ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জার্মান চ্যান্সেলরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ


জার্মান চ্যান্সেলরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) প্লাউয়েন শহরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা।

দেশব্যাপী ‘ইউনিটি ফর জার্মানি অথবা প্রজেক্ট মিলিয়ন’ উদ্যোগের ব্যানারে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। ‘আরটি’ (RT)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাক্সনি পুলিশের হিসাবমতে এই সমাবেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ডানপন্থী ‘ফ্রি স্যাক্সনস’ দলের কর্মীরাও ছিলেন, যারা এই সমাবেশকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই আঁতাত সরকারকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভারী পুলিশি উপস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভকারীরা শহরের সড়কে মিছিল করছেন। তারা স্লোগান দিচ্ছেন এবং জার্মানির পতাকার পাশাপাশি ‘মার্জকে বিদায় নিতেই হবে’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছেন।

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে প্রাণ গেল বিএনপি নেতা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের

একজন বিক্ষোভকারী মন্তব্য করেছেন, মার্জ তার পূর্বসূরিদের চেয়েও পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছেন। আর তিনি যদি এভাবেই চলতে থাকেন, তবে শিগগিরই জার্মানি অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। সমাবেশে আন্দোলনকারীরা ১১ দফা দাবি পেশ করেছেন।

এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আগাম নির্বাচন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানো, সারাদেশে ২৯ ইউরোর গণপরিবহন টিকিট এবং স্বাস্থ্যসেবা নীতিতে পরিবর্তন। এছাড়া তারা নিজস্ব কঠোর অভিবাসন নীতির দাবি জানান এবং মার্জের সামরিক ব্যয়ের সমালোচনা করেন। চ্যান্সেলর সম্প্রতি রাশিয়ার কথিত হুমকির কথা উল্লেখ করে ‘বুন্ডেসওয়েহর’ (জার্মান সেনাবাহিনী)-কে “ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রথাগত সেনাবাহিনী”তে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই ধারণাটিকে মস্কো বারবার উপহাস করেছে। বার্লিন ২০২৯ সালের মধ্যে মূল প্রতিরক্ষা ব্যয়কে জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করতেও সম্মত হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অস্ত্রসজ্জা বা সামরিকীকরণের পেছনেই ক্রমাগত বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। চ্যান্সেলরকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। নতুন নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন যাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কার্যক্রম থমকে যাওয়া এবং ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে মতপার্থক্যের কারণে মার্জের জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে যুবকের লুঙ্গির গোছায় মিলল ওয়ান শুটার গান

‘ইনফ্রাটেস্ট ডিম্যাপ’-এর জুলাই মাসের ‘এআরডি-ডয়েচল্যান্ডট্রেন্ড’ জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ জার্মান নাগরিক মার্জ এবং তার মধ্য-ডানপন্থী জোট ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ ও ‘ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন’-এর কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। তার জনসমর্থনের হার ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ। যা ১৯৯৭ সালে এই জরিপ শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো জার্মান চ্যান্সেলরের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন।

এদিকে জাতীয় জরিপগুলোতে ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’-র জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; কোনো কোনো জরিপে দলটিকে মার্জের জোটের সমপর্যায়ে বা তার চেয়েও এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। চলতি গ্রীষ্মের শুরুর দিকে ক্ষমতাসীন জোট ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে তথাকথিত ‘ব্যাপক সংস্কার’-এর একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল; এর মধ্যে ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সামান্য কর হ্রাস, পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং অসুস্থতাজনিত ছুটির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মকানুন।

জনগণের ক্রমশ অসন্তোষের মুখে মার্জের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার নিজের দলেই আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ‘পলিটিকো' (Politico) এই সপ্তাহে জানিয়েছে, জুন মাসে সরকারের রদবদল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর শরৎকালে ‘কানজলারটাউশ’ বা ‘চ্যান্সেলর পরিবর্তনের’ বিষয়টি নিয়ে এখন প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সৌদীতে আটকে পড়া ৩৩ ওমরাহ যাত্রী দেশে ফিরেছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে পাটোয়ারীর পোস্ট করা ছবির বিষয়ে যা জানা গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে পাটোয়ারীর পোস্ট করা ছবির বিষয়ে যা জানা গেছে

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনকে নিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়। ছবিটি ২০২৩ সালের সময় টিভিতে প্রচারিত ‘গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি টকশো শুরুর আগে তোলা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’।

‘দ্য ডিসেন্টে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’

ছবিতে দেখা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বর্তমান বিএনপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এবং ইউএনবির উপদেষ্টা সম্পাদক ফরিদ হোসেন একটি কক্ষে বসে আছেন।

ছবিটি যাচাই করে দেখা গেছে, এটি মূলত ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল সময় টিভিতে প্রচারিত ‘গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি টকশো শুরুর আগের সময়ের।

পাটওয়ারীর পোস্ট করা ছবির টাইমলাইন অনুযায়ী, ছবিটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা হয়। অন্যদিকে, সময় টিভিতে ওই সম্পাদকীয় টকশোর সরাসরি সম্প্রচার শুরু হয় রাত ১০টায়। অর্থাৎ, ছবিটি টকশো শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে ধারণ করা হয়েছিল।

তাছাড়া পাটওয়ারীর পোস্ট করা ছবিতে থাকা তিনজন যে ধরন ও রঙের পোশাক পরিহিত ছিল, টকশোতেও তাদের একই পোশাক দেখা যায়।

এদিকে আগের টকশোর ছবি ছড়িয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন মিডিয়া সেল।

নিন্দা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছবিটি ২০২৩ সালের ৪ মে, সময় টেলিভিশনের ‘রাতের টকশোর পূর্বে’-একটি পুরোনো ছবি। অথচ সেই ছবিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কখনো স্তব্ধ করা যায়নি। তিনি নিয়মিতভাবে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

আরও বলা হয়, ‘দেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরির এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরোনো একটি ছবিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। গুজব নয়—সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতেই কথা হোক। অপপ্রচার নয়—দেশ ও শিক্ষার উন্নয়নে সবাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন।

এর আগে, সকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও আরেক ব্যক্তিকে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে পাটওয়ারী লেখেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’

তবে, ক্যামেরার সঙ্গে থাকা স্বয়ংক্রিয় দিন-তারিখে দেখা যায় ছবিটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনরা তার পোস্টে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কমেন্টে নতুন তথ্য যুক্ত করেন।

তাতে তিনি দাবি করেন, এহছানুল হক মিলন ও শাজাহান খানের সঙ্গে বসে থাকা লোকটি পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই চৌধুরী। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া সার্কেলের বর্তমান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, আব্দুল হাই চৌধুরী ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তার ভাষ্য, ‘উনি তো ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই আমলে তিনি কীভাবে এত দ্রুত প্রমোশন পেলেন এবং কীভাবে শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকায় পোস্টিং পেলেন? বিষয়টি নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির প্রশ্নের সঙ্গে যেন অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থে এর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিগগিরই লবণের নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


শিগগিরই লবণের নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবের জন্য শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে, এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণ চাষিদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, শিগগিরই লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবে নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার।

তারেক রহমান বলেন, "একটি কথা এসেছে যে লবণের মূল্য নির্ধারণ করবে। আলোচনা করে ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য চূড়ান্ত করেছি। যাতে লবণ চাষী ভাইরা স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হবেন। আস্তে আস্তে, ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। ফলে লবণ চাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।"

এসময় তিনি সমুদ্র উপকূলে কল-কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সমুদ্র হলো জনগণের বড় সম্পদ। এই সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।"

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, "দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই সরকারের দায়িত্ব। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।"

তারেক রহমান বলেন, "বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে সমস্যাগুলি রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে। বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে সেই কাজে হাত দিয়েছি।"

তিনি বলেন, "আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কিভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।"

জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ এই বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারোর কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।"

এরপর তিনি বলেন, "যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।"

তারেক রহমান বলেন, "পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখন সময় দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। দেশের মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এটাই প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের যৌথভাবে কাজের অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের যৌথভাবে কাজের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য যৌথভাবে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর কার্যালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সচিব মো. মোখতার আহমেদও।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য সরকারও সহযোগিতা করবে। তিনি বললেন, বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ রয়েছে।

সারাহ কুক আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্পসংখ্যক আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। যারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চাইলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তবে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার কথা বলেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়। দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরির জন্য, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে।

মন্ত্রী আরও এফসিডিও (FCDO), আইএলও (ILO) ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। অবদান রাখতে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করার প্রস্তাবও তাঁর।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উল্লেখ করেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে, যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসনসহ উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। তাঁর মতে, ধূমপান নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে সেই আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। রবিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মন্ত্রী এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ধূমপান থেকেই অনেক সময় মানুষ ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই তিনি উল্লেখ করেন, মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি ধূমপান নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও বাড়ানো জরুরি। প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য জরিমানার বিধান রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সেই আইন কতটা প্রয়োগ হচ্ছে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোটরসাইকেল চালানোর সময় কিংবা রাস্তার পাশে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে অনেককেই ধূমপান করতে দেখা যায়, যা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

মন্ত্রী এ বিষয়ে আরও বলেন, প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য ৫০, ১০০ কিংবা ২০০ টাকা জরিমানা করা হলেও, এর একটি সামাজিক প্রভাব রয়েছে। তিনি মনে করেন, মানুষ যখন দেখবে যে ধূমপানের জন্য জরিমানা হচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে এবং প্রকাশ্যে ধূমপানকে অপরাধ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে উঠবে। মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা সম্পৃক্ত হবেন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে এখনো ৫১ শতাংশ বাল্যবিবাহের প্রবণতা রয়েছে। এটি রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণ-তরুণীদের সচেতন করে তুলে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন। মন্ত্রী আরও বলেন, ২০ বছর বয়সের আগে সন্তান না নেওয়ার বিষয়ে তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এই উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব এবং শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।

সভায় জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হকসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কমিটির সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%