শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫০ পি.এম
তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় হামেদ মির্জায়ি তাঁর পরিবারের ১২ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মুহাদ্দেসাও ছিলেন। তরুণ এই দম্পতি একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছিলেন, সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
২০২৬ সালের ৯ মার্চের সেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা কীভাবে তাঁর পুরো জীবন এলোমেলো করে দিল, আল জাজিরার কাছে তুলে ধরা তাঁর হৃদয়বিদারক অনুভূতির কথা তুলে ধরা হলো:
“বোমা হামলার পর সাতটি মাস কেটে গেছে। কিন্তু আজও, সচেতন হওয়ার মুহূর্তে অনেক দিন আমি নিজেকে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির সামনেই আবিষ্কার করি—যন্ত্রণা নিয়ে এখনও খুঁজে ফিরি আমার প্রিয়জনদের।
যে বাড়িটিতে হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি বানিয়েছিলেন আমার দাদা ও বাবার চাচা। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের জন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাগ করে দিয়েছিলেন। বছরখানেক আগে যখন আমার বিয়ে হয়, আমি ও আমার স্ত্রী সেই একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে উঠেছিলাম। আমরা কেবলই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমরা তরুণ ছিলাম, সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল। আর ঠিক তখনই নেমে এলো ওই ধ্বংসযজ্ঞ।
মার্চ মাসের ৯ তারিখ ছিল সোমবার। দুপুর ১টার দিকে আমি কাজের উদ্দেশ্যে বের হই। দুপুর আড়াইটার দিকে আমার স্ত্রী আমাকে মেসেজ করে বলে, ফেরার পথে যেন তার জন্য মাথাব্যথার কিছু ওষুধ নিয়ে আসি। সে ঠিক কোন ওষুধটি চায় তা জানতে আমি তাকে ফোন করি, কিন্তু তার নম্বর ব্যস্ত পাচ্ছিলাম। সেদিন আমাদের বাড়িতে মেহমান আসার কথা ছিল, তাই আমি মেহমানের নম্বরে ফোন করি। সেই নম্বরটিও ব্যস্ত পাই। ফোন রেখে আমি ভাবলাম, একটু পর স্ত্রীকে আবারও চেষ্টা করব।
বাড়ি পৌঁছাতে আর মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি, ঠিক তখনই হঠাৎ এক বিকট বাঁশির মতো শব্দ শুনতে পাই। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক তখনই আঘাত হানে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমার পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে। তখনও হাতের মুঠোয় ফোন নিয়ে স্ত্রীকে বারবার কল করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তার ফোন ছিল নেটওয়ার্কের বাইরে। একে একে পরিবারের সবাইকে—আমার দাদা, বাবা, মা—ফোন দেওয়া শুরু করি। কারও ফোনই কাজ করছিল না।
এত কিছুর পরও আমি ভেবেছিলাম আমার বাড়িতে হয়তো আঘাত লাগেনি। মনে মনে নিজেকে বলছিলাম, কোনোভাবেই তাদের আমার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করার কথা নয়। হয়তো আমাদের মহল্লার অন্য কোথাও ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। সেই মুহূর্তে আমার একমাত্র আকুতি ছিল কোনোমতে বাড়ি পৌঁছে দেখা যে, সেটা এখনও অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে আমাদের বাড়টিতে। সেখানে পৌঁছে দেখি আশেপাশের সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, কিন্তু আমার পা সরছিল না। আমার ঘর যে মাটির সাথে মিশে গেছে, তা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এটাই। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, সেই সুবিশাল ভবনের কেবল কঙ্কালটুকুই অবশিষ্ট আছে।
আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, চারপাশ তখন আগুনে জ্বলছে। আমার মাথায় তখন একটিই চিন্তা—যেকোনোভাবে দ্বিতীয় তলায় উঠে আমার স্ত্রীকে খুঁজে বের করা। কিন্তু দোতলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি ছিল না। প্রথম তলার বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধারে সাহায্য করছিলেন।
আমি ভেবেছিলাম অনুসন্ধান চালুর পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কোথাও হয়তো আমার পরিবারের মানুষদের জীবন্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু তাঁরা পাননি। সেই মুহূর্তে কাউকেই পাওয়া যায়নি, এমনকি তার পরবর্তী ঘণ্টাগুলোতেও না। রাত নেমে এলেও ভবনটি থেকে আর কাউকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের বারোটি মানুষ মুহূর্তেই নিখোঁজ হয়ে গেল, অথচ আমি সেই স্থান ছেড়ে এক পা-ও নড়তে পারছিলাম না।
সেই রাত, তার পরের দিন, তার পরের দিন এবং তারও পর থেকে প্রতিটা দিন—আমি বারবার ফিরে গিয়েছি আমার সেই ধ্বংসস্তূপে। টানা ২০ দিন ধরে আমি সেই ধ্বংসস্তূপ, ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ আর বিস্ফোরণের ছাই সরিয়ে আমার প্রিয়জনদের খুঁজেছি। কিন্তু সেখানে কিচ্ছু অবশিষ্ট ছিল না।
আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার শ্যালিকা—যে অতিথি হয়ে এসেছিল—সেও মারা গেছে। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদী, আমার ফুফা ও ফুফাতো বোন, আমার চাচা, আমার বাবার চাচাতো ভাই, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তান—সবাই এক হামলায় শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবারের ১২ জন মানুষকে এই হামলায় হত্যা করা হয়েছে, আর মানুষ এখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কেমন আছি?’
আমার খুব মনে পড়ে ওদের কথা। প্রতিটি দিন যাওয়ার সাথে সাথে সেই হাহাকার আরও বাড়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো সময় গড়ালে শোক কিছুটা থিতিয়ে আসবে, মনে হয়তো কিছুটা শান্তি পাব। কিন্তু তা হয়নি। দিন যত যাচ্ছে, আমার নিজেকে তত বেশি নিঃস্ব ও অসুস্থ মনে হয়।
আমি মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলাম। সব সময় ভাবতাম, নিজের ভাইবোন না থাকলেও আমার এক বিশাল পরিবার আছে যাদের সাথে আমি হেসেখেলে বৃদ্ধ হব। আজীবন আমাদের পুরো বড় পরিবারটি পাশাপাশি এক ছাদের নিচে বাস করেছে। অথচ আজ সেই মানুষগুলো, পরিবারের মধ্যে বইতে থাকা সব ভালোবাসা—সবকিছু এক নিমিষে বিলীন হয়ে গেল।
পুরো পরিবারে একমাত্র আমিই বেঁচে আছি। আমার পরিবারের আর কেউ নেই। আমি এখন সম্পূর্ণ একা।
যুদ্ধ যে কখনোই কোনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না—এর জন্য যে কেউ এখনও প্রমাণ চাইলে আমি নিজেই তার জ্যান্ত উদাহরণ। যে কেউ যদি মনে করে যুদ্ধ একটি ভালো বিষয়, তবে তাদের উচিত আমার দিকে তাকানো এবং নিজেকে প্রশ্ন করা: ‘এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কোথায় ভালো কিছু লুকিয়ে আছে?’
যে ভবনে আমার জন্ম, যে ভবনে আমার বাবার জন্ম, যে ভবনে আমি আশা করেছিলাম আমার সন্তানের জন্ম হবে—একটি সেকেন্ডের ভগ্নাংশে তার সবটুকু ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হলো। আমার ঘর আর আমার পরিবারকে এক সাথে মুছে ফেলা হলো। আর যখন আমি তাদের ভীষণ মিস করি, আমি সত্যিই জানি না আমি কার দিকে তাকাব বা কোথায় সান্ত্বনা খুঁজব।
তারা আমাদের বাড়িটি ধ্বংস করার পর সাতটি মাস কেটে গেছে। আজও প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আমি এই ধ্বংসস্তূপের দিকে এসে দাঁড়িয়ে থাকি। কোনোভাবেই জায়গাটা ছেড়ে দূরে যেতে পারি না। মনে হয় আমার পুরো জীবনটাই এখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে, আর প্রতিদিন আমি ফিরে আসি—যদি আমার জীবনের হারিয়ে যাওয়া কোনো অংশ কুড়িয়ে পাই! কিন্তু এখানে আসলে আর কিছুই বাকি নেই।
কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কী ভাবছি বা কেমন বোধ করছি, আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। জীবনে যা কিছু করেছি, সব করেছি পরিবারের হাসিমুখ দেখার জন্য। এখন আমার আর এমন কোনো পরিবারই নেই যাদের জন্য আমি কিছু একটা করতে পারি।
প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করি: ‘আমি কেন এখনও বেঁচে আছি?’ আমার কাছে এর কোনো জবাব নেই।
আমার নিহত পরিবারের সাথে আমার একটাই পার্থক্য—তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে মাটিচাপা পড়ে আছে, আর আমি মৃতদেহের মতো বাইরে হেঁটে বেড়াচ্ছি। এ ছাড়া তাদের সাথে আমার আর কোনো তফাত নেই। পার্থক্য কেবল একটাই, নিহতদের তালিকায় আমার নামটা এখনও ওঠেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে নবনির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে ফিতা কেটে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ মডেল মসজিদের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুলাউড়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।
নবনির্মিত এ মডেল মসজিদটি তিনতলাবিশিষ্ট। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী এর আয়তন ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার। এখানে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদ নির্মাণে প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদে ধর্মীয় ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এটি স্থানীয় মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কুলাউড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ মডেল মসজিদ চালু হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাজারে হাটের দিনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ বাজারের এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাতের ওপর মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এতে পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন। ফলে কাউখালী বন্দরের এমনিতেই সংকীর্ণ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী যেন ফুটপাত দখল করে মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা না করেন। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর বড় ব্রিজের ওপর সুনামগঞ্জ- বিশ্বম্ভরপুর সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার (এসআই) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এএসআই খাদেম, এএসআই ইসমাইল হোসেন ও কনস্টেবল কওসার আহমেদসহ ডিবি পুলিশের একটি দল সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক গ্রামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মো. জালাল মিয়া (৪৫) ও একই গ্রামের সুবুরের ছেলে শাহজাহান মিয়া (৩৫)। অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে দুটি নীল রঙের জিপার ব্যাগে রাখা ৪৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান জানান, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা প্রতিরোধে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূ বলে তিনি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিচার চাইতে থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন অগ্রগতি হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ভুক্তভোগীকে বাড়ী থেকে থানায় নিয়ে যান এবং তাঁর অভিযোগে মামলা গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাঁকে শুক্রবার বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, বিয়ের মাত্র ১৬–১৭ দিনের মাথায় গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার চাইতে গিয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়া এবং উল্টো সাত বছরের কারাদণ্ডের ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন ওই নববধূ। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশি পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার তার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে বাজারে নিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদা (৩৮) ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে সেখানকার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে করে মামলা করতে বাকেরগঞ্জ থানায় যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় ওসি আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে বলা হয়, ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই এবং গোসল করার কারণে আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকেই সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়।
এছাড়াও ওসি তাকে "শালির অর্ধেক ভাগ পায়" বলেও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আদিল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা পরে জানাবেন বলে চলে যান।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণ না করা এবং ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানোর অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
অপরদিকে গণধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পরে ওসি নিজের গদি রক্ষায় তার কয়েকজন অনুগত সাংবাদিকদের দিয়ে পক্ষে রিপোর্ট করানোর জন্য দেনদরবার করছেন।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার সুযোগ নেই। ওসি অভিযোগ গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীর মামলার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয় এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা পান কি না, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ