০৮:০১ এম
ঢাকার সাভারে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে অটোরিকশা চুরির অপবাদে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) হলেন চাঁদপুর জেলার সদর থানার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে সাভারের উলাইল আল ইসলাম গার্মেন্টসের পেছনের এলাকা থেকে আবুল খায়েরকে অটোরিকশা চোরের অভিযোগে আটক করে। সকাল ১১টা পর্যন্ত সেখানে তাকে একাধিকবার পেটানো হয়। পরে তাকে অটোরিকশার মালিক নুরুজ্জামানের গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ জেলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর সনদপত্র বিতরণ
প্রায় দুপুর ১টার দিকে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান, অন্য একজন অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় আবুল খায়েরের মরদেহ সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে পালিয়ে যান।
উলাইল আল ইসলাম গার্মেন্টসের কাছে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার সময়ে এক অটোরিকশাচালক তার ছোট ছেলেকে অটোরিকশা পাহারায় রেখে বাসায় খেতে যান। তখন আবুল খায়ের শিশুটিকে বলেন, "দুই দিন ধরে ভাত খাইনি। ভাত নিয়ে আসো।" শিশুটি বাসায় গিয়ে বিষয়টি বাবা কে জানালে, অটোরিকশাচালক এসে আবুল খায়েরকে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকতে দেখে তাকে চোর মনে করে। মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন।
বেলা ১১টা পর্যন্ত মারধরের পর তাকে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানের গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে উলাইল এলাকার কোটঘর মহল্লায় অবস্থিত নুরুজ্জামানের অটোরিকশা গ্যারেজে এসে দেখা যায়, সেখানে প্রথমে গ্যারেজ মালিকের পরিবারের নারী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ২
তবে তারা কথা বলতে অমার্গ পাশ করলেন। কিছুক্ষণ পর গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান সেখানে আসেন।
গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান ঘটনার বিষয়ে বলেন, "আমার অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন শুভ। অটোরিকশাটি চুরির সময় শুভ ও স্থানীয়রা তাকে আটক করে প্রথমে মারধর করেন। সকাল ১১টার দিকে তাকে আমার গ্যারেজে আনা হলে আমি তাকে বসিয়ে রাখি। তখন অন্যান্য অটোরিকশাচালকরা আবারও মারধর করেন। আমি মারধর করিনি, আমি হার্টের রোগী। পরে দুপুর ১টায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং ভয়ে সেখান থেকে চলে আসি।"
ঘটনার পর পুলিশ তার কাছে এসেছিল কিনা জানতে চাইলে নুরুজ্জামান বলেন, "সোমবার বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ এসে আমার সঙ্গে সাড়ে চার ঘণ্টা কথা বলেছে। আমি কোনও দোষ করিনি, তাই আমাকে থানায় নেয়নি।"
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, "এ ঘটনায় জড়িত অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভকে আটক করা হয়েছে।"
আরও পড়ুন: ঢাকা থেকে বাকেরগঞ্জের নববধু ধর্ষণের আসামি গ্রেফতার
পুলিশের সঙ্গে সাড়ে চার ঘণ্টা কথা বলার পরও গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানকে কেন আটক করা হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "নুরুজ্জামানকে নিয়ে আসার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, "নিহতের ভাই শাহ পরাণ পাটোয়ারী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পরে গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান ও অটোরিকশা মালিক সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, "আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত রবিবার ফজরের নামাজের পর তিনি চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে স্বজনেরা তার সন্ধান করছিলেন।"
তিনি আরও জানান, "সোমবার রাতে সাভার থানা থেকে ফোন করে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় গিয়ে স্বজনেরা মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তারা অভিযোগ করেন, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।"
আরও পড়ুন: জামালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল অজ্ঞাতপরিচয় নারীর
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার জানান, "সোমবার দুপুর ১টার দিকে দুজন লোক অটোরিকশায় করে একজন ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং ফেলে পালিয়ে যান। নিহতের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন