০৯:৪৫ পি.এম
বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে না সউদী আরব—এমন তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান'-এ প্রকাশিত একটি কলামে। দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ট্রাম্প প্রশাসনকে বিভিন্ন লোভনীয় বাণিজ্য প্রস্তাব ও অস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি প্রদান করলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই কৌশল বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর সউদী আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করে। গত নভেম্বরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটন সফরকালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পাশাপাশি বিশাল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও, ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং জামাতা জারেড কুশনারের প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় রিয়াদ। এর উদ্দেশ্য ছিল—সউদী আরবের ওপর কোনো আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র রক্ষাকবচ হিসেবে পাশে দাঁড়াবে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সউদী আরবের নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দৃশ্যপট পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। হুথিদের তীব্র আক্রমণ এবং গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সউদী আরবকে রক্ষায় সরাসরি বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মার্কিন জনগণের মধ্যে নতুন কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অজনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের এই অনীহা সউদী নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের লেনদেনভিত্তিক (Transactional) পররাষ্ট্রনীতির কারণে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলো আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করেও ওয়াশিংটনের পূর্ণ সামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা রিয়াদের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন