ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সীতাকুণ্ডের ঘটনাকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে তদন্তের পর ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী


সীতাকুণ্ডের ঘটনাকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে তদন্তের পর ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনার কারণে এখন পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে এবং নিহতদের আত্মীয়-স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘটনাটিকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মন্ত্রী বলেছেন, এ ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে যাওয়ার বিষয় নেই। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে সঠিক তথ্য বের করা।

তিনি আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৮ জনের লাশ মেডিকেল কলেজে এসেছে। বাকি খবর এখনো পাওয়া যায়নি।’ দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করে আমির খসরু বলেছেন, তদন্ত অনুযায়ী যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কারও পক্ষে বিপক্ষে কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে সঠিক তথ্য বের করে আনা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা।’ এছাড়া, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

দুর্ঘটনার পরেও গ্যাসের লিকেজ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেটি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনীর এক্সপ্লোসিভ টিম ঘটনাস্থলে গেছে। গ্যাসের বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

এসময় শিপব্রেকিং শিল্পে গ্রিন ইয়ার্ডের কমপ্লায়েন্সের উপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান আমির খসরু। এসব বিষয়ের উপর ইন্সপেকশনও চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, হংকং চার্টারের নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া পূরণ করলে তাদের পক্ষ থেকে গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ দেওয়া হয়। তবে কোন কমপ্লায়েন্সের ঘাটতি বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে দেখা হবে। অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চেম্বারের পরিচালক এসএম সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে বর্তমানে কোনো কিশোর গ্যাং সক্রিয় নেই: র‌্যাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


মোহাম্মদপুরে বর্তমানে কোনো কিশোর গ্যাং সক্রিয় নেই: র‌্যাব

রাজধানী মোহাম্মদপুরকে গডফাদার ও সন্ত্রাসী তৎপরতামুক্ত করার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাবের দাবি, অভিযানের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে। বর্তমানে মোহাম্মদপুরে কোনো কিশোর গ্যাং সক্রিয় নেই বলে তারা জানায়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন র‌্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি উল্লেখ করেন, মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং লিডার এলেক্স ইমন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম, যিনি রিপোল ও বিপুল নামেও পরিচিত, সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অভিযানে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক এবং সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র।

র‌্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা গডফাদারদের গ্রেফতার করছি। আমরা খুব বেশি নিচের সারির সদস্য বা ছোটখাটো গ্রুপগুলোর দিকে হাত দিচ্ছি না।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গডফাদারদের গ্রেফতারের ফলে মোহাম্মদপুর পূর্বের চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর আরও নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নয়মুল হাসান আরও বলেন, ‘মোহাম্মদপুরকে ‘সিটি অব গডস’ হিসেবে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটি মূলত একটি ভুল ধারণা। আমরা মোহাম্মদপুরকে সেই ধারণা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। নিকট ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর থেকে গ্যাং ও সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারব বলে আশা করি।’

তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুরকে বখাটে ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে যে অভিযান চলছে, একইভাবে পুরো রাজধানীকেই নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এলেক্স ইমন হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে পারবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। র‌্যাব মূলত তদন্তে সহায়তার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের পর যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন, তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত সে বিষয়ে বিশদে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। যেহেতু র‌্যাব সরাসরি তদন্ত করছে না, তাই এই বিষয়ে থানা পুলিশই বিস্তারিত তথ্য দিতে সক্ষম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডের জিডিপি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.৫ শতাংশ বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


সুইজারল্যান্ডের জিডিপি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.৫ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : প্রাথমিক এক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশটির রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পের শক্তিশালী কার্যক্রমের কারণে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের চাপও সামলে উঠতে পেরেছে সুইস অর্থনীতি। 

শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকের এই প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষকদের প্রায় শুন্য দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘শিল্প খাত প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পের শক্তিশালী কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সামগ্রিকভাবে সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে অর্থনীতির বিস্তারিত তথ্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে।

সুইজারল্যান্ডের নিয়োগকর্তাদের সংগঠন সুইসমেম সম্প্রতি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টারের সরঞ্জামের বাড়তি চাহিদার কারণে দেশটির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে।

এদিকে, মে মাসে প্রকাশিত বহুল পর্যবেক্ষিত ক্রয় ব্যবস্থাপকদের সূচক গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক সুইজারল্যান্ডের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলছে।

সুইজারল্যান্ডের শুল্ক দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির রপ্তানি ১ দদশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি বেড়েছিল মাত্র শুন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

জিডিপির তথ্য প্রকাশের পর ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের এক বিশ্লেষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই প্রবৃদ্ধির গতি তৃতীয় প্রান্তিকেও অব্যাহত থাকতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় প্রান্তিকে সুইজারল্যান্ডের জিডিপি প্রান্তিক ভিত্তিক ১ দশমিক শুন্য শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো বলছে, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গণমুখী পরিকল্পনা জরুরি: সিপিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গণমুখী পরিকল্পনা জরুরি: সিপিবি

রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গণমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা, কার্যকর সিটি গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সবার জন্য একটি বাসযোগ্য, মানবিক এবং নিরাপদ ঢাকা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ‘সবার জন্য বাসযোগ্য, মানবিক ও নিরাপদ ঢাকা চাই’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিবি নেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দখল, দূষণ, যানজট এবং বৈষম্যের কারণে ঢাকা ক্রমে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণপরিবহন, আবাসন এবং নাগরিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সেমিনারে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর। বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া ফারজানা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত নেভি কমোডর বিপন কুমার সাহা, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ এবং সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাজেদুল হক রুবেল।

বক্তারা বলেন, ঢাকা শুধু প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্রই নয়, এটি কোটি মানুষের আবাসস্থল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, বায়ু এবং শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট এবং খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান কমে যাওয়ায় নগরবাসীর জীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

তারা আরও বলেন, নাগরিক সুবিধা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। নগর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক দুর্নীতি, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা তার বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা নগরের সেবা এবং অবকাঠামো নিয়ে কাজ করলেও তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। এই কারণে একই সড়ক বারবার খোঁড়াখুঁড়ি, অর্থের অপচয় ও নাগরিক ভোগান্তি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শক্তিশালী এবং সমন্বিত সিটি গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে নগর পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঢাকার বৈষম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে বক্তারা জানান, একদিকে গুলশান-বনানী-বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় আধুনিক নাগরিক সুবিধা রয়েছে, অন্যদিকে বস্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ আবাসনের মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। একই শহরের মানুষের জীবনযাত্রায় এমন বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নগর উন্নয়ন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান ও ন্যায়ভিত্তিক হতে হবে।

নদী, খাল এবং জলাশয় রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ এবং বালুসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো বর্তমানে দূষণের শিকার। দখল এবং ভরাটের ফলে খাল-জলাশয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সংঘটিত হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী, খাল, জলাশয়, মাঠ এবং উন্মুক্ত স্থান উদ্ধার এবং সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।

গণপরিবহন বিষয়ে বক্তারা বলেন, সিন্ডিকেট, অনিয়ম এবং নৈরাজ্যের কারণে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিটনেসবিহীন বাস, অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রী হয়রানি এবং বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে যানজট এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। গণপরিবহনকে সিন্ডিকেটমুক্ত, নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল হিসেবে গড়ে তুলতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

বায়ু এবং শব্দদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, অতিরিক্ত হর্ণ এবং উন্মুক্ত বর্জ্যের কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তারা পরিবেশদূষণ বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নগর বনায়ন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

এ ছাড়া, সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা এবং পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে সেমিনারের বক্তাদের পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


‘বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে’

শ্রম আইন অনুযায়ী অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন সহ পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় মজুরি পুনর্নির্ধারণের ৬ দফা দাবি জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (বিজিডব্লিউইউসি)। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এই সংগঠনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে।

সংগঠনটির নেতারা মন্তব্য করেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা এবং শিক্ষার খরচের বৃদ্ধিের ফলে বর্তমানে শ্রমিকদের পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনের নেতারা শ্রম আইন অনুযায়ী নতুন করে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি কাঠামো নতুন করে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। শ্রম আইন অনুসারে নির্দিষ্ট সময় পর পর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য কলোনি অথবা ডরমিটরি নির্মাণ, শ্রমিকদের চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধা সম্প্রসারণ, শ্রম আইন-বহির্ভূতভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন।

নেতারা বলেছেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি প্রধান উৎস হলেও শ্রমিকরা এখনও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ মজুরি পাচ্ছেন না। শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে পোশাক খাতের মজুরি কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিক সংগঠনগুলো নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।

মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের প্রতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত দাবিগুলি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের মধ্যে সংলাপ জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান। বক্তৃতা করেন মহাসচিব মাহতাব উদ্দিন শহীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এম. দেলোয়ার হোসেন, আব্বাসউদ্দিন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তাহমিনা রহমান, শামসুল হক, ইব্রাহিম খলিল, আসাদুজ্জামান ও কামরুল ইসলাম মৃধাসহ আরো অনেকেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%