সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ পি.এম
সুনামগঞ্জের ভাটি বাংলার মাটি যুগে যুগে জন্ম দিয়েছে অসংখ্য মরমী সাধক, বাউল, কবি ও গীতিকবির। তাঁদেরই অন্যতম উজ্জ্বল নাম বাউলসাধক দুর্বিন শাহ। মরমী গীতিকবি, বাউলসাধক ও লোকসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্যকার হিসেবে তিনি সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। লোকসংস্কৃতি গবেষণায় তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
দুর্বিন শাহ জন্মগ্রহণ করেন ২ নভেম্বর ১৯২০ সালে, তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাতক থানার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায়। পরবর্তীকালে এই টিলা তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে ‘দুর্বিন টিলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তাঁর পিতা সাফাত আলী শাহ ছিলেন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন পিরানী। ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি আধ্যাত্মিকতা, সাধনা ও সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।
দুর্বিন শাহের গানে ফুটে উঠেছে ভাটি বাংলার মানুষের জীবন, আধ্যাত্মিকতা, প্রেম, বিরহ, মানবতাবোধ ও আত্মতত্ত্ব। তাঁর রচনায় সুফিবাদ ও মরমিয়া দর্শনের পাশাপাশি দেহতত্ত্ব, ভক্তিগীতি, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক গান, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, হামদ-নাতসহ নানা ধারার প্রকাশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুর, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার জাজিরা উপজেলায় আজ মা ইলিশ রক্ষায় মতবিনিময় ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাঝিরঘাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগে এ জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।
মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কংকন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।
সভায় জানানো হয়, আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলবে। এ সময় পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মাছ সংগ্রহ, মজুত, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাতকরণেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আড়ত ও বরফকলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়।
এ সময় নৌ পুলিশ জেলে, মৎস্য আড়তদার, পাইকার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। নিষিদ্ধ সময়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরা, ইলিশ সংরক্ষণ, বিক্রি ও বাজারজাতকরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ বা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় নৌ পুলিশ। একই সঙ্গে জেলেদের মাছ ধরতে সহযোগিতা না করতে আড়তদার, পাইকার ও স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় মৎস্য আড়তদার, পাইকার, জেলে, মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ৩০০ থেকে ৩৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সভার আগে সকালে নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে সামনে রেখে নদীপথে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
মা ইলিশের প্রজনন ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে নৌ পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা চলতে থাকে অভিনেত্রী তানজিন তিশার। সম্প্রতি তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে এসে সরাসরি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, নিজের দেশে সোনার গহনা পরে চলাফেরা করাও নিরাপদ মনে করেন না। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তানজিন তিশা মনে করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তার ঘাটতি বিদ্যমান। নানা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা এমন সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের প্রাপ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিনেত্রী বলেন, “সত্যি বলতে বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।”
নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনো পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরো বাড়ানো দরকার।”
সোনার গহনা পরে চলাফেরার প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে তিশা বলেন, গহনা সঙ্গে নিয়ে ঘোরার চেয়ে তা পরে চলাফেরা করাই বা কেন নয়? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোনার গয়না ব্যাগে রেখে ঘোরার প্রয়োজন নেই, বরং সেটি পরেই ঘোরা যায়।
এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তানজিন তিশা অভিনীত ‘সোলজার’ সিনেমা। এতে তিনি শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাঠের মধ্যে লিওনেল মেসি অনেকবার অ্যাসিস্ট করেছেন। কিন্তু এবার তিনি সবুজ গালিচার বাইরে এসে মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন। আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক শিশুদের জন্য ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তার ‘মেসি ফাউন্ডেশন’ থেকে।
এই হাসপাতালটি বার্সেলোনা শহরে নির্মিত হবে, যা মেসির ‘দ্বিতীয় ঘর’ হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পরও, স্পেনের এই শহরের প্রতি তার আত্মিক টান স্পষ্ট। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য বার্সেলোনায় হাসপাতাল নির্মাণের জন্য দেওয়া এই অনুদান আবারও প্রমাণ করে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতোর’ এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যান্সার হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য মেসি ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকারও (২.৬ মিলিয়ন ইউরো) বেশি অনুদান দিয়েছেন।
ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘গোল’ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, এই হাসপাতালে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ জন শিশু ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুরা যেন এক ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ও সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মেসি অনুদান ও অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলার বিভিন্ন উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি এই সহায়তা ‘মেসি ফাউন্ডেশনের’ মাধ্যমে প্রদান করে আসছেন। ফাউন্ডেশনটি এর আগে শিশুদের লিউকেমিয়া গবেষণায় সহায়তা, মেসির জন্মস্থান আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম দান এবং মোজাম্বিকে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ কর্মসূচিতে সাহায্য করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধায় ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করার ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুর বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের বাসিন্দা ও শিশুর বাবা মো. হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোছা. মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের মোছা. জেসমিন আক্তার (২৮)।
পুলিশ সুপার জানান, মাদকাসক্ত হামিদুল ইসলাম স্ত্রীর কাছে মাদকের জন্য টাকা না পেয়ে গত ১৭ জুলাই বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। এরপর আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
পরে সন্তানকে ফিরে পেতে শিশুর মা মোছা. রোমানা খাতুন (২২) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২৭ আগস্ট শিশুর বাবার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়।
তিনি আরো জানান, আদালতের নির্দেশের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার মোড় থেকে প্রথমে হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া থেকে মোর্শেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মায়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে শিশুর মা মোছা. রোমানা খাতুন কালের কন্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন সন্তানের জন্য পাগলের মতো ছুটেছি। কারো বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। শুধু অপরাধী আমার স্বামী। আমার কাছে মাদকের টাকা না পেয়ে কৌশলে জান্নাতকে নিয়ে উধাও হয় এবং পরে তাকে বিক্রি করে দেয়। আমি তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ