রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪০ পি.এম
মন্ত্রিসভা ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে, যা দেশের শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২১তম বৈঠকে অধ্যাদেশটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি ক্রয় কার্যক্রমে অধিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হবে। ক্রয় চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিধান সম্প্রসারণের পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালির আধুনিকায়নও করা হবে।
টেকসই ক্রয় ব্যবস্থার অধিক সংস্থানের লক্ষ্যে পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ে নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়নের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত ‘রেটেড ক্রাইটেরিয়া’ ধারণার সমার্থক এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন নির্ণায়কের ভিত্তিতে ক্রয় প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করা হবে।
এছাড়া, সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ এবং পেশাগত অসদাচরণ সম্পর্কিত বিধান স্পষ্টীকরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হয়েছে।
এসব যুগোপযোগী পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, খসড়া অধ্যাদেশটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিনোদন জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অভিভাবকদেরও আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। অপূর্ব বলেন, "শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে এই সমাজের অস্তিত্বই অর্থহীন।" শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কিশোর অপ্রতিম হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করেন।
অভিনেতা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "একটি শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ তার সবচেয়ে স্বাভাবিক অধিকার।" কিন্তু শিশুদের ওপর বারবার যে নৃশংসতা ঘটছে, তা সমাজ ও বিবেকের চরম পতনের ইঙ্গিত দেয়।
শুক্রবার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকা নাহিদা বেগম তার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়ে ফেসবুকে খুঁজে পাওয়ার আকুতি জানান। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে পুলিশ ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। অপূর্ব এই লোমহর্ষক ঘটনার জন্য হতবাক হয়ে যান।
১৩ বছর বয়সি ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে তিনি স্তব্ধ হয়ে পড়েন। শিশুদের ওপর এমন নৃশংসতা বন্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিনেতা বলেন, "সব শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব চাই।"
অপ্রতিম হত্যার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করলেও সাম্প্রতিক শিশুহত্যার ঘটনার কারণে তিনি একজন বাবা এবং দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে স্তব্ধ হয়ে গেছেন বলেও জানান এ রোমান্টিক অভিনেতা।
অভিভাবকদের আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে অপূর্ব বলেন, "একটু বাড়তি সতর্কতা ও সচেতন নজরদারি হয়তো অনেক বড় বিপদ থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে পারে।"
তিনি বলেন, ঘরের ভেতরে কিংবা বাইরে— কোথাও যেন শিশুদের নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে শিশুহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন অপূর্ব। শিশুদের জন্য দেশকে নিরাপদ করে তোলাকে তিনি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলেও মনে করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায় বিভাগের পৃথককরণ সংক্রান্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দল থাকা অবস্থায় যে সংস্কারের বিরোধিতা করা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে আইএমএফের ঋণের শর্তে সেই একই পদক্ষেপ গ্রহণকে তিনি ‘রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে এনবিআর সংস্কার নিয়ে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং রাজস্ব আদায়ের কাল্পনিক লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লেখেন, ‘‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার নিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ মে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ‘হঠাৎ করেই এনবিআরের ওপর সংস্কার চাপিয়ে দিয়ে রাজস্ব আদায়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে’।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘অন্যদিকে গত ২৩ আগস্ট মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কাজটি আধাআধি করে চলে গেছে’ এবং জানিয়েছেন, ‘এনবিআর দুই ভাগ হবে।’’’
‘এই দুই বক্তব্যের মাঝখানে ১৫ মাস। কী নির্মম পরিহাস! বিএনপির মতে, ২০২৫ সালে এনবিআরের নীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করে দুটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা ছিল অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর অথচ ২০২৬ সালে সেটা হয়ে গেল অর্থনীতির জন্য অনিবার্য। কোনটি সত্য, তা সবার জানা প্রয়োজন।’
হাসনাত লেখেন, ‘এক. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া’ বক্তব্যটি তথ্যগতভাবে সঠিক ছিল না। দীর্ঘ কয়েক মাস অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, একাধিক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি আলাদা বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি হয়। কর্মকর্তাদের আপত্তির পর সেপ্টেম্বরে সেটি আবার সংশোধন করা হয় এবং সংশোধিত অধ্যাদেশে রাজস্ব ক্যাডারের কর্মকর্তাদেরই নতুন দুই বিভাগের শীর্ষ পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়।’
‘এরপর গত ২১ জানুয়ারি কার্যবিধি সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপত্তি শোনা, পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইন সংশোধন করে কোনো সংস্কার শুরু করাকে ‘চাপিয়ে দেওয়া’ বলা যায় না। বরং এটিই একটি যথাযথ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দুই. ‘অচলাবস্থা’ নয়, সত্যটা ছিল উল্টো। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছিল আড়াই শতাংশে। সেটি ছিল আন্দোলন ও কর্মবিরতির বছর—যে আন্দোলনকে আজকের সরকারি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন।’
‘অন্যদিকে সংস্কারকাঠামোর প্রথম পূর্ণ বছর, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ, সংস্কার রাজস্ব আহরণে বাধা সৃষ্টি করেনি। বরং অচলাবস্থা তৈরি করেছিল আন্দোলন। আর সেই আন্দোলনে ইন্ধন কোথা থেকে এসেছিল, তা রেকর্ডেই আছে। আমরা সেই ভিডিও বক্তব্য শুনেছি, দেখেছি।’
তিনি লেখেন, ‘তিন. মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন ‘আধাআধি করে চলে গেছে’। প্রশ্ন হলো, আধাআধি রাখল কে? এনবিআরের নিজস্ব প্রতিবেদনই বলছে, সংসদ কার্যকর হওয়ার পর অধ্যাদেশ দুটিকে আইনে রূপান্তর না করায় সেগুলো বিলুপ্ত বলে গণ্য হয়েছে। আইনে রূপান্তরের এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না, ছিল বর্তমান সংসদের। এরপর গত ২৮ এপ্রিল গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি চারটি বৈঠক করেছে, প্রতিবেদন আজও আসেনি। সুতরাং, সংস্কার অর্ধেক অবস্থায় ছিল না; একে অর্ধেক অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।’
‘প্রশ্ন হলো, বিএনপি কেন অধ্যাদেশ দুটিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে রূপান্তর করেনি?’
তিনি লেখেন, ‘চার. সংস্কার নিজে থেকে করতে না চেয়ে বিদেশিদের চাপে সংস্কার কেন করতে হচ্ছে? উল্লেখ্য, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়কে আলাদা রাখা কোনো পরীক্ষামূলক ধারণা নয়, ওইসিডিভুক্ত (উন্নত দেশের জোট) প্রায় সব দেশেই এবং অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশেই এটি বহু আগেই প্রতিষ্ঠিত রীতি।’
‘যুক্তরাজ্যে নীতি প্রণয়ন করে ট্রেজারি বিভাগ, আদায় করে এইচএমআরসি (হিজ ম্যাজেস্টিজ রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস)। যুক্তরাষ্ট্রে নীতি ট্রেজারির হাতে, আদায় আইআরএসের (ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস)। দক্ষিণ আফ্রিকায় নীতি ন্যাশনাল ট্রেজারির, আদায় সার্সের (সাউথ আফ্রিকান রেভিনিউ সার্ভিস)।’
তিনি আরও লেখেন, ‘বাংলাদেশ সেই গুটিকয় দেশের একটি, যেখানে কর্মকর্তাদের মধ্যে যিনি করহার ও অব্যাহতি নির্ধারণ করেন, তিনিই আদায় করেন এবং তিনিই নিরীক্ষা করেন। এই স্বার্থের সংঘাতই ঘুষ, দর–কষাকষি ও রাজস্ব ‘লিকেজের’ সবচেয়ে বড় উৎস এবং তা টিকিয়ে রাখার আগ্রহ কোথা থেকে আসে, তা জাতীয় সংসদ ও বাংলাদেশের মানুষের জানার অধিকার আছে।’
‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই বিভাজনের বিরোধিতা করা হয়েছে, সরকারে এসে একে বাতিল করা হয়েছে, আর এখন আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) শর্ত ও ঋণের কিস্তি আটকে যাওয়ার পর মাননীয় অর্থমন্ত্রীই বলছেন, ‘এনবিআর দুই ভাগ হবে’।’
ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘প্রশ্নটি সহজ, নীতি ও রাজস্ব আদায় আলাদা করা ভালো না মন্দ? যদি ভালো হয়, বিরোধিতা কেন? যদি মন্দ হয়, বিদেশি ঋণদাতার শর্তে মেনে নেওয়া কেন? যে সংস্কার নিজেদের রাজনৈতিক প্রত্যয় থেকে আসে না, ঋণের কিস্তির প্রয়োজনে আসে, সেটি সংস্কার নয়; সেটি বাধ্যবাধকতা। আর নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায় একই হাতে রাখার আগ্রহ কার স্বার্থে, তা সবার জানার অধিকার আছে।’
‘এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) ৬ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের প্রকৃত আদায়ের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি। অথচ কেবল আয়কর বিভাগেই ১২ হাজার ৭৬৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৫২টি শূন্য, যা মোট পদের প্রায় ৩৬ শতাংশ। ই-টিআইএন, ই-রিটার্ন, ই-টিডিএস, ভ্যাট অনলাইন ও অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড চালু থাকলেও পরস্পর সংযুক্ত নয়। একজন করদাতার সম্পূর্ণ চিত্র এক জায়গায় দেখার ব্যবস্থাই নেই।’
এনসিপির এই নেতা লেখেন, ‘কর-জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। শুল্ক খাতেই ২৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া এবং গত অর্থবছরেও ৭৭ হাজার কোটি টাকার অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ খাতটিতে হাত দেওয়া হচ্ছে না।’
‘পাঁচ. সরকারের কাছে আমার তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন।’
‘১. মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে বলেছেন ‘এনবিআর দুই ভাগ হবে’, সে আইন কোন তারিখে সংসদে উত্থাপিত হবে? ২. রাজস্ব আদায়ে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কোন প্রশাসনিক সক্ষমতা-পরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে এবং জনবল ও ন্যাশনাল ইন্টার-অপারেবিলিটি দিয়ে সিস্টেম-সংযুক্তির সময়াবদ্ধ পথনকশা বা রোডম্যাপ সংসদে উপস্থাপন কবে হবে? ৩. গত ২৮ এপ্রিল গঠিত কমিটির প্রতিবেদন কবে প্রকাশিত হবে এবং তা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করা হবে কি না? জনগণ জানতে চায়, এই সরকার সংস্কার করছে সৎ রাজনৈতিক প্রত্যয় থেকে, নাকি কেবল ঋণের কিস্তির প্রয়োজনে, বিদেশিদের চাপে?’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসক উইমেন্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬।
জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে জেলার ১৪টি নারী দল।
গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে শত শত দর্শকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে বেলুন উড়িয়ে জমকালোভাবে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব একেএম মাহবুবুল আলম মাহাবুব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, এবং ময়মনসিংহ জেলা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, "স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যেকটি উপজেলার ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করলে ময়মনসিংহ সারা বাংলাদেশের মধ্যে পড়াশোনা ও খেলাধুলায় প্রথম পর্যায়েই থাকবে। তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নারী ফুটবলারদেরও প্রতিভা বিকাশে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন বাড়াতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, "খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "নারী ফুটবলারদের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে ময়মনসিংহ থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে। নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অনলাইন থেকে দূরে রাখতে আমাদের এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।"
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ও ভালুকা উপজেলা উইমেন্স দলের খেলার মাধ্যমে এ টুর্নামেন্টের পর্দা উঠলো।
এতে ভালুকা উপজেলা দল ২-০ গোলে ময়মনসিংহ সদরকে পরাজিত করেছে। একই দিনে অপর ম্যাচে মুক্তাগাছা ও গফরগাঁও উপজেলা নারী দল অংশগ্রহণ করে। আগামী ১ অক্টোবর বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুসলিম সাপোর্টার্স ক্লাব (এমইউএমএসসি) ক্লাবের মালিক স্যার জিম র্যাটক্লিফকে পদত্যাগের জন্য আহ্বান জানিয়েছে, যা অভিবাসন সম্পর্কিত তার ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের কারণে হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে র্যাটক্লিফ মন্তব্য করেছিলেন যে যুক্তরাজ্য "অভিবাসীদের দ্বারা উপনিবেশিত হয়েছে"। যদিও তিনি পরে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তবে এই সপ্তাহে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে তিনি একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, অভিবাসনের কারণে দেশ "পতনের পথে" রয়েছে এবং সমস্যার মোকাবিলায় কেউ যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
র্যাটক্লিফের বক্তব্য ছিল, "আমাদের বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য ছিল। আমরা মহান মানুষ ছিলাম। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধ জিতেছি। আমরা সৎ মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখন যুক্তরাজ্য পতনের পথে।
অভিবাসন সমস্যা মোকাবিলায় কেউ যথেষ্ট কঠোর নয়। সুবিধাভোগীদের সমস্যা মোকাবিলায়ও কেউ যথেষ্ট কঠোর নয়। কিন্তু কাউকে এটা করতে হবে।"
মুসলিম সাপোর্টার্স ক্লাব (এমইউএমএসসি) তার এই মন্তব্যকে "গভীরভাবে হতাশাজনক" বলে অভিহিত করেছে। তারা জানায়, "আমাদের খেলোয়াড়, কর্মী, নিরাপত্তা দল ও সমর্থকরা বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও পটভূমি থেকে আসেন। এই বৈচিত্র্যই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শক্তি। ক্লাব বিনিয়োগ তহবিল বা ধনী মালিকদের নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমর্থকদের আবেগের। আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ভালোবাসি। এটাই আমাদের সবকিছু। তাই আমরা নীরব থাকতে পারি না।
এটি শুধু একটি পরাজয় বা একটি মৌসুমের ব্যাপার নয়। এটি ক্লাবের নেতৃত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্ন। বহু বছরের পতন, ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি ও ব্যর্থতার পর আমরা বর্তমান মালিকানার ওপর আস্থা হারিয়েছি। যথেষ্ট হয়েছে। পরিবর্তনের সময় এসেছে। গ্লেজার পরিবার ও স্যার জিম র্যাটক্লিফকে যেতে হবে।"
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মৌসুমের শুরুতেই সমস্যায় পড়েছে। তারা প্রিমিয়ার লিগে দুটি ম্যাচ হেরেছে এবং কারাবাও কাপ থেকেও ব্রাইটনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে।
গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের আগে ইউনাইটেডের মালিকানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল সমর্থকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ