ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

‘এখানে খেলার সুযোগ কখনো আসেনি’—লা লিগা নিয়ে হ্যারি কেইন


‘এখানে খেলার সুযোগ কখনো আসেনি’—লা লিগা নিয়ে হ্যারি কেইন

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে, স্প্যানিশ ফুটবল এবং শৈশবের স্মৃতিচারণ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড তার শৈশবে স্প্যানিশ ফুটবলের প্রভাব এবং নিজের ক্যারিয়ারের পছন্দ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কেইন জানান, তার বেড়ে ওঠার সময় স্প্যানিশ ফুটবল এবং লা লিগার তারকারা কতটা গভীরভাবে তার উপর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি বলেন, "আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন স্প্যানিশ ফুটবল আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে সময় তাদের জাতীয় দল কতটা শক্তিশালী ছিল, তা সবাই দেখত। তারা তখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমি নিয়মিত স্প্যানিশ লিগ দেখতাম এবং বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর খেলা নিয়মিত অনুসরণ করতাম।"

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কেইনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ক্যারিয়ারের কোনো এক সময়ে তিনি কখনো স্প্যানিশ লা লিগায় খেলার কথা ভেবেছিলেন কি না বা সেখানে খেলার কোনো সুপ্ত বাসনা তার ছিল কি না।

আরও পড়ুন: 'নতুন এসেছে তো, একটু এক্সাইটেড', বলেন তাসকিন উইন্ডিজ ব্যাটার সম্পর্কে

এই প্রশ্নের জবাবে হ্যারি কেইন অত্যন্ত স্পষ্ট ও সোজাসাপ্টা উত্তর দেন। তিনি জানান যে, ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি নিজের প্রতিটি পদক্ষেপে সন্তুষ্ট এবং বায়ার্ন মিউনিখে আসার সিদ্ধান্তটি ছিল তার জন্য দারুণ এক প্রাপ্তি।

কেইন ব্যাখ্যা করে বলেন, "এখানে (লা লিগায়) খেলার সুযোগ আমার কখনো আসেনি। আমি টটেনহ্যামে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি এবং সেখানে আমি অত্যন্ত খুশি ছিলাম। এরপর যখন বায়ার্নে যাওয়ার সুযোগ এল, আমি সানন্দে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং জার্মানির অভিজ্ঞতা নিয়েও আমি সমানভাবে আনন্দিত।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক নজরে দেখে নিন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


এক নজরে দেখে নিন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে?

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল তিন দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ের ভর্তিযুদ্ধ আগামী এক মাসের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে তাদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এবং ইউনিটভিত্তিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে।

আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অনলাইনে ভর্তির আবেদন ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত করা যাবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি শুরু হবে। ওই দিন ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রাথমিক আবেদন ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। তবে পরীক্ষার পদ্ধতি ও পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষা ১ জানুয়ারি শুরু হবে। ওই দিন ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৮ জানুয়ারি ‘ই’ ইউনিট, ১৫ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ২২ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ২৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ভর্তির আবেদন ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে এবং ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা ২৯ জানুয়ারি শুরু হবে। ওই দিন ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিট, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বি১’ ইউনিট, ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বি২’ ইউনিট, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

‘বি১’, ‘বি২’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্য ইউনিটগুলোর পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে। অনলাইনে আবেদন ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা যাবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভর্তি পরীক্ষা ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা ১৯ মার্চ, ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২০ মার্চ এবং ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৭ মার্চ ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্জিয়ায় সিনেট আসন ধরে রাখলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


জর্জিয়ায় সিনেট আসন ধরে রাখলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর জন ওসফ। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ৮৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে জন ওসফের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্স ৪১ দশমিক ২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এপি কর্তৃক জন ওসফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে জন ওসফ জীবনযাত্রার ব্যয়ের বৃদ্ধি নিয়ে প্রধান ইস্যু হিসেবে কথা বলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেন। অপরদিকে, কলিন্স সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেন এবং ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতি সমর্থন জানান।

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিল। তাই জন ওসফের জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজয়ের পর জন ওসফ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সংকট এখনো কাটেনি।" তিনি আরও জানান, সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বড় ওষুধ কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং হোয়াইট হাউসের কথিত দুর্নীতির বিষয়েও আলোচনা করেন।

এই জয়কে কেন্দ্র করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জন ওসফের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি পূর্বে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ , বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’ থেকে ৬ লাখেরও বেশি রোগী সেবা পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’ থেকে ৬ লাখেরও বেশি রোগী সেবা পেলেন

চারপাশে থমথমে সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী, আর মাঝখানে প্রমত্তা শিবসা নদীর বুক চিরে ভেসে বেড়াচ্ছে এক খণ্ড আস্থার ঠিকানা—‘ভাসমান হাসপাতাল’। খুলনার পাইকগাছায় শুরু হয়েছে একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী কার্যক্রম, যা চিকিৎসা বঞ্চিত উপকূলের অবহেলিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। নদীবেষ্টিত দুর্গম জনপদের মানুষের কাছে এই দৃশ্য যেন অনেকটা স্বপ্নের মতো। কারণ, পাইকগাছা উপকূলে এমন উদ্যোগ এই প্রথম।

বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।

তবে, পাঁচটি জাহাজে পরিচালিত এই ফ্রেন্ডশিপ ‘ভাসমান হাসপাতাল’ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। এতে উপকৃত হচ্ছে চিকিৎসা বঞ্চিত উপকূলের অসহায় মানুষ। এই পর্যন্ত পাঁচটি ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ জন রোগী। তবে এসব রোগীকে মোট ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪০২ বার বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে।

ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ম্যানেজার (জনসংযোগ) জিলফুল মুরাদ শানু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর থেকে খুলনার পাইকগাছা উপকূলে নোঙর করেছে একটি ভাসমান হাসপাতাল। যা সোমবার (২ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। শিবসা নদীর তীরে ফিতা কেটে এই ভাসমান হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের অর্থায়নে বাংলাদেশে পরিচালিত ভাসমান হাসপাতাল প্রকল্পটির নাম ‘কিং আবদুল্লাহ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’। প্রয়াত সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের স্মরণে এবং তার চ্যারিটি প্রোগ্রাম (কেএএপি)-এর অধীনে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) এই প্রকল্পের অর্থায়ন করছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষায়িত ৫টি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ ২০২৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে দুর্গম ও উপকূলীয় অঞ্চলের নদী পথগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

মোট ৫টি ডেডিকেটেড হাসপাতাল জাহাজ তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর নাম রাখা হয়েছে কিং আবদুল্লাহ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল ১ থেকে ৫।

এই বহরের সবচেয়ে বড় জাহাজটি ৩১ মিটার দীর্ঘ, যাতে রয়েছে সাধারণ সার্জারি এবং চোখের অপারেশনের জন্য দুটি আলাদা আধুনিক অপারেশন থিয়েটার। বাকি ৪টি জাহাজ ২৫ মিটার দীর্ঘ, যা মূলত প্রাথমিক চিকিৎসা ও ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহৃত হয়।

চোখের ছানি অপারেশন ও সাধারণ ওয়ান-ডে সার্জারি। এ ছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবা, দাঁতের চিকিৎসা (ডেন্টাল কেয়ার), ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৩০ জন ক্রু ও স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষণিক থাকেন, যার মধ্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সরা জাহাজের কেবিনেই অবস্থান করেন।

মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী দুর্গম চরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে (যেমন: চাঁদপুর, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও খুলনা) জাহাজগুলো বিভিন্ন চরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নোঙর করে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১ হাজার প্রান্তিক রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দেয়।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নটি সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এবং নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত অনুন্নত। সামান্য চিকিৎসার জন্যও এই অঞ্চলের মানুষকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘপথ, যা গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব। আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে আজীবন বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট দূর করতেই শিবসা নদীতে নোঙর করেছে এই বিশেষ হাসপাতালটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের প্রশাসক শাহ আলম, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফিরোজ আক্তার, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মাওলানা জিএম বুলবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভাসমান হাসপাতালটি আগামী তিন মাস একটানা শিবসা নদীতে অবস্থান করবে। এর মাধ্যমে গড়াইখালী এবং এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার অসহায়, দুস্থ ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষ ঘরে বসেই বিনামূল্যে মূল্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অনেক দরিদ্র মানুষ রয়েছেন, যাদের পক্ষে দূরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া কঠিন। নদীতে ভাসমান হাসপাতাল চালু হওয়ায় তারা কাছাকাছি থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। এটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য খুবই উপকারী উদ্যোগ।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রাজ্জাক শেখ বলেছেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মানুষ চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খান। ভাসমান হাসপাতালটি তিন মাস সেবা দিলে এলাকার অনেক অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করছি।’

ভাসমান হাসপাতালটির উদ্বোধনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ভাসমান হাসপাতালটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব মানুষ কখনও ভালো ডাক্তারের মুখ দেখেননি, তারা এখন নদীর বুকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপকূলের মানুষের জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ফিরোজ আকতার বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সৌদি সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঁচটি ভাসমান হাসপাতাল উপকূলীয় অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। এর একটি বাগেরহাটের মোংলা এবং খুলনার দাকোপ উপকূলে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে গত ২৮ অক্টোবর থেকে একটি জাহাজ খুলনার পাইকগাছা উপকূলে নোঙ্গর করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী তিন মাস একইস্থানে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ম্যানেজার (জনসংযোগ) জিলফুল মুরাদ শানু জানান, মোট ৫টি জাহাজের মাধ্যমে এই পর্যন্ত ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। মোট ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪০২ বার বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করে কেএএপি-এমএইচবি-১ জাহাজটির বর্তমান অবস্থান বরগুনার আমতলীতে। এর মাধ্যমে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭১৬ জন রোগী মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৭৯৯ বার সেবা পেয়েছেন।

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু করা কেএএপি-এমএইচবি-৩ জাহাজটির বর্তমান অবস্থান পাবনার বেড়ায়, যেখান থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৭৬ জন রোগীকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭২০ বার সেবা দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে খুলনা উপকূলে সেবা প্রদানকারী কেএএপি-এমএইচবি-৪ জাহাজ থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১৩ জন রোগী মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৪ বার সেবা পেয়েছেন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যক্রম শুরু করা সর্বশেষ কেএএপি-এমএইচবি-৫ জাহাজটি বর্তমানে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে অবস্থান করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের নদীমাতৃক ও চিকিৎসাবঞ্চিত এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এই ভাসমান হাসপাতালগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় এই ‘ভাসমান হাসপাতাল’ কেবল একটি চিকিৎসা কেন্দ্রই নয়, বরং এটি উপকূলবাসীর মনে বেঁচে থাকার নতুন এক স্বপ্ন ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যারিককে কতটুকু স্বস্তি দিবে ইউনাইটেডের জয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


ক্যারিককে কতটুকু স্বস্তি দিবে ইউনাইটেডের জয়?

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রুনো ফার্নান্দেস-এর প্রথম পেনাল্টি নেওয়ার সময় ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে-র পা রোমার বক্সে ঢুকে যাওয়ার ঘটনাটি মাইকেল ক্যারিক-এর ভবিষ্যতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা এখনই বলা কঠিন।

সেই মুহূর্তে রোমা সমর্থকদের উল্লাস এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া পরিস্থিতি ক্লাবের জন্য বিপর্যয়কর এবং ক্যারিকের জন্য প্রায় চাকরিচ্যুতির পূর্বাভাস বলেই মনে হচ্ছিল।

তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপ করে পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেন। আর সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

ফার্নান্দেস দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোল করে ইউনাইটেডকে ম্যাচে ফেরান। পরে উন্মাতাল পরিবেশে ম্যাথিউস কুনিয়া শেষ সাত মিনিটে দুটি গোল করে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন। ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটি ইউনাইটেডের অন্যতম নাটকীয় ইউরোপীয় কামব্যাক।

কুনিয়া পরে লাল কার্ড দেখলেও ইউনাইটেড শেষ পর্যন্ত তাদের ১০ ম্যাচের জয়হীনতা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়, যা সাম্প্রতিক হতাশাজনক সময়ের পর কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বিরতির সময় কী বলেছিলেন ক্যারিক?

অনেকে জানতে চাইছিলেন, পেনাল্টি মিস হওয়ার পর ক্যারিক কী অনুভব করেছিলেন। আবার প্রথমার্ধের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের কী বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

২০২৩ সালে নিজের বরখাস্তের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক কোচ ওলে গুনার সুলশার বলেছিলেন, ওয়াটফোর্ড ম্যাচের বিরতিতেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন যে সেটিই সম্ভবত খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার শেষ সময়।

সেদিন ইউনাইটেড ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল। ক্যারিক তখন সুলশারের কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন।

তবে এবার গল্পটা ভিন্ন।

ক্যারিক বলেন, "বিরতিতে আমি খেলোয়াড়দের আরও ইতিবাচক হতে বলেছি। হতাশ বা বিরক্ত হওয়া সহজ, কিন্তু সেটা কাউকে সাহায্য করে না। আমাদের পরের সুযোগ, পরের সমাধান খুঁজে যেতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমি ইতিহাস নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না, তবে এই স্টেডিয়ামের একটা জাদু আছে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড অতীতেও অনেক অলৌকিক রাত দেখেছে, ভবিষ্যতেও দেখাবে। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, একটা মুহূর্তই সবকিছু বদলে দিতে পারে। আর আমরা সেই মুহূর্তটা পেয়েছিলাম।"

রুনির প্রশংসা

প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের খেলায় ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্লাব কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি। তিনি খেলোয়াড়দের আরও আবেগ ও লড়াই দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ম্যাচ শেষে তিনি ক্যারিকের প্রশংসা করেন। রুনি বলেন, "মাইকেল ক্যারিক অনেক কৃতিত্বের দাবিদার। বিরতিতে তিনি খেলোয়াড়দের এমন কিছু বলেছেন, যা তাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ম্যাচ জেতার মানসিকতা তৈরি করেছে।"

ফার্নান্দেসের মানসিক দৃঢ়তা

পেনাল্টি প্রথমবার মিস হওয়ার পরও ক্যারিক শান্ত ছিলেন। "আমি হাসিনি, খুশিও হইনি। কিন্তু মনে হচ্ছিল, সামনে আরেকটা সুযোগ আসবে," বলেন তিনি।

ফার্নান্দেসের প্রশংসা করে ক্যারিক বলেন, "দ্বিতীয়বার পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যাওয়া এবং এমন দৃঢ়তার সঙ্গে গোল করা সহজ নয়। এর জন্য ব্রুনো অনেক প্রশংসার দাবিদার।"

এক জয়ে কি সব সমস্যার সমাধান?

যদিও এই জয় উচ্ছ্বাসের জন্ম দিয়েছে, তবুও ইউনাইটেডের বড় সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।

ম্যাচের আগে ক্লাবের মালিকানার বিরুদ্ধে 'সবুজ ও সোনালি' রঙের প্রতিবাদ হয়। গ্লেজার পরিবার, স্যার জিম র্যাটক্লিফ এবং ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স-এর বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়।

একটি জয় সেই ক্ষোভ থামিয়ে দিতে পারবে না।

ইতিহাসও সতর্ক করছে। সুলশার-এর অধীনে ইউনাইটেড একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতালান্তা-র বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেছিল। কিন্তু চার দিন পর লিভারপুল-এর কাছে ৫-০ গোলে হেরে যায়। এক মাসের মধ্যেই সুলশার চাকরি হারান।

আবার ২০১৮ সালে জোসে মরিনহো বরখাস্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। নিউক্যাসল-এর বিপক্ষে ২-০ পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতেছিলেন। কিন্তু এরপরও মাত্র ১৩ ম্যাচ টিকতে পেরেছিলেন।

তাহলে এই জয় ক্যারিককে কতটা সময় কিনে দিল, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

সামনে অ্যাস্টন ভিলা পরীক্ষা

ক্যারিক নিজেও বাস্তববাদী। তিনি বলেন, "আমার কাছে ভবিষ্যৎ দেখার কোনো জাদুকরী কাঁচ নেই। এখন আমাদের অ্যাস্টন ভিলার ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।"

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরের ধাপে ওঠার সম্ভাবনা বেড়েছে, খেলোয়াড়রাও অনেকদিন পর জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু ভিলার বিপক্ষে সেই ছন্দ ধরে রাখতে না পারলে এই জয়ের গুরুত্ব দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে।

‘নিখুঁত রাত’ নাকি ‘ফাটল ঢাকার চেষ্টা’?

সাবেক ডেনমার্ক গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল বলেন, "আমি বিরতিতে বলেছিলাম, হারলেও যেন লড়াই করে হারো। প্রথমার্ধে সেটা ছিল না, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তারা সেটা দেখিয়েছে।"

তবে তিনি সতর্ক করে দেন, "দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স প্রথমার্ধের দুর্বলতাগুলোকে আড়াল করছে। এখন এটাকে মানদণ্ড হিসেবে ধরে এগোতে হবে। সবাইকে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।"

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ব্রুনো ফার্নান্দেস প্রকাশ্যেই ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কোচিং কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছেন। ফলে দলের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ক্যারিকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার স্টিফেন ওয়ার্নক-এর মতে, রোমার বিপক্ষে এই জয় ক্যারিকের জন্য "একেবারে নিখুঁত গল্প" তৈরি করেছে।

ওয়ার্নক বলেন, "দলটি আত্মবিশ্বাসহীন অবস্থায় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল। এরপর তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা প্রমাণ করে খেলোয়াড়রা এখনও ম্যানেজারের জন্য লড়ছে।"

তার ভাষায়, "যখন খেলোয়াড়রা একে অপরের জন্য দৌড়ায়, লড়াই করে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রথম গোলের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সমর্থকেরাও দলকে নতুন শক্তি দিয়েছে।"

সব মিলিয়ে, রোমার বিপক্ষে এই নাটকীয় জয় মাইকেল ক্যারিকের জন্য হয়তো মৌসুম বদলে দেওয়ার সূচনা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এটি সত্যিকারের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত নাকি সাময়িক স্বস্তি, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েকটি ম্যাচেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%