কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৩:৫৯ পি.এম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. নাজমুল ইসলাম (৩৮)।
অভিযোগকারী নাজমুল ইসলাম উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের হাজী চাঁদ মাহমুদ খানের ছেলে। অভিযোগে একই গ্রামের মিজানুর রহমান খান (৬৫), তৌহিদুর রহমান খান (৪৫), মফিজুর রহমান খান (৩৫) ও ফয়সাল খানের (১৮) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাকুড়িয়া মৌজার ৪৮ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নম্বর ৬৮/২১ বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নাজমুল ইসলামের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। ইতোমধ্যে ভবন নির্মাণের জন্য ভিত্তি ঢালাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিবাদীদের আদালতের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ করা হয়। তবে তাতে সমাধান না হওয়ায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও আইন অনুযায়ী প্রতিকার পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
অভিযোগে পাকুড়িয়া মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ২২১ ও ২২৪ এবং হাল দাগ নম্বর ২৩৭ ও ২৩৮-এর ৪৮ শতাংশ জমির উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ শতাংশ জমির ওপর নিজেদের দাবি রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান খান বলেন, আমাদের জায়গায় ঘর তোলা হচ্ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে বিরোধ করে আসছে। জমির কাগজপত্র আমাদের অনুকূলে রয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। নালিশি জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই উভয় পক্ষই সেখানে কোনো ধরনের কাজ করতে পারবে না। কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাসও প্রদান করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী-২০২৬ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দের বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এছাড়াও, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, রোগীর কথা মনোযোগ সহকারে শোনা, তার শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশদূষণ এবং খাদ্যের গুণগত মান মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। চিকিৎসকদের ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।
নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের নকল কপি তৈরি করে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কর্তৃক এক তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তরুণীর নাম প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা, যিনি ২২ বছর বয়সী। তাকে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ গণমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে টেলিগ্রাম আইডির মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চক্রটি। তাদের পক্ষ থেকে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি নকল ওয়েবসাইটে কাজ করার কথা বলা হয়। সেখানে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের রেটিং ও মতামত দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখানো হয়।
প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে কাজ শুরু করার পর ব্যবসায়ীকে কয়েক দফায় পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। এতে তার বিশ্বাস অর্জন করে চক্রটি। পরে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমার স্লিপের ছবি দেখিয়ে তাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়।
সিআইডির কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ব্যবসায়ী তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে চক্রটির দেওয়া একটি ব্যাংক হিসাবে প্রথমে এক লাখ টাকা পাঠান। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাকে আরও অর্থ পাঠাতে প্ররোচিত করা হয়। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়।
চক্রটি ওই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা তো দূরের কথা, বিনিয়োগের মূল টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে আরও অর্থ দাবি করা হলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। টাকা ফেরত চাইলে তাকে নতুন করে অর্থ পাঠাতে বলা হয়। একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন।
সিআইডির তদন্তে ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে অর্থ পাঠানোর সময়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ব্যবসায়ীর বিশ্বাস অর্জন করে তাকে ধাপে ধাপে বেশি অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত একটি মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব থেকে তাকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয়েছিল।
তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি গ্রেফতার তরুণী। প্রতারণায় তার সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ আরও জানান, একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি, বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে আয়ের প্রলোভন এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মন্তব্য করেছে যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।
সংগঠনটি দাবি করেছে যে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা একই সঙ্গে দ্রুত নতুন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। অতীতে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার বিপরীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা স্থগিত করা শ্রেয়তর পদক্ষেপ।
তবে বিবৃতিতে প্রশ্নফাঁসকে একটি গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী ঢাকায় পরীক্ষা দিতে এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত। এতে চাকরিপ্রার্থীদের যে মানসিক, আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়েছে, তা অপরিমেয়। চাকরিপ্রার্থীদের এ ধরনের ক্ষতি ও বিড়ম্বনার বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমব্যথী। তারা এই অমার্জনীয় অপরাধের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ভবিষ্যতে যেকোনো উপায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চিকিৎসক ও কর্মচারী ক্যাটাগরিতে মোট ১০৮ জনকে নিয়মিত ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
১. চিকিৎসক পদগুলোর বিবরণ ও যোগ্যতা:
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (শিশু মেডিসিন): ৩৫টি (গ্রেড–৯)।
বেতন স্কেল: ৪৪,০০০–১০৫,৯০০ টাকা।
যোগ্যতা: বিএমডিসি স্বীকৃত ও নিবন্ধিত মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েটসহ এমবিবিএস ডিগ্রি এবং শিশু মেডিসিনের ওপর বিএমইউ/বিসিপিএস স্বীকৃত অন্তত এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (শিশু সার্জারি): ৯টি (গ্রেড–৯)।
বেতন স্কেল: ৪৪,০০০–১০৫,৯০০ টাকা।
যোগ্যতা: বিএমডিসি স্বীকৃত ও নিবন্ধিত মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েটসহ এমবিবিএস ডিগ্রি এবং শিশু সার্জারির ওপর বিএমইউ/বিসিপিএস স্বীকৃত অন্তত এক বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (শিশু অ্যানেসথেসিয়া): ৫টি (গ্রেড–৯)।
বেতন স্কেল: ৪৪,০০০–১০৫,৯০০ টাকা।
যোগ্যতা: বিএমডিসি স্বীকৃত ও নিবন্ধিত মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েটসহ এমবিবিএস ডিগ্রি এবং শিশু অ্যানেসথেসিয়ার ওপর বিএমইউ/বিসিপিএস স্বীকৃত অন্তত এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (ইএনটি): ১টি (গ্রেড–৯)।
বেতন স্কেল: ৪৪,০০০–১০৫,৯০০ টাকা।
যোগ্যতা: বিএমডিসি স্বীকৃত ও নিবন্ধিত মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েটসহ এমবিবিএস ডিগ্রি এবং ইএনটির ওপর বিএমইউ/বিসিপিএস স্বীকৃত অন্তত এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বয়সসীমা (চিকিৎসক পদ)
সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর। উচ্চতর যোগ্যতা (ডিসিএইচ, এমডি, এমএস ও এফসিপিএস) সম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা দুই বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।
পরীক্ষার ফি (চিকিৎসক পদ)
পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট–এর অনুকূলে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে দুই হাজার টাকার পে–অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট অফেরতযোগ্য হিসেবে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
২. কর্মচারী পদগুলোর বিবরণ ও যোগ্যতা
ওয়ার্ড বয়/আয়া: ৩৩টি (গ্রেড–২০)।
বেতন স্কেল: ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা।
যোগ্যতা: এসএসসি পাস। সমপদে বা সংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত এক বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পিয়ন (অফিস সহায়ক): ১০টি (গ্রেড–২০)।
বেতন স্কেল: ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা।
যোগ্যতা: এসএসসি পাস। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
অ্যাটেনডেন্ট (ওটি, এক্স–রে, ল্যাব ও কার্ডিয়াক): ২৫টি (গ্রেড–২০)।
বেতন স্কেল: ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা।
যোগ্যতা: এসএসসি পাস। সমপদে বা সংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত দুই বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বয়সসীমা (কর্মচারী পদ): সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
পরীক্ষার ফি (কর্মচারী পদ): ‘পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট’–এর অনুকূলে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ৫০০ টাকার পে–অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট অফেরতযোগ্য হিসেবে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি
আগ্রহী প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম ডাউনলোড করে তা সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ফরমের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বিএমডিসি নিবন্ধন (যদি প্রযোজ্য হয়), জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, তিন কপি ল্যাব প্রিন্ট পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি ও নির্ধারিত ফির পে–অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদনপত্র ১৭ অক্টোবরের মধ্যে (অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা) সরাসরি অথবা ডাকযোগে ‘পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা–১২০৭’ ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে। খামের ওপর আবেদনকৃত পদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। উপযুক্ত প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ