০৭:১৬ পি.এম
রবার্তো মার্টিনেজ পর্তুগালের কোচ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলর ম্যাচে ইনজুরি টাইমে গোল হজম করে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে পর্তুগাল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে মার্টিনেজ এই বিদায়কে ‘ব্যর্থ’ বলতে নারাজ।
ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৯১ মিনিটে বদলী খেলোয়াড় মিকেল মোরিনোর গোলে স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়। এই ম্যাচের মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ^কাপের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারেরও সমাপ্তি ঘটে।
মার্টিনেজ ২০২৩ সালে পর্তুগালের কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বিশ্বকাপ পর্যন্ত পর্তুগীজ ফুটবল ফেডারেশন তার সাথে চুক্তি করেছিল। তার অধীনে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেওয়ার unfortunate ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: মুস্তাফিজ বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন রেনেগেডসে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মার্টিনেজ বলেন, ‘এই পদে কাজ চালিয়ে যাবার এখন আর কোন অর্থ নেই। হ্যাঁ, এটাই জাতীয় দলের সাথে আমার শেষ ম্যাচ। আমি গর্বিত। আমি ৪৫টি ম্যাচে এই দলের সাথে ছিলাম। পর্তুগালে আমি অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি, সেখানে আমি ভালবাসা পেয়েছি। এই স্মৃতিগুলি আমার সাথে সবসময় থাকবে। এটা আমার জন্য সত্যিই গর্বের, আনন্দের ও একইসাথে দায়িত্ববোধের। বিষয়টা কঠিন, কিন্তু সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার চলে যাওয়ার সঠিক সময়।’
মার্টিনেজ পর্তুগালের আগে বেলজিয়াম জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। এর পূর্বে ক্লাব ফুটবলে তিনি এভারটন, উইগান ও সোয়ানসি সিটি পরিচালনা করেছেন।
এবারের আসরে পর্তুগালকে অন্যতম সেরা প্রতিভাবান স্কোয়াড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মিডফিল্ডে ভিটিনহা, হুয়াও নেভেসের সাথে ব্রুনো ফার্নান্দেস এবং আক্রমণভাগে রোনালদো নিয়ে সাজানো দল নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু মার্টিনেজ শেষ ষোল থেকে বিদায়কে একেবারেই ব্যর্থতার তকমা দিতে চান না।
তিনি বলেন, ‘আমরা মোটেই ব্যর্থ নই। আমরা ম্যাচে পরাজিত হয়েছি, কিন্তু একটি দলের বিপক্ষে যারা এবারের আসরের ফেবারিট। অসাধারণ কিছু ব্যক্তিগত প্রতিভা এই টুর্নামেন্টে প্রমাণ করেছি। বড় ম্যাচে জয়-পরাজয় অনেক বড় পরিসরে মাপা হয়। বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে জয়ের জন্য চেষ্টা না করাটা ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত সম্ভাব্য সব কিছুই করার চেষ্টা করেছি। এটা শুধুমাত্র পর্তুগাল নয়। বিশ্বকাপে খুব কম দলই আছে যারা ধারাবাহিকভাবে এতদূর পর্যন্ত আসতে পারে। সবসময় বাছাইপর্ব পেরুনো ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সত্যিই কঠিন। কিছু কিছু বিষয় বিশ্বকাপের ভাগ্য গড়ে দেয়। আমাদের কাল একটি শট পোস্টে লেগেছে, যা ম্যাচের পার্থক্য সৃষ্টি করেছে।’
আরও পড়ুন: আশিয়া কাপ আর্চারির ফাইনালে বাংলাদেশ, কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করবে
সম্পূর্ণ ৯০ মিনিট ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে মাঠে রাখার বিষয়ে মার্টিনেজ বলেন, ‘যখন তোমার গোলের প্রয়োজন হয় তখন রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে, এখানে সমস্যা কোথায়। তার উপস্থিতি দলে প্রয়োজন, বক্সে সে যেকোন সময় যা কিছু করতে পারে। তাহলে তাকে কেন বেঞ্চে নিয়ে আসবো? অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালে হয়তো গণসালো রামোসকে মাঠে নামানো যেত, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিট না খেলানোর কোন যুক্তি নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন