০৯:৩৮ পি.এম
মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) সুতা তৈরির মেশিনে কাজ করার সময় এক শ্রমিকের ডান হাত কনুইয়ের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গভীর অবহেলা এবং দেরিতে হাসপাতালে নেয়ার অভিযোগ উঠেছেন সহকর্মীরা। গুরুতর আহত ওই শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে মোংলা ইপিজেডের অভ্যন্তরে অবস্থিত চীনা প্রতিষ্ঠান 'গুয়াংজু হুয়া ফাং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিডি কো. লি.'-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকের নাম মো. গোলাম। তার বাড়ি মোংলা উপজেলার চাঁদপাই গ্রামে। ওই কারখানায় তুলাজাত সুতা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পার হলেও আহত শ্রমিককে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, সহকর্মীরা আহত গোলামকে উদ্ধার করার পর কর্তৃপক্ষকে ডাকাডাকি করলেও তারা প্রথমে কর্ণপাত করেনি। তবে পরবর্তীতে শ্রমিকদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। মোংলা ইপিজেড সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে খবরটি বাইরে না এলেও ভেতরের শ্রমিকদের কাছ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ৫ নং ঘাট পরিদর্শন
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, ইপিজেডে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও গোলামের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর, তাকে অ্যাম্বুলেন্সের বদলে একটি প্রাইভেট কারে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কারখানার শ্রমিকরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী একটি মেশিনে যে কয়জন শ্রমিক থাকার কথা, তার চেয়ে কম লোকবল দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল। এতে মেশিনে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। কাজে হিমশিম খেয়ে তাড়াহুড়ো করে মেশিন থেকে কাপড় সরাতে গিয়েই গোলামের ডান হাত কনুইয়ের পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মেশিনের ভেতরে চলে যায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, এর আগেও ওই কারখানায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ সব সময় বিষয়টির প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন থেকে শ্রমিকদের অবহেলার চোখে দেখছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, এসব বিষয়ে মুখ খুললে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক কালাম মো. আবুল বাশার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ওই কারখানার একটি মেশিনে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। পরে মেশিন বন্ধ করে আগুন নেভানো হয়। কিন্তু মেশিনটি বন্ধ করার পরও সেটির বেল্ট ঘুরছিল। তখন গোলাম নামের ওই শ্রমিক মেশিনের ভেতর থেকে কাপড় বের করতে গেলে বেল্টে আটকে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জের নলতা কালীবাড়ি শারদীয় দূর্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মিছ কাওছার আজিজ
আহত শ্রমিক বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নিয়মমাফিক সে কোম্পানি থেকে ক্ষতিপূরণ পাবে। আমি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন