০৭:৪৫ পি.এম
অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে উত্তেজনার সময় সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ এবং ভারত।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে দুই দেশের সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে এর মাঝেই ভারতের 'অবৈধ' অভিবাসীর চিহ্নিত করে ঢালাওভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন কার্যক্রম সেই চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আরও পড়ুন: জর্জিয়ায় সিনেট আসন ধরে রাখলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন না করেই জোরপূর্বক অভিবাসীদের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে বলে ঢাকায় জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের চারদিনব্যাপী বৈঠক শেষে এই যৌথ বিবৃতিটি এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মধ্যে 'আন্তরিক, ইতিবাচক ও দূরদর্শী' আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে 'অবৈধ, অসচেতন ও বলপূর্বক অনুপ্রবেশ'-এর মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোও এই নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর মধ্যে একটি, যার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রধান সীমান্ত রাজ্যগুলি যেমন পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসামের ক্ষমতায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে নির্বাচিত হলেন ক্রিস পাপাস
বিজেপি সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়টিকে তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার ও অগ্রাধিকার হিসাবে নিয়েছে। তারা গত বছর থেকেই বাংলাভাষী মুসলমানদের 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপ বন্ধের জন্য ইতিমধ্যে নয়াদিল্লিকে বাংলাদেশ এক ডজনেরও বেশি চিঠি প্রদান করেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বিএসএফের বেশ কয়েকটি পুশ-ইনের চেষ্টা তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই যেকোনো ধরনের পুশ-ইন 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য'। তিনি সতর্ক করেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন সব চেষ্টা ভেস্তে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন তিন কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর
জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে সীমান্তে টহল ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃক। অন্যদিকে মে মাসে দিল্লি জানায়, ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী প্রায় ২ হাজার ৮৬০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে তারা।
যৌথ বিবৃতিতে মানব পাচার, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, চোরাচালান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষই তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।'
সীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান আরও জোরালো করার বিষয়ে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে আন্দোলনের সময় আহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক শেখ মারা গেছেন
আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন