ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন নামে আসছে ‘অ্যান্টি টেররিজম’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম’, বাড়ছে কার্যপরিধি


নতুন নামে আসছে ‘অ্যান্টি টেররিজম’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম’, বাড়ছে কার্যপরিধি

পুলিশের বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চেয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা যুক্তি প্রদান করেছেন যে, দেশে এবং বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য আরও বিস্তৃত কাঠামো প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্য দিকে, ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বসুন্ধরা শুভসংঘের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অসহায় পরিবারের মাঝে

ডেইলি স্টার এই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার জন্য এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের মূল নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বও অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, নতুন নামে পরিচিত হলে অতীতে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ থেকে সংস্থাগুলো বেরিয়ে এসে জনআস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সুবিধা লাভ করবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার এবং তথ্যের দ্রুত প্রবাহের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন যে বদলে গেছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালের ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যে ইউনিটটি যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৬২০ জন। এরপর থেকে এটিইউ সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী হিসেবে কার্যরত রয়েছে।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত

এটিইউর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন আরো আধুনিক কৌশলে হামলার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের কাজ করছে। এসব গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।

এই প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টায় লিপ্ত। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করেও গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করছে।

এসব পরিবর্তিত হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে এটিইউকে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে (এসএসইউ) রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোতে ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায়ও বড় ভূমিকা পালন করবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এটির ফলে বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা সহজ হবে এবং দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, এই নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের জন্য সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

আরও পড়ুন: নাহিদের অভিযোগ: আগে আ.লীগ, এখন বিএনপি দিচ্ছে প্রশ্রয়

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে এটিইউ এবং সিটিটিসির মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্থার ওপর অতিরিক্ত ও ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব চাপানো হলে তাদের মূল কাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এটিইউর এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষায়িত সংস্থাকে যদি নানা ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা হলে তাদের মূল কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেছেন, নাম পরিবর্তন করে যদি মাত্রা বাড়ানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটির বর্তমান দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে জঙ্গিবাদ দমনে ইউনিটটির কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত সরকারের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখা এবং জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে ৯০ দিনের জন্য মজুত সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে আরও ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ এই জ্বালানি সরবরাহ করবে, যার ব্যয়ের পরিমাণ ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল ক্রয়ের কাজ করছে। সম্প্রতি, বিপিসির এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর দেশের চাহিদার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানি করে থাকে। এ কারণে জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাসের চাহিদার বিপরীতে বিপিসি একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রদান করে। পরবর্তীতে সেটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কমিটি ইতোমধ্যে অনুমোদন প্রদান করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিয়ে সেটি বিপিসির কাছে প্রেরণ করেছি। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে বিপিসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোয়া (নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড) প্রদান করবে। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে শুরু করবে।

বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের কারণে পৃথিবীজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌছেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের একটি সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা রাখা, শিল্পোৎপাদন ও কৃষিকাজ সচল রাখা এবং আকাশপথের যোগাযোগ সঠিক রাখতে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, গত ১০ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার চিঠি ১৭ জুন পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নোয়া’ ইস্যু করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত চুক্তির পর খুব দ্রুতই তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—যেকোনো মূল্যে দেশে ৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুত রাখা হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের মজুত আছে। চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতি ছয় মাস পর পর নিয়মিত তেল আমদানি করা হবে।’

আর্থিক ব্যয় ও ডলারের হিসাব :

গত ২৪ মে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো বিপিসির এক প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন-আগস্ট সময়সীমার মধ্যে চাহিদার নিরিখে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দরপত্রের পরিমাণে কিছুটা কমবেশি রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের গত ১৩ মে তারিখের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার সমান ১২৩.২৫ টাকা) অনুযায়ী এই আমদানি হতে পারে মোট ব্যয় ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং ডলারের মূল্যের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কমবেশি হয়ে যেতে পারে। এই আমদানির খরচ বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজনে ঋণ বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে মেটানো হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

উদ্বেগজনক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতি:

বৈশ্বিক উদ্বেগজনক প্রেক্ষাপট এবং বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে বিপিসির প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার অভাবে জাহাজগুলো দীর্ঘ বিকল্প রুট ব্যবহার করছে, ফলে ট্রানজিট সময় এবং পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম এবং জাহাজ ভাড়া দাবি করছে।

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ২০২২ সালে ডিজেলের সর্বোচ্চ দর প্রতি ব্যারেল ১৭৮.৯১ ডলার থাকলেও, ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তা রেকর্ড ২৮৪.৯৫ ডলারে পৌছেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের গড় দর ৮৫.৯৯৭ ডলার থাকলেও এপ্রিলে তা ১১৮.৫০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭.৯০৪ ডলার হয়ে গিয়েছিল।

বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে এবার প্রিমিয়াম কিছুটা বাড়লেও, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রাপ্ত এই দরটিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌক্তিক মনে করছে বিপিসির দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

দেশে জ্বালানির ঘাটতি নেই :

জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করে জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ৬০ দিনের জন্য যথেষ্ট মজুত রয়েছে। ডলার সংকটের মধ্যে এলসি খোলার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।

এ বিষয়ে যুগ্মসচিব মনির হোসেন বাসসকে বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে কোনো ধরনের বাধা বা সংকটের আশঙ্কা নেই।’

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণে একটি স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধি করার কাজ চলছে। যেকোনো মূল্যে শিল্প এবং কৃষিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরুর তারিখ জানাল কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরুর তারিখ জানাল কর্তৃপক্ষ

চলতি অর্থবছর ২০২৬-২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সমাজসেবা অধিদপ্তর অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি, যেমন তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, অনগ্রসর ও চা-শ্রমিক। এ লক্ষ্যে জুলাই মাসজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে ৩০ জুন একটি নির্দেশনা জারি করা হয়, যেখানে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যুগোপযোগী নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে এবং এরপর ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত dss.bhata.gov.bd/online-application ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের তাদের নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে গেলে আবেদনকারীর সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং নিজের মোবাইল বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলে যোগাযোগের জন্য একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বরও দেওয়া দরকার।

এদিকে নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা নিয়মিত অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হওয়ার উপযুক্ত নয়। পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানায়, নতুন আবেদন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা আবেদনসমূহ একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে বরাদ্দ অনুযায়ী উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উপকারভোগীরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখার টেকনিক্যাল টিম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির জার্সি উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভোজিনিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


মেসির জার্সি উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভোজিনিয়া

চলতি বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছেন বয়স ৪০ বছরের কেপ ভার্ডের গোলকিপার ভোজিনিয়া। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দল হারলেও, তিনি মেসির কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন। তাই, ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়াকে মেসি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এবং নিজের জার্সি উপহার দিয়েছেন।

ম্যাচের পর লিওনেল মেসির সঙ্গে কয়েক মুহূর্ত কথা বলার আশায় কেপ ভার্ডের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া তার কাছে এগিয়ে যান। তবে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার আগেই, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের আচরণে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান।

ভোজিনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, যখন তিনি কাছে পৌছান, তখন মেসি তাকে জড়িয়ে ধরেন। পরে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, "তুমি খুব প্রতিভাবান। তুমি একজন অসাধারণ গোলকিপার। তোমার দেশের মানুষের তোমার জন্য গর্ব করা উচিত।"

মেসির প্রশংসাকে ভোজিনিয়া তার ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "এমন একজন ফুটবলারের মুখে নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক কথা শোনা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি, যা আমি কখনো ভুলব না।"

মেসির প্রশংসার জবাবে ভোজিনিয়াও তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি একই সাথে বলেন, "ধন্যবাদ, লিও। আপনিই সেরা।" এরপর তিনি মেসির কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ করেন, জার্সি বদল করার জন্য।

ভোজিনিয়ার দাবি, মেসি হাসিমুখে সেই অনুরোধে সাড়া দেন এবং বলেন, "অবশ্যই। টানেলের ভেতরে তোমাকে এটা দেব।"

একজন ফুটবলারের কাছে প্রিয় তারকার সঙ্গে জার্সি বিনিময় নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় অর্জন। আর যদি সেই সঙ্গে প্রশংসা এবং আন্তরিক আলিঙ্গনও যোগ হয়, তাহলে সেই মুহূর্ত আরও বিশেষ হয়ে ওঠে। ভোজিনিয়ার কাছেও ঘটনাটি তেমনই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে সরকার: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে সরকার: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

 পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা সুপেয় পানির সংকট দূর করার চেষ্টা করছি। সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ডাকরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রামপাল এডিপি’র উদ্যোগে ২১৫টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংকি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়ার্ল্ড ভিশন রামপাল এডিপি’র সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি বেগমের সভাপতিত্বে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট প্রকট। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সংকট দূর করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা। তাই সরকার নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন খাতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ভাতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।

শেখ ফরিদুল বলেন, ‘আপনাদের সব সমস্যার সমাধান হয়তো একসঙ্গে করা সম্ভব হবে না। তবে আমি আপনাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।’

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা তরফদার এনামুল হক প্রিন্স বক্তব্য রাখেন। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন এবং উপকারভোগীদের মাঝে ২১৫টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংকি বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%