ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারি বর্ষণে বান্দরবানে আটকে পড়া ৯০ জন পর্যটক উদ্ধার


ভারি বর্ষণে বান্দরবানে আটকে পড়া ৯০ জন পর্যটক উদ্ধার

বান্দরবানের থানচির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া ৯০ জন পর্যটককে উপজেলা প্রশাসন সফলভাবে উদ্ধার করেছে। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে যাওয়ার জন্য তারা সেখানে আটকে ছিলেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমসহ নানা এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সন্ধ্যায় থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত শুক্র ও শনিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কিন্তু রোববার (৫ জুলাই) থেকে হঠাৎ করে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হলে সাঙ্গু নদী ও ছোট ছোট ছড়ার পানি বেড়ে যায়। এতে করে বোট চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, ফলে পর্যটকরা ওই এলাকা গুলোতে আটকে পড়েন।

আরও পড়ুন: ৯৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রেপ্তার

পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে থানচিতে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর নদীর পানি কিছুটা কমে আসে। এই সময় উপজেলা প্রশাসন ট্যুরিস্ট গাইড এবং বিজিবির সহয়তায় বোট দিয়ে ওই এলাকা থেকে আটকে পড়া ৯০ জন পর্যটককে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

ভবিষ্যতের পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত করে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, ‘তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম থেকে আটকে পড়া ৯০ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, আবহাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার দিতে বাধার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার

ঢাকা জেলা প্রশাসন কোতয়ালী এলাকায় অবৈধ দখলমুক্ত করে ওয়াকফ সম্পত্তির ১৩ দশমিক ০৮ শতক জমি উদ্ধার করেছে।

এ অভিযানে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সরাসরি তদারকি করেন। আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিচার শাখার জারি করা অফিস আদেশের আলোকে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে কোতয়ালী রাজস্ব সার্কেলাধীন ঢাকা মৌজার সিটি-২১ নম্বর খতিয়ানের সিটি ৬০২ নম্বর দাগভুক্ত জমি থেকে অবৈধ দখলদারদে উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানের পরে উদ্ধার করা জমির দখল যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ অভিযানের ধারাবাহিকতায় কোতয়ালী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার আশরাফ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, 'ওয়াকফসহ সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বেআইনিভাবে এসব সম্পত্তি দখল করে রাখতে পারবে না। আইন অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।'

তিনি আরও বলেন, 'সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ঢাকা সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষণ, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং প্রকৃত কর্তৃপক্ষের কাছে দখল বুঝিয়ে দিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরো জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনারগাঁয়ে ২৫ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


সোনারগাঁয়ে ২৫ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করা হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ ২৫ কেজি জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে মাছ বিক্রেতা পালিয়ে যান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সোনারগাঁ পৌরসভার টিপুরদী মাছ বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার। অভিযানটি সোনারগাঁ থানা পুলিশের সহায়তায় সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারটিতে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৫ কেজি পিরানহা মাছ জব্দ করা হয়। যদিও অভিযানের সময় বিক্রেতা পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানিয়েছেন, 'মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০' অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে জব্দ করা নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান বলেন, পিরানহা মাছের চাষ ও বাজারজাতকরণ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। মাছটি দেখতে রূপচাঁদার মতো হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিক্রি করে থাকে। জব্দ করা মাছের বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ

রবার্তো মার্টিনেজ পর্তুগালের কোচ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলর ম্যাচে ইনজুরি টাইমে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে পর্তুগাল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে মার্টিনেজ এই বিদায়কে ‘ব্যর্থ’ বলতে নারাজ।

ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৯১ মিনিটে বদলী খেলোয়াড় মিকেল মোরিনোর গোলে স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়। এই ম্যাচের মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ^কাপের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরও সমাপ্তি ঘটে।

মার্টিনেজ ২০২৩ সালে পর্তুগালের কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বিশ্বকাপ পর্যন্ত পর্তুগীজ ফুটবল ফেডারেশন তার সাথে চুক্তি করেছিল। তার অধীনে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেওয়ার unfortunate ঘটনা ঘটেছে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মার্টিনেজ বলেন, ‘এই পদে কাজ চালিয়ে যাবার এখন আর কোন অর্থ নেই। হ্যাঁ, এটাই জাতীয় দলের সাথে আমার শেষ ম্যাচ। আমি গর্বিত। আমি ৪৫টি ম্যাচে এই দলের সাথে ছিলাম। পর্তুগালে আমি অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি, সেখানে আমি ভালবাসা পেয়েছি। এই স্মৃতিগুলি আমার সাথে সবসময় থাকবে। এটা আমার জন্য সত্যিই গর্বের, আনন্দের ও একইসাথে দায়িত্ববোধের। বিষয়টা কঠিন, কিন্তু সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার চলে যাওয়ার সঠিক সময়।’

মার্টিনেজ পর্তুগালের আগে বেলজিয়াম জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। এর পূর্বে ক্লাব ফুটবলে তিনি এভারটন, উইগান ও সোয়ানসি সিটি পরিচালনা করেছেন।

এবারের আসরে পর্তুগালকে অন্যতম সেরা প্রতিভাবান স্কোয়াড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মিডফিল্ডে ভিটিনহা, হুয়াও নেভেসের সাথে ব্রুনো ফার্নান্দেস এবং আক্রমণভাগে রোনালদো নিয়ে সাজানো দল নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু মার্টিনেজ শেষ ষোল থেকে বিদায়কে একেবারেই ব্যর্থতার তকমা দিতে চান না।

তিনি বলেন, ‘আমরা মোটেই ব্যর্থ নই। আমরা ম্যাচে পরাজিত হয়েছি, কিন্তু একটি দলের বিপক্ষে যারা এবারের আসরের ফেবারিট। অসাধারণ কিছু ব্যক্তিগত প্রতিভা এই টুর্নামেন্টে প্রমাণ করেছি। বড় ম্যাচে জয়-পরাজয় অনেক বড় পরিসরে মাপা হয়। বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে জয়ের জন্য চেষ্টা না করাটা ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত সম্ভাব্য সব কিছুই করার চেষ্টা করেছি। এটা শুধুমাত্র পর্তুগাল নয়। বিশ্বকাপে খুব কম দলই আছে যারা ধারাবাহিকভাবে এতদূর পর্যন্ত আসতে পারে। সবসময় বাছাইপর্ব পেরুনো ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সত্যিই কঠিন। কিছু কিছু বিষয় বিশ্বকাপের ভাগ্য গড়ে দেয়। আমাদের কাল একটি শট পোস্টে লেগেছে, যা ম্যাচের পার্থক্য সৃষ্টি করেছে।’

সম্পূর্ণ ৯০ মিনিট ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে মাঠে রাখার বিষয়ে মার্টিনেজ বলেন, ‘যখন তোমার গোলের প্রয়োজন হয় তখন রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে, এখানে সমস্যা কোথায়। তার উপস্থিতি দলে প্রয়োজন, বক্সে সে যেকোন সময় যা কিছু করতে পারে। তাহলে তাকে কেন বেঞ্চে নিয়ে আসবো? অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালে হয়তো গণসালো রামোসকে মাঠে নামানো যেত, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিট না খেলানোর কোন যুক্তি নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসলার দোকান থেকে বিসিএস ক্যাডার: ভাণ্ডারিয়ার মাহমুদের অদম্য জয়ের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


মসলার দোকান থেকে বিসিএস ক্যাডার: ভাণ্ডারিয়ার মাহমুদের অদম্য জয়ের গল্প
দারিদ্র্যের কষাঘাত, অভাবের সংসার আর বাবার ছোট মসলার দোকানে জীবন-সংগ্রাম কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে। সব প্রতিকূলতা জয় করে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার কৃতি সন্তান মো. মাহমুদ আকন ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর এই মহৎ অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।

একই সাথে ভাণ্ডারিয়ার আরেক কৃতি সন্তান মো. আবুল কাশেমও ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে (ম্যানেজমেন্ট) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে উপজেলার গৌরব দ্বিগুণ করেছেন। অভাব আর মেধার লড়াইয়ে জয়ী এই দুই তরুণের সাফল্য এখন পুরো অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে।

মসলার দোকানে কেটেছে মাহমুদের শৈশব, লক্ষ্য ছিল আকাশছোঁয়া। পৌর শহরের পূর্ব ভাণ্ডারিয়া গ্রামের মো. মোজাম্মেল হোসেন আকনের সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট (একমাত্র ছেলে) মাহমুদ। ভাণ্ডারিয়া কেন্দ্রীয় বাইতুল ইসলাম জামে মসজিদের পাশে বাবার একটি ছোট মসলার দোকানই ছিল পুরো পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস। নয় সদস্যের এই বড় পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে যেখানে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

শৈশব থেকেই মাহমুদ পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার দোকানে বসেছেন, মসলা বিক্রি করেছেন, আবার অবসরে বুঁদ হয়েছেন কাব্যচর্চায়। সীমিত সামর্থ্য আর দারিদ্র্যকে কখনো নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি তিনি।

মাহমুদের শিক্ষার শুরু মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে। ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন সিনিয়র কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৭৮ এবং আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। এরপর তিনি স্থানীয় আমান উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হয়ে প্রথম শ্রেণিতে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে সরকারি বিএম কলেজে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি শুরু করেন বিসিএসের কঠোর প্রস্তুতি। প্রথমবারই দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরিতে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে।

মাহমুদের প্রাক্তন শিক্ষক মনোয়ার হোসেন তাঁর প্রিয় ছাত্রের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই মাহমুদ অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী আর কঠোর পরিশ্রমী এক তরুণ। চরম আর্থিক অনটন আর প্রতিকূলতার মাঝেও পড়াশোনার প্রতি ওর যে একাগ্রতা ছিল, তা সত্যি প্রশংসনীয়। কোনো বাধাই ওকে পিছিয়ে দিতে পারেনি। আজ ওর এই অনন্য সাধারণ অর্জনে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।

ছেলের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন আকন বলেন, শত কষ্টের মাঝেও ছেলে আমার পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়নি। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি দোকানের ব্যবসাপাতিও সামলাতো। আজ ছেলে বিসিএস পাস করেছে শুনে মনটা ভরে গেছে। দরিদ্র বাবা হিসেবে আমি ভীষণ সুখ পাচ্ছি।

সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাহমুদ আকন বলেন, আমার এই অর্জনের পেছনে রয়েছে মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা, বাবা-মার অক্লান্ত ত্যাগ, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরম অনুগত তিন বন্ধুর নিঃস্বার্থ সহযোগিতা। কর্মজীবনে পদার্পণ করে আমি যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারি এবং কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করি—এ জন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থী।

ভাণ্ডারিয়ার সাফল্যের মুকুটে আরেকটি উজ্জ্বল পালক যুক্ত করেছেন উপজেলার দক্ষিণ মাটিভাঙ্গা গ্রামের কৃতি সন্তান মো. আবুল কাশেম। তিনি ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের 'ম্যানেজমেন্ট' (ব্যবস্থাপনা) বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। দক্ষিণ মাটিভাঙ্গা গ্রামের মরহুম হুকুম আলী ও আলেয়া বেগমের এই যোগ্য সন্তানের সাফল্য যেন ভাণ্ডারিয়ার গৌরবকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

এই কৃতি শিক্ষার্থী উপজেলার পৈকখালী হাজী এস.এম জামান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৪.৭৮ এবং আমান উল্লাহ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক সম্পন্ন করে বিসিএসে কাঙিক্ষত সাফল্য পান। একই কলেজ থেকে দুই শিক্ষার্থীর এমন ঈর্ষণীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শিক্ষকমহল ও স্থানীয় প্রশাসন।

আমান উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালমা আক্তার তাঁর প্রতিষ্ঠানের এই দুই কৃতি শিক্ষার্থীর সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মাহমুদ ও আবুল কাশেমের এই ঈর্ষণীয় অর্জন শুধু আমাদের কলেজেরই নয়, বরং সমগ্র ভাণ্ডারিয়ার জন্য এক বিরাট গৌরবের বিষয়। আমাদের কলেজে অধ্যয়নের সময় থেকেই তারা অত্যন্ত প্রতিভাবান ছিল এবং তাদের ফলাফলে মেধার সেই ইতিবাচক স্বাক্ষর আমরা পেয়েছিলাম। আজ জাতীয় পর্যায়ের এই অনন্য সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান এই সাফল্যকে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মফস্বলের একটি কলেজ থেকে আত্মবিশ্বাস, মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে চান্স পাওয়া সত্যিই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মো. মাহমুদ আকন ও আবুল কাশেম ভাণ্ডারিয়ার জন্য এক বিশাল গৌরব বয়ে এনেছেন।

এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, সততা, মেধা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে এই দুই তরুণ অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%