ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে ছাত্রসেনার নেতা ক্বারি বাহার উদ্দিন, দাওয়াত না পেয়ে বন্ধুদের ক্ষোভ!


অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে ছাত্রসেনার নেতা ক্বারি বাহার উদ্দিন, দাওয়াত না পেয়ে বন্ধুদের ক্ষোভ!

অবশেষে বিয়ে করলেন ছাত্রসেনার নেতা ক্বারি বাহার উদ্দিন। তবে বিয়ের খবর জানলেও দাওয়াত না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার কয়েকজন বন্ধু। বন্ধুরা তার দেওয়া ‘ম্যারিড’ স্ট্যাটাসে মন্তব্য করে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান।

বন্ধুদের এমন প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে হাস্যরসাত্মক আলোচনা। অনেকেরই প্রশ্ন—বন্ধুদের দাওয়াত না দিয়েই কেন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন ক্বারি বাহার উদ্দিন?

এ বিষয়ে ক্বারি বাহার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখনো বিয়ের কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। তার পীর সাহেব শুধু কালেমা পড়িয়ে বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে দিয়েছেন। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, তখন সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্বের ১০০ জনের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র নারী! ঠাকুরগাঁওয়ের বিলকিস ইতালিতে পেলেন আন্তর্জাতিক সম্মাননা

তার এই বক্তব্যে আপাতত আশ্বস্ত হওয়ার সুযোগ পেলেও বন্ধুদের অপেক্ষা এখন পরবর্তী অনুষ্ঠানের দাওয়াতের জন্য। শেষ পর্যন্ত সেই দাওয়াত পেয়ে বন্ধুদের অভিমান ভাঙে কি না, সেটিই দেখার বিষয়!

ক্বারি বাহার উদ্দিনের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে একমাত্র সন্তান তাজমীনের দাফন, শোকে স্তব্ধ মা-বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


যশোরে একমাত্র সন্তান তাজমীনের দাফন, শোকে স্তব্ধ মা-বাবা

কুমিল্লার লালমাইয়ের ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুত তাজমীনের (১৩) মৃতদেহ যশোরে দাফন করা হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার মা-বাবা শোকে ভেঙে পড়েছেন। তারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা মেয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাজমিনকে দাফন করা হয়। গভীর রাতে তার মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ার আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা শহরে বসবাস করত তাজমিন। স্থানীয় ফরিদা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত সে। এ ঘটনায় সুমন নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালককে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায় তাজমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ হয়ে আছেন তার মা-বাবা ও স্বজনেরা।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন বলেন, "আমার কলিজার টুকরা মেয়েটা আর নেই।" সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকালে সে তাকে জানায়, বান্ধবীর সঙ্গে আছে। কেয়া খাতুন বলেন, "মাকে বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে বলে। আমি তখন তার বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার নাম জানতে চাই। কিন্তু সে কিছু বলেনি।"

মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বান্ধবীর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কেয়া খাতুন বলেন, "ওই বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হতে পারে।"

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম কুমিল্লা শহরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি প্রায় বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, "৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়।"

আবদুল আলীম বলেন, "বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে মেয়ে আমাকে মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিয়ে যেতে বলে। তখন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে মেসেজ দেখে লোকেশনে গিয়ে মেয়ের লাশ উদ্ধারের দৃশ্য দেখতে পাই।" তিনি আরও বলেন, "আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, কারা তাকে হত্যা করেছে, পুরো ঘটনা জানতে চাই।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাজমিনের আর কোনো ভাইবোন ছিল না। সে মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। বিভিন্ন ছুটিতে মা-বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসত। তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরও তাজমীন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। সে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেখান থেকে কীভাবে সে লালমাইয়ের ওই ধানখেতে পৌঁছাল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, "নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। অটোরিকশাটিকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, "কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানখেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমীন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল।"

এ ঘটনায় তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহ, ৯ অক্টোবর, ২০২৬: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি মন্তব্য করেছেন যে, খেলাধুলার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দেশের যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুস্থ এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আজ শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনি ফুটবল টূর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলার বিকাশের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সক্ষম এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। খেলাধুলা একটি জাতিকে মানসিকভাবে শক্তিশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে দর্শক, আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ফলে এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য জোরদারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলক অপসারণের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ডিএনসিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলক অপসারণের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ডিএনসিসির

ঢাকা, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মিরপুর-১০ গোলচত্বরে জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলক স্থায়ীভাবে অপসারণের কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। বরং সংস্কার কাজ শেষে নামফলকগুলোকে আরও সুন্দর, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দনভাবে স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ শুক্রবার মিরপুর-১০ নম্বরে ডিএনসিসি আয়োজিত জুলাই গ্রাফিতি রিমেক কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলক সরিয়ে ফেলা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট করতে সংস্থাটি এই বক্তব্য দিয়েছে।

সম্প্রতি মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের কারণে সেখানকার পুলিশ বক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর পুলিশ বক্সটির সংস্কার এবং মিরপুর-১০ এলাকার সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি।

চলমান সংস্কার কাজের সুবিধার্থে পুলিশ বক্সের দেয়ালে সংযুক্ত জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের নামফলকগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশনায় সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসি জানায়, নামফলকগুলো স্থায়ীভাবে অপসারণের কোন উদ্দেশ্য নেই। বরং প্রশাসকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এগুলো নতুনভাবে নকশা করে মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দনভাবে স্থাপন করা হবে। এতে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে নামফলকগুলো আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের অবদান যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা সম্ভব হবে।

জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যোদ্ধাদের অবদান স্মরণে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই নামফলকগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ডিএনসিসি।

সংস্কার কাজ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে নামফলকগুলো আরও আকর্ষণীয় ও নান্দনিকভাবে স্থাপন করা হবে। তাই সাময়িকভাবে নামফলক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে প্রকৃত বিষয়টি জানার আহ্বান জানিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এই বিষয়গুলোকে সমন্বয় করে মিরপুর-১০ গোলচত্বরকে আরও সুন্দর ও নান্দনিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার হেঁটে শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছালেন জবি শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


২২ দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার হেঁটে শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছালেন জবি শিক্ষার্থী

সুন্দরবনের দুর্গম জঙ্গল, উত্তাল নদী, কাদামাটির পথ, বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল ও পাহাড়ি জনপদ অতিক্রম করে ২২ দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার হেঁটে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচরে পৌঁছেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও পরিব্রাজক মাসফিকুল হাসান টনি। তাঁর এই পদযাত্রা শুরু হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালীর পাঁচ নদীর মুখ থেকে এবং শেষ হয় ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২ মিনিটে। ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ নামের অভিযানের মাধ্যমে তিনি উপকূলের পথে হেঁটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

টনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিব্রাজক হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো টনির এবারের অভিযানের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল হেঁটে পাড়ি দেওয়া।

সুন্দরবনের দুর্গম পথ

কৈখালী থেকে যাত্রা শুরু করার পর প্রথমেই তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছে সুন্দরবনের প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার পথ। একদিকে গভীর বন, অন্যদিকে নদী-খালের বিস্তৃত জাল। পথের সঙ্গে বদলেছে চারপাশের শব্দ, গন্ধ, মাটি ও মানুষের জীবনযাত্রা। সুন্দরবনের ওয়াপদা বাঁধের পথ ধরে হাঁটার সময় ভয়ও কাজ করেছে তাঁর মধ্যে। পথের চায়ের দোকানে বসে তিনি জলদস্যুদের নানা গল্প শুনেছেন।

সুন্দরবন পেরিয়ে সামনে এসেছে একের পর এক নদী। শিবসা, বলেশ্বর, বিষখালী, আন্দারমানিক, রামনাবাদ থেকে মহেশখালী চ্যানেল, সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ অসংখ্য নদী-নালা ও খাল-বিল পেরিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন। কিছু নদী ছিল শান্ত, কিছু ছিল উত্তাল। উপকূলে তিন নম্বর সতর্কসংকেত চলাকালে তেঁতুলিয়া ও মেঘনা নদীও পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে।

তেঁতুলিয়া নদী পার হওয়ার সময় বড় বড় ঢেউ নৌকায় আছড়ে পড়ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। পরে মাঝির দক্ষতায় নৌকাটি নিরাপদে চরফ্যাশনে পৌঁছায়। দীর্ঘ এই যাত্রায় রাঙাবালি, চরমোন্তাজ, চর বাংলা, চরফ্যাশন, মনপুরা ও হাতিয়ার মতো দ্বীপাঞ্চল পেরিয়েছেন টনি।

কখনো কাদামাটি, কখনো পাহাড়ি পথ

কখনো কাদামাটি, কখনো পাথুরে পথ, আবার কখনো ঘন জঙ্গল কিংবা বিস্তীর্ণ চর—প্রতিটি পথেই ছিল ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। মীরসরাই ও সীতাকুণ্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন জঙ্গলপথও পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। একাকী চলার পথে একবার বিশাল একটি সাপ এবং পরে শেয়ালের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। মহেশখালীর পাহাড়ি পথ পেরিয়ে একসময় তাঁর যাত্রা মিলেছে মেরিন ড্রাইভ সড়কের সঙ্গে।

উপকূলের পথে হাঁটতে গিয়ে কাছ থেকে দেখেছেন জেলেদের মাছ ধরার ব্যস্ততা, শুঁটকি তৈরির প্রস্তুতি এবং উপকূলীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন। একেক অঞ্চলের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা ও পথের বৈচিত্র্য তাঁর দীর্ঘ যাত্রাকে অভিজ্ঞতাবহুল করে তুলেছে।

অভিযানের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কালের কণ্ঠকে টনি বলেন, ‘বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল পেরিয়ে প্রথমবারের মতো দেশের সমগ্র উপকূল হেঁটে পাড়ি দিয়ে নাফ নদীর পাড়ে পৌঁছেছি। দীর্ঘ ২২ দিনের এই যাত্রায় নানা বাধা, ভয় ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পথে শত শত গ্রাম, পাড়া-মহল্লা পেরিয়েছি। বলেশ্বর, বিষখালী, মোংলা, আন্দারমানিক ও মেঘনার মতো নদীপথ এবং বিভিন্ন দ্বীপাঞ্চল অতিক্রম করতে হয়েছে। প্রতিটি পথের অভিজ্ঞতা আলাদা, আর কিছু মুহূর্ত ছিল সত্যিই ভয়ংকর।’

অভিযানের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে টনি বলেন, ‘সুন্দরবনের দুর্গম পথ, উত্তাল নদী, বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল এবং জনপদের পর জনপদ পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কখনো প্রতিকূল আবহাওয়া, কখনো বন্য প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার ভয়, আবার কখনো উত্তাল নদী পাড়ি দেওয়ার সময় জীবন নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হয়েছে। তবুও সব বাধা অতিক্রম করে দেশের সর্বদক্ষিণের অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের শেষ প্রান্ত ঘোলারচরে পৌঁছাতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘এই অভিযান শুধু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা নয়, বরং দেশের উপকূলীয় জনপদ, মানুষের জীবনযাত্রা, প্রকৃতি ও বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে জানার এক অসাধারণ সুযোগ। সব ভয় ও প্রতিকূলতা জয় করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আনন্দ সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

ঘোলারচরে এসে থামল যাত্রা

দীর্ঘ ২২ দিনের অভিযান শেষে গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২ মিনিটে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচরে পৌঁছান টনি। শেষ দিনের যাত্রার আগে রাত সাড়ে ৩টা থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। ভোরে শুরু হয় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, আকাশও ছিল কালো মেঘে ঢাকা। তবু বৃষ্টি মাথায় নিয়েই হাঁটা শুরু করেন।

জাহাজপুরা থেকে যাত্রা করে হাজমপাড়া, মারিস বুনিয়া, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া, নোয়াখালী পাড়া, হাবিব ছড়া ও টেকনাফ সমুদ্রসৈকত পেরিয়ে এগিয়ে যান শাহপরীর দ্বীপের দিকে। পরে সাবরাং বেড়িবাঁধের শূন্য পয়েন্ট পেরিয়ে বালুর পথ ধরে পৌঁছান দ্বীপে। সেখান থেকে দক্ষিণ পাড়া পেরিয়ে ঘোলারচরের শেষ প্রান্তে যেতে আরও পথ হাঁটতে হয়। জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকা পথ এড়িয়ে তাঁকে ঘুরে যেতে হয় বেশ খানিকটা। প্রায় আধা ঘণ্টা বালুর পথ পেরিয়ে অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছান তিনি।

সেখানে দাঁড়িয়ে সামনে দেখেছেন বিশাল বঙ্গোপসাগর, আর নাফ নদীর ওপারে দেখা গেছে মিয়ানমারের ভূখণ্ড। দেশের সর্বদক্ষিণের অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তাঁর মনে ভেসে ওঠে গত ২২ দিনের অসংখ্য স্মৃতি।

হিসাবের খাতায় ৭৮৩ কিলোমিটার। কিন্তু এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুন্দরবনের ১৬৫ কিলোমিটার দুর্গম পথ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় নদী পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা, কাদা-পাথর-জঙ্গল-পাহাড়ের চ্যালেঞ্জ, অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচয় এবং উপকূলের জীবনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ। দীর্ঘ এই অভিযানের মধ্য দিয়ে ঘোলারচরে এসে শেষ হয়েছে টনির পদযাত্রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%