ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ভোজ্যতেল সরবরাহে কারসাজি

টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ৩২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা


টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ৩২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

এটি ভোজ্যতেল সরবরাহে কারসাজির দায়ে করা হয়েছে। কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে অস্বাভাবিকভাবে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন, সরবরাহ, বাজার বা সেবার সংস্থানকে সীমিত ও নিয়ন্ত্রণ করার।

আরও পড়ুন: মিশিগানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ

কমিশন জানিয়েছেন, ২০১২ সালের আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী শবনম ভেজিটেবিল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অর্থ মঞ্জুরি দেওয়ার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান আপিল বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ পাবে।

রায়ে বলা হয়েছে, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেল উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করেছে। এ ছাড়া, অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ কারণে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০১২ সালের প্রতিযোগিতা আইনের ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং (২) এর দফা (ক), উপ-দফা (অ) ও (খ) লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়া, অভিযোগে বলা হয়েছে, শবনম ভেজিটেবিল অয়েলের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ (এস ও) সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এটি প্রতিযোগিতা বিরোধী চুক্তির আওতায় পড়ে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হলে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তখন অনুসন্ধান চালায়।

এ সময় ৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কৃত্তিম সরবরাহ সংকটের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিযোগিতা কমিশন সেসময় একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে। তারা গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডসহ অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারসাজির প্রাথমিক প্রমাণ পায়। বাজারে সরবরাহ সীমিত করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান ও ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে গভীর রাতে এলোপাতাড়ি গুলিতে যুবক নিহত, অপর যুবক আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা-বিবর্জিত : নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা-বিবর্জিত : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুইটি দিক রয়েছে। এবারের বাজেট নেতিবাচক দিক থেকে উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতা বিবর্জিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শেষ হয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বাজেটের দুই দিকই পর্যালোচনা করছি। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের আর্থিক পরিকল্পনা বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। ইতিবাচক দিক হিসেবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেহেতু সরকার নির্বাচনের আগে থেকেই কার্ডভিত্তিক নীতিতে কাজ করছে, সেহেতু এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি মানুষের উপকারে আসতে সক্ষম হতে পারে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদি এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে দ্রব্যমূল্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনা কার্যকর হবে কিনা তা এখন দেখার বিষয়।

নাহিদ ইসলাম বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে এবারের বাজেট প্রকৃতপক্ষে উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ এই বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয় হিসেবে তারা বলছে যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা বাস্তবতা বিবর্জিত।

কারণ এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সরকারের পক্ষ, প্রশাসন এবং কর কাঠামোর পক্ষে সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিল গেটসকে যেভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


বিল গেটসকে যেভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন

চলতি বছরে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইল প্রকাশের পর, তার সাথে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্পর্ক সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে গেটসের একটি সাক্ষ্য খুবই গোপনীয়ভাবে নেয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১০ জুন) গেটস হাউস ওভারসাইট কমিটির সদস্যদের কাছে এই তথ্য প্রদান করেন। সেখানেই তিনি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উল্লেখ করেন, যা মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানায়।

গেটস হাউস ওভারসাইট কমিটির শুনানিতে উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘আমি এপস্টেইনকে কখনো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখিনি এবং তার থেকে এর কোনো প্রমাণও পাইনি।’

এছাড়া, লিটল সেন্ট জেমস বা এপস্টাইন দ্বীপে যাওয়ার প্রসঙ্গে গেটস বলেন, ‘আমি কখনো তার দ্বীপ, তার খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার বাড়িতে যাইনি। আমি কখনো কাউকে ভুক্তভোগী বানাইনি। তিনি হয়তো ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আমি তার প্রস্তাবে সাড়া দিইনি।’

তিনি আরও জানান, ‘আমি জানতে পারি, এপস্টিন আমার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সংবেদনশীল তথ্য জানতেন। এর মধ্যে ছিল আমার বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত না থাকার বিষয়টি।’

তবে, গেটস সাফ জানিয়ে দেন যে, এই পরকীয়া ও এপস্টেইনের সঙ্গে তার মেলামেশার কোনও সম্পর্ক ছিল না। সে বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো আমার পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক ছিল।

গেটস তার সাক্ষ্যে অভিযোগ করেন যে, তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এপস্টেইন তার পরকীয়া সম্পর্কে জানার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য যোগ করে যোগাযোগ পুনর্বহাল করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘এপস্টেইন এই চেষ্টায় সফল হননি। আমার আসলে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করা উচিত হয়নি।’

গেটস তার এপস্টেইনের সাথে সম্পর্ককে ‘সীমিত’ হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

গেটসের সাক্ষ্য সম্পর্কে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যানসবারি বলেন, ‘বিল গেটস স্বীকার করেছেন যে, তিনি এপস্টিনের সুনাম বা কুখ্যাতি সম্পর্কে জানতেন। তিনি জানান, এপস্টিন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত, তার মতে, তিনি ধনী দাতাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য একটি গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হিসেবে এই সীমিত সম্পর্কটি বজায় রেখেছিলেন।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরে কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইলগুলো প্রকাশের পর, গেটসের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এরপরই তাই গেটসের এই সাক্ষ্য দেয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন দ্বারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস তৈরি করেছে। মিরপুরে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে স্বাগতিকরা।

এই ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার জন্য অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ নামক ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টটিতে বলা হয়েছে— অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয় করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) রাজধানীর মিরপুরে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টাইগাররা বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে।

এভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এক ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে। এর আগে, একই মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানের জয় পেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরো বেশি আগ্রহী করে তুলবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলোয়াড়দের দলগত ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে আরো বড় সাফল্য অর্জন করবে।

এ অর্জনের জন্য তিনি সকল খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৬ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ ৫ উইকেটের জয় অর্জন করে। একই সাথে, মিরপুরে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৮৬ রানের জয় পেয়েছিল। সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডে আগামী ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে, ভেন্যু আবারও মিরপুর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণবিরোধী বাজেট দাবি করে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


গণবিরোধী বাজেট দাবি করে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

বাজেট উপস্থাপনের পরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম বাজেট হলেও, এই বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট উপস্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশে অংশ নেয় দলটি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে দলীয়কর্মী পালনের বাজেট উপস্থাপন করেছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, সেই বাজেট গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট। এই বাজেটে জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই। পুরনো ব্যবস্থার বাজেটের চিত্র এভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই বাজেট বিশাল ঋণনির্ভর বাজেট। এ বাজেটে ঋণ ও করের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সরকার গণবিরোধী বাজেট উপস্থাপন করেছে।’

দলীয় কর্মীদের লুটপাটের জন্য বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বরাদ্দের তহবিল সরাসরি যাবে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে। যারা বাজেট প্রণয়ন করেছে তারা ধনী শ্রেণির। তারা ধনীবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

তারা গরিবের দুঃখ-কষ্ট বুঝে না। এ জন্য গরিববান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে পারেনি। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। বাজেটের ৭০ শতাংশ চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয় হিসাবে! তাহলে জনগণ বাজেট দিয়ে কী উপকৃত হবে, সেটি সরকার বিবেচনা করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদ মনে করিয়ে দেন, ‘সরকারের উপস্থাপিত বাজেট থেকে ১ লাখ কোটি টাকার কম বাজেট প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী।

কারণ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটে দলীয় কর্মীদের পালন করা হবে না, লুটপাটের সুযোগ থাকবে না, দুর্নীতি হবে না। জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেট সরাসরি জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। তাই সরকারকে বাজেট সংশোধন করে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেট অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনটি লাইনীয় বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘নতুন উপস্থাপিত বাজেটের মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে! যার মধ্যে এনবিআরকে একাই তুলতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের চাপ সামলাতে গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর আগাম কর (Advance Tax), কাস্টমস ডিউটি এবং বিভিন্ন সেবার ওপর পরোক্ষ কর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩.৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ করার প্রস্তাব রয়েছে, তবে পরোক্ষ করের খড়গ সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেবে। এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের ফলে জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধিক দারিদ্র্যতার সম্মুখীন হবে।

তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, উপস্থাপিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। (যা জিপিডির প্রায় ৩.৬%)। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি সরকার ব্যাংক থেকে এত বিপুল পরিমাণ টাকা ধার করে, তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে (Crowding-out effect)। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করা বা শিল্প প্রসারে উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পাবেন না, যা সামগ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা আনতে পারে। সরকারের উপস্থাপিত বাজেটে একদিকে করের বোঝায় জনগণ পিষ্ট হবে, অন্যদিকে ঋণের বোঝায় দেশ কাবু হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল উল্লেখ করেন, ‘বাজেটের আকার বিশাল হলেও বাজেট জনবান্ধবের পরিবর্তে দলীয়বান্ধব বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।

উপস্থাপিত বাজেটে সরকার দলীয় ব্যবসায়ী, দলীয় সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজদের সুবিধা দিয়েছে। সুতরাং এই সরকারকে জনবান্ধব সরকার বলা যায় না। এই সরকার পরিপূর্ণভাবে দলীয়বান্ধব সরকার।’ অতিথিরা জানান, জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন না করতে পারলে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেট অনুসরণ করতে সরকারকে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে, এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জাতির প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিবর্তে সরকার পুরনো ব্যবস্থার গতানুগতিক ধারার বাজেট উপস্থাপন করেছে। সরকারের উপস্থাপিত বাজেট গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট। এই বাজেটে জনগণকে শোষণ করার বাজেট পরিণত হয়েছে। একজন সাধারণ নাগরিক একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক উপস্থাপন করার বিধান যুক্ত করে সরকার জনগণের পকেট কাটার বাজেট উপস্থাপন করেছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ও মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম, মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসেন, শাহীন আহমেদ খান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন সরকারের উপস্থাপিত বাজেট সংশোধন করে জনবান্ধব বাজেট ঘোষণা দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%