরিসীম। পয়েন্ট টেবিলের এই দৌড়ে ভারতীয় দল বর্তমানে পিছিয়ে থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর ফাইনালের টিকিট পাওয়ার পথ কিছুটা মসৃণ হয়েছিল। তবে যদি এই টেস্টটি অমীমাংসিত থেকে যায়, তাহলে শুভমান গিলের দলের ফাইনালের স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা লাগবে।
শেষ দিনে বৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে স্বাভাবিকভাবেই ভারত ব্যাকফুটে চলে যাবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব শ্রীলঙ্কার বাকি ৩ ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফেরাতে পরিকল্পনা করছেন ভারতীয় বোলাররা।
বর্তমানে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলে ৫৩.৩৩ শতাংশ (পিটিসি) পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের পরেই পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত। এই টেস্টে জয় পেলেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশের বড় হারের সুযোগে চার নম্বরে উঠে আসতে পারবে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু যদি ম্যাচটি ড্র হয়, তাহলে ভারতের পয়েন্ট পার্সেন্টেজ কমে দাঁড়াবে ৫১.৫২-এ, ফলে অবস্থান থাকবে সেই পাঁচেই।
বর্তমান ডব্লিউটিসি চক্রে এই সিরিজের পর ভারতের সামনে মাত্র সাতটি টেস্ট ম্যাচ বাকি থাকবে। ইতোমধ্যে খেলা ১০টির মধ্যে ৪টিতে হেরে বসা শুভমান গিলের দলের জন্য আগামী প্রতিটি ম্যাচই এখন একপ্রকার ‘নকআউট’ লড়াই।
শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের নভেম্বরে দুটি টেস্ট খেলতে নিউজিল্যান্ড সফর করবে ভারত। এরপর ডব্লিউটিসি চক্রের শেষ সিরিজে আগামী বছর আইপিএলের ঠিক আগে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে পাঁচ ম্যাচের মহাগুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে।
কেউ পেনাল্টি পয়েন্টের মতো কোনো জরিমানা না খেলে, ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ভারতকে বাকি থাকা টেস্টগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই হাসতে হবে জয়ের হাসি। যদি ভারত বাকি আটটি টেস্টের (কলম্বো টেস্টের শেষ দিনসহ) অন্তত সাতটিতে জয় পায়, তবে তাদের পিসিটি দাঁড়াবে ৬৮.৫২। আর যদি ছয়টি জয় ও দুটি হার হয়, তবে পিসিটি নেমে আসবে ৬২.৯৬-এ।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৫৩ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা। আর পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনেই তাদের লিড গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ রানে। এখন ভারতের সামনে একটি বিশাল লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমে লঙ্কানদের ৩ উইকেট শিকার করতে হবে। পরে দিনের শেষে তাদের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য টপকাতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ