মোঃ ওসমান গনি, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৬ পি.এম
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানাধীন বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার তীর্থোৎসব-২০২৬’। জেলা পুলিশের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত খ্রিষ্টভক্তরা নির্বিঘ্নে তাঁদের প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
তীর্থোৎসব উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান ও বারোমারী মিশনের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং পুরো উৎসব প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন শেরপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মহোদয় তীর্থোৎসব পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত খ্রিষ্টভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। পাশাপাশি তিনি সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং তীর্থযাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের সবুজ কোলে, পর্তুগালের ঐতিহাসিক 'ফাতেমা নগর'-এর আদলে ১৯৯৭ সালে গড়ে ওঠে এই বারোমারী খ্রিস্টান ধর্মপল্লী। প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ভক্তি আর প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রকৃতির কোলে ডানা মেলা শান্ত এই পাহাড়ি জনপদ।
এ সময় শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ২ এপিবিএন জনাব মান্না দে, সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) জনাব আফসান আল-আলম, নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, রেভারেন্ট ফাদার তরুণ বনোয়ারি, তীর্থোৎসব পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশের পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তীর্থোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজনে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা পুলিশ সর্বদা দায়িত্বশীল ও আন্তরিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ফেদে রদাস একটি উল্লেখযোগ্য দাবি উত্থাপন করেছেন। তার মতে, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পূর্বে মেসির এক সতীর্থ দলের গোপন তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। সেই খেলোয়াড় শুরুর একাদশে স্থান পাননি, ফলে তিনি কোচ লিওনেল স্কালোনির একাদশের তথ্য জানিয়ে দেন।
রদাস আরও উল্লেখ করেছেন, ওই খেলোয়াড় একটি অতিরিক্ত তথ্যও দিয়েছিলেন। ফাইনালের প্রস্তুতির সময় অনুশীলনে একজন আহত খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি ঘটনা ঘটে, সেই খবরও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে সাংবাদিক ওই খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি শুধুমাত্র বলেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ মানের খেলোয়াড়। দলের অন্য সদস্যদের চেয়ে তার অবস্থান নিচে থাকতে তিনি রাজি ছিলেন না।
রদাস বলেন, ‘আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন, কারণ তিনি যতটা খেলার সুযোগ পেতে চেয়েছিলেন, তা পাচ্ছিলেন না।
‘ওই খেলোয়াড় আমাকে বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরুর একাদশ জানিয়ে দিয়েছিলেন। অনুশীলনে এক আহত খেলোয়াড়কে নিয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার খবরও তিনি আমাকে দিয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন একজন দারুণ খেলোয়াড়। কিন্তু তার চেয়ে ভালো কিছু খেলোয়াড় ছিল। এটি তিনি মেনে নিতে পারেননি। তার মনোভাব ছিল মোটামুটি এমন: ‘ও, আমাকে খেলাবে না? তাহলে আমি তোমার লাইনআপ ফাঁস করে দেব।’
ফাইনালে স্কালোনি মাত্র একটি পরিবর্তন করেছিলেন। লুসাইলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে আনহেল দি মারিয়া মাঠে নামেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জয়ের দলের সঙ্গে এটি ছিল একমাত্র পার্থক্য।
ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করেন এবং দি মারিয়াও একটি গোল করেন। পরে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি গোল করে ম্যাচ ২-২ করে দেন। অতিরিক্ত সময়ে মেসি আবার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু এমবাপে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান। সেখানে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে আর্জেন্টিনা ৪-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
ওই বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। তিনি সাত ম্যাচে সাত গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেন। তিনি গোল্ডেন বল জিতেন। ছয়টি ম্যাচে তিনি গোল করেছেন এবং ফাইনালে দুটি গোল করেন। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারেও তিনি গোল করেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়।
মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পরাজিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও পানির সংকটে অতিষ্ঠ কৃষকসহ সাধারণ মানুষের স্বস্তি কামনায় মহান আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি চেয়ে রায় বাঙালি জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জুমার নামাজ আদায়ের পর মসজিদের মুসল্লিরা সম্মিলিতভাবে মহান আল্লাহর দরবারে রহমত, বরকত ও পর্যাপ্ত বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন।
এ সময় মোনাজাতে এলাকার কৃষকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত পানি, ফসলের সুরক্ষা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসার জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের সুস্থতা কামনা করা হয়।
দোয়া শেষে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে পঞ্চায়েতি সিন্নি বিতরণ করা হয়। মুসল্লি ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে সিন্নি বিতরণের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহর রহমতের আশায় এলাকার মানুষের সম্মিলিত এই দোয়া ও সিন্নি বিতরণ ছিল একটি ধর্মীয় উদ্যোগ। সবাই মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় হামেদ মির্জায়ি তাঁর পরিবারের ১২ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মুহাদ্দেসাও ছিলেন। তরুণ এই দম্পতি একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছিলেন, সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
২০২৬ সালের ৯ মার্চের সেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা কীভাবে তাঁর পুরো জীবন এলোমেলো করে দিল, আল জাজিরার কাছে তুলে ধরা তাঁর হৃদয়বিদারক অনুভূতির কথা তুলে ধরা হলো:
“বোমা হামলার পর সাতটি মাস কেটে গেছে। কিন্তু আজও, সচেতন হওয়ার মুহূর্তে অনেক দিন আমি নিজেকে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির সামনেই আবিষ্কার করি—যন্ত্রণা নিয়ে এখনও খুঁজে ফিরি আমার প্রিয়জনদের।
যে বাড়িটিতে হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি বানিয়েছিলেন আমার দাদা ও বাবার চাচা। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের জন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাগ করে দিয়েছিলেন। বছরখানেক আগে যখন আমার বিয়ে হয়, আমি ও আমার স্ত্রী সেই একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে উঠেছিলাম। আমরা কেবলই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমরা তরুণ ছিলাম, সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল। আর ঠিক তখনই নেমে এলো ওই ধ্বংসযজ্ঞ।
মার্চ মাসের ৯ তারিখ ছিল সোমবার। দুপুর ১টার দিকে আমি কাজের উদ্দেশ্যে বের হই। দুপুর আড়াইটার দিকে আমার স্ত্রী আমাকে মেসেজ করে বলে, ফেরার পথে যেন তার জন্য মাথাব্যথার কিছু ওষুধ নিয়ে আসি। সে ঠিক কোন ওষুধটি চায় তা জানতে আমি তাকে ফোন করি, কিন্তু তার নম্বর ব্যস্ত পাচ্ছিলাম। সেদিন আমাদের বাড়িতে মেহমান আসার কথা ছিল, তাই আমি মেহমানের নম্বরে ফোন করি। সেই নম্বরটিও ব্যস্ত পাই। ফোন রেখে আমি ভাবলাম, একটু পর স্ত্রীকে আবারও চেষ্টা করব।
বাড়ি পৌঁছাতে আর মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি, ঠিক তখনই হঠাৎ এক বিকট বাঁশির মতো শব্দ শুনতে পাই। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক তখনই আঘাত হানে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমার পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে। তখনও হাতের মুঠোয় ফোন নিয়ে স্ত্রীকে বারবার কল করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তার ফোন ছিল নেটওয়ার্কের বাইরে। একে একে পরিবারের সবাইকে—আমার দাদা, বাবা, মা—ফোন দেওয়া শুরু করি। কারও ফোনই কাজ করছিল না।
এত কিছুর পরও আমি ভেবেছিলাম আমার বাড়িতে হয়তো আঘাত লাগেনি। মনে মনে নিজেকে বলছিলাম, কোনোভাবেই তাদের আমার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করার কথা নয়। হয়তো আমাদের মহল্লার অন্য কোথাও ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। সেই মুহূর্তে আমার একমাত্র আকুতি ছিল কোনোমতে বাড়ি পৌঁছে দেখা যে, সেটা এখনও অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে আমাদের বাড়টিতে। সেখানে পৌঁছে দেখি আশেপাশের সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, কিন্তু আমার পা সরছিল না। আমার ঘর যে মাটির সাথে মিশে গেছে, তা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এটাই। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, সেই সুবিশাল ভবনের কেবল কঙ্কালটুকুই অবশিষ্ট আছে।
আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, চারপাশ তখন আগুনে জ্বলছে। আমার মাথায় তখন একটিই চিন্তা—যেকোনোভাবে দ্বিতীয় তলায় উঠে আমার স্ত্রীকে খুঁজে বের করা। কিন্তু দোতলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি ছিল না। প্রথম তলার বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধারে সাহায্য করছিলেন।
আমি ভেবেছিলাম অনুসন্ধান চালুর পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কোথাও হয়তো আমার পরিবারের মানুষদের জীবন্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু তাঁরা পাননি। সেই মুহূর্তে কাউকেই পাওয়া যায়নি, এমনকি তার পরবর্তী ঘণ্টাগুলোতেও না। রাত নেমে এলেও ভবনটি থেকে আর কাউকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের বারোটি মানুষ মুহূর্তেই নিখোঁজ হয়ে গেল, অথচ আমি সেই স্থান ছেড়ে এক পা-ও নড়তে পারছিলাম না।
সেই রাত, তার পরের দিন, তার পরের দিন এবং তারও পর থেকে প্রতিটা দিন—আমি বারবার ফিরে গিয়েছি আমার সেই ধ্বংসস্তূপে। টানা ২০ দিন ধরে আমি সেই ধ্বংসস্তূপ, ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ আর বিস্ফোরণের ছাই সরিয়ে আমার প্রিয়জনদের খুঁজেছি। কিন্তু সেখানে কিচ্ছু অবশিষ্ট ছিল না।
আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার শ্যালিকা—যে অতিথি হয়ে এসেছিল—সেও মারা গেছে। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদী, আমার ফুফা ও ফুফাতো বোন, আমার চাচা, আমার বাবার চাচাতো ভাই, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তান—সবাই এক হামলায় শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবারের ১২ জন মানুষকে এই হামলায় হত্যা করা হয়েছে, আর মানুষ এখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কেমন আছি?’
আমার খুব মনে পড়ে ওদের কথা। প্রতিটি দিন যাওয়ার সাথে সাথে সেই হাহাকার আরও বাড়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো সময় গড়ালে শোক কিছুটা থিতিয়ে আসবে, মনে হয়তো কিছুটা শান্তি পাব। কিন্তু তা হয়নি। দিন যত যাচ্ছে, আমার নিজেকে তত বেশি নিঃস্ব ও অসুস্থ মনে হয়।
আমি মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলাম। সব সময় ভাবতাম, নিজের ভাইবোন না থাকলেও আমার এক বিশাল পরিবার আছে যাদের সাথে আমি হেসেখেলে বৃদ্ধ হব। আজীবন আমাদের পুরো বড় পরিবারটি পাশাপাশি এক ছাদের নিচে বাস করেছে। অথচ আজ সেই মানুষগুলো, পরিবারের মধ্যে বইতে থাকা সব ভালোবাসা—সবকিছু এক নিমিষে বিলীন হয়ে গেল।
পুরো পরিবারে একমাত্র আমিই বেঁচে আছি। আমার পরিবারের আর কেউ নেই। আমি এখন সম্পূর্ণ একা।
যুদ্ধ যে কখনোই কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না—এর জন্য যে কেউ এখনও প্রমাণ চাইলে আমি নিজেই তার জ্যান্ত উদাহরণ। যে কেউ যদি মনে করে যুদ্ধ একটি ভালো বিষয়, তবে তাদের উচিত আমার দিকে তাকানো এবং নিজেকে প্রশ্ন করা: ‘এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কোথায় ভালো কিছু লুকিয়ে আছে?’
যে ভবনে আমার জন্ম, যে ভবনে আমার বাবার জন্ম, যে ভবনে আমি আশা করেছিলাম আমার সন্তানের জন্ম হবে—একটি সেকেন্ডের ভগ্নাংশে তার সবটুকু ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হলো। আমার ঘর আর আমার পরিবারকে এক সাথে মুছে ফেলা হলো। আর যখন আমি তাদের ভীষণ মিস করি, আমি সত্যিই জানি না আমি কার দিকে তাকাব বা কোথায় সান্ত্বনা খুঁজব।
তারা আমাদের বাড়িটি ধ্বংস করার পর সাতটি মাস কেটে গেছে। আজও প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আমি এই ধ্বংসস্তূপের দিকে এসে দাঁড়িয়ে থাকি। কোনোভাবেই জায়গাটা ছেড়ে দূরে যেতে পারি না। মনে হয় আমার পুরো জীবনটাই এখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, আর প্রতিদিন আমি ফিরে আসি—যদি আমার জীবনের হারিয়ে যাওয়া কোনো অংশ কুড়িয়ে পাই! কিন্তু এখানে আসলে আর কিছুই বাকি নেই।
কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কী ভাবছি বা কেমন বোধ করছি, আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। জীবনে যা কিছু করেছি, সব করেছি পরিবারের হাসিমুখ দেখার জন্য। এখন আমার আর এমন কোনো পরিবারই নেই যাদের জন্য আমি কিছু একটা করতে পারি।
প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করি: ‘আমি কেন এখনও বেঁচে আছি?’ আমার কাছে এর কোনো জবাব নেই।
আমার নিহত পরিবারের সাথে আমার একটাই পার্থক্য—তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে মাটিচাপা পড়ে আছে, আর আমি মৃতদেহের মতো বাইরে হেঁটে বেড়াচ্ছি। এ ছাড়া তাদের সাথে আমার আর কোনো তফাত নেই। পার্থক্য কেবল একটাই, নিহতদের তালিকায় আমার নামটা এখনও ওঠেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে নবনির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে ফিতা কেটে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুলাউড়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।
নবনির্মিত এ মডেল মসজিদটি তিনতলাবিশিষ্ট। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী এর আয়তন ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার। এখানে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদ নির্মাণে প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদে ধর্মীয় ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এটি স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কুলাউড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ মডেল মসজিদ চালু হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ