ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী


বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

আজ সকালে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হল আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও অনেকে বাংলায় কথা বলতে পারেন, তবে আমাদের মনোজগত ও সংস্কৃতির মধ্যে একটি মৌলিক ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যকে যারা আড়াল করতে চান তারা হয় বোকা, না হয় কোনো সুদূরপ্রসারী দুরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে গঠিত নতুন আত্মপ্রকাশকৃত সংগঠন ‘আমরা বাংলাদেশি’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোনো বাঙালিকে তার বাঙালিত্বের সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য সীমান্তের ওপারে অন্য কারো কাছে ধার করতে হবে না।’

তিনি ইতিহাসের বিবর্তন তুলে ধরে বলেন, জাত-পাতের কাঠামোর কারণে এ অঞ্চলে সনাতন ধর্মের পর বৌদ্ধ ধর্ম এবং পরবর্তীতে ইসলামের সাম্যবাদের আলোকে এ দেশের মানুষ যেভাবে দলে দলে ধর্মান্তরিত হয়ে পবিত্র কোরআনকে গ্রহণ করেছেনÑতা এক ঐতিহাসিক সত্য। এই বিবর্তনই আমাদের সংস্কৃতিকে একটি অনন্য স্বকীয়তা দিয়েছে, যার নাম ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এই সত্যকে উন্মোচিত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, যা আমাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্পষ্ট করে দেয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষের যে সাজানো ও কৃত্রিম মেরুকরণ, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ তা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। স্বৈরাচারী আমলে দেশের রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে মেরুকরণ করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশ যখন সংকটে ছিল, তখন তারেক রহমান প্রবাস জীবন থেকেই স্লোগান তুলেছিলেন- ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজপথেই স্বৈরাচারের ভবিষ্যৎ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে যারা বিকৃতি ঘটাতে চায় কিংবা কৃত্রিম চরিত্র তৈরি করে বিশাল নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়, তাদের পরিণতি ভালো হয় না। ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে, তখন বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা জনগণকে বাদ দিয়ে নির্বাচনকে অন্ধকার গলিতে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, তাদের সমস্ত চক্রান্ত নস্যাৎ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা আদায় করতে পেরেছি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখন জনগণের পরিচ্ছন্ন ম্যান্ডেটের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করছে। ফলে দেশের পার্লামেন্ট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে একটি কার্যকর ও ‘ভাইব্রেন্ট পার্লামেন্ট’ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ‘সার্ক’-ই হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মূল ভিত্তি। সার্কের ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বাইরে অন্য কোনো শক্তির ওপর ভর করে কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হলে, তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে।

বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মোমিনুল আমিন ও বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খাঁন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গহনা কেলেঙ্কারিতে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ১২ লাখ ইউরো জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


গহনা কেলেঙ্কারিতে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ১২ লাখ ইউরো জব্দ

স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ সাপাতেরো বর্তমানে নতুন একটি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। তার কাছ থেকে বিলাসবহুল ঘড়ি ও গহনার উদ্ধারের পর এই নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে।

সাপাতেরো ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক সরকার পরিচালনা করেছেন এবং তিনি বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে একটি প্রভাবশালী ব্যক্তি। এর আগে, ২০২১ সালে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা প্লাস আলট্রাকে দেওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তা (বেইলআউট) নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগের জন্যও তিনি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন।

সেই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে তার অফিসে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। স্প্যানিশ গণমাধ্যম সূত্রে জানানো হয়েছে, সেখানে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি এবং কানের দুল উদ্ধার হয়েছে।

সাপাতেরোর মুখপাত্র লুইস আরোয়ো জানিয়েছেন, তিনি বিচারকের সামনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গহনার মধ্যে জিম্বাবুয়ে বা থাইল্যান্ড থেকে আসা স্বর্ণ, নীলকান্তমণি ও পান্না রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব গহনার শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে না পারার কারণে সাপাতেরোকে কর ফাঁকি ও চোরাচালানের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠদের পূর্বে জানিয়েছিল যে, এসব জিনিস কর্মরত পরিবার থেকে প্রাপ্ত।

তিনি এ মাসের শেষ দিকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছেন।

স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটাই প্রথম যে কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় আনা হলো। অন্য কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিতে তলব করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে এমন আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি। এই ঘটনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টির সঙ্গে চলে আসা বিতর্কের সর্বশেষ সংযোজন। সাপাতেরো দলের একজন প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

প্লাস আলট্রা মামলায় সাপাতেরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২১ সালে বিমান সংস্থাটির জন্য ৫৩ মিলিয়ন ইউরোর সরকারি বেইলআউট অনুমোদন দিতে নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন নিয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে এসেছেন এবং দাবি করেছেন, প্লাস আলট্রা থেকে তিনি কখনো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

কভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার জন্য গঠিত একটি সরকারি তহবিল থেকে ওই বেইলআউট অনুমোদন করা হয়েছিল। গত মাসে কথিত দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সোশ্যালিস্ট পার্টির মাদ্রিদ সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথি জব্দ করেছে।

এছাড়া দলের এক শীর্ষ নেতা এবং একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী ও ভাইসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জানালেন তুলসি গ্যাবার্ড

মার্কিন অর্থায়নে বিশ্বজুড়ে ১২০ বিপজ্জনক ল্যাবে চলত ভয়ঙ্কর রোগ নিয়ে গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


মার্কিন অর্থায়নে বিশ্বজুড়ে ১২০ বিপজ্জনক ল্যাবে চলত ভয়ঙ্কর রোগ নিয়ে গবেষণা

মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের সাবেক পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড দাবি করেছেন, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে (বায়ো-ল্যাব) ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়ন করে এসেছে।

নতুনভাবে অবমুক্ত করা কিছু নথির বরাত দিয়ে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। এসব গবেষণাগারের বেশিরভাগেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতিসংক্রামক জীবাণু বা প্যাথোজেন নিয়ে গবেষণা চালানো হতো।

অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ওডিএনআই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাস বা জীবাণুর কার্যক্ষমতা ও সংক্রমণ যোগ্যতা বৃদ্ধির কৃত্রিম গবেষণা) পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

গ্যাবার্ডের অভিযোগ, এই জটিল গবেষণাগুলো অত্যন্ত নামমাত্র বা সামান্য নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হতো।

তুলসি গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ওডিএনআই সরকারের অন্য অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে এই ল্যাবগুলো কোথায় অবস্থিত এবং সেখানে কী ধরনের প্যাথোজেন রয়েছে তা শনাক্ত করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা এই বিপজ্জনক গেইন-অব-ফাংশন গবেষণা বন্ধ করতে চাই, যা মার্কিন জনগণসহ বিশ্ববাসীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।"

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ইউক্রেনের ৪০টিরও বেশি গবেষণাগার সাবেক সোভিয়েত আমলের জৈব যুদ্ধাস্ত্রের প্যাথোজেন নিয়ে কাজ করার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ল্যাবগুলোতে অ্যানথ্রাক্স, ইবোলা, মার্স, সার্স এবং প্লেগের মতো মারাত্মক সংক্রামক জীবাণু (বিশেষ বিপজ্জনক প্যাথোজেন বা ইডিপি) নিয়ে গবেষণা করা হতো বলে ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের খেরসন ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট জীবাণু নিয়ে কাজ করার অনুমোদন ‘প্রক্রিয়াধীন’ থাকা অবস্থাতেই এই গবেষণাগারটি ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৮২২ ডলারের মার্কিন তহবিল পেয়েছিল।

এই গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণায় মার্কিন ফেডারেল অর্থায়ন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ৯ মাসেও ওয়ার্ক পারমিট অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


সৌদি পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, ৯ মাসেও ওয়ার্ক পারমিট অনিশ্চিত

মো. সোহাগ মিয়া এবং রহমতউল্লাহ মনির সৌদি আরবে গিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরা দুজন প্রায় ৯ মাস আগে সৌদি আরবে গেছেন এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রতারণার বিষয়ে তাদের অভিযোগ রয়েছে।

সোহাগ মিয়ার বাড়ি নওপাড়া গ্রামে এবং রহমতউল্লাহ মনিরের বাড়ি দক্ষিণ সাটিহারী গ্রামে। সৌদি আরব যাওয়ার পর আকামা এবং কাজের আশ্বাস দিয়ে তাদের সেখানে নেওয়া হলেও এখনো কিছুই দেওয়া হয়নি। এর ফলে তারা বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠের প্রতিবেদকের সাথে কথা বলে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানায় সোহাগ ও রহমতউল্লাহ। তারা জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বটতলা কুল্লাপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকেন এবং ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তারা।

ভুক্তভোগীদের মতে, আশরাফুল সৌদি আরবে তার বাবা বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে মানবসম্পদ পাঠানোর কাজ করেন। ৯ মাস আগে, সোহাগ ও মনিরসহ অন্যান্যদের সে দেশের জন্য নিয়ে যাওয়ার জন্য বিল্লাল হোসনের কাছে প্রতি জন চার লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা করেন তারা। আশা ছিল, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের কাজে লাগানো হবে এবং আকামা দেওয়া হবে। সোহাগের জন্য গাড়ি ধোয়ার কাজ এবং মনিরের জন্য ফুড ডেলিভারির কাজের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার পর দুই মাস পার হয়ে গেলেও আশরাফুল তাদের কোন কাজ দেননি। পরবর্তীতে তারা নিজেদের উদ্যোগে কার্পেট ধোয়ার কাজ সংগ্রহ করেন। তবে ৯ মাসেও আকামা না পাওয়ার কারণে তারা গোপনে সেখানে বসবাস ও কাজ করছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করার পরও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আকামা না থাকায় আমরা ভালো কাজ পাই না এবং কাজের সঠিক মূল্য পাই না। পুলিশ ভয়ের কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারি না। বাজার করতে যেতে পারি না এবং অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী আকামা না থাকলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এক মাসের জেল দেয় এবং এক মাস জেলে থাকার পর তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়।’

রহমতউল্লাহ মনির জানান, ‘আমাকে নিয়ে যাওয়ার দুই মাস পর আশরাফুল একটি কাজ দিয়েছিল। কিন্তু আকামা না থাকার কারণে সে তার খালাতো ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করে। আমার প্রথম মাসের কাজের জন্য কমপক্ষে এক লাখ টাকা ছিল, কিন্তু সেই অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে কম টাকাই দেওয়া হয়।’

ভুক্তভোগী সোহাগ ও মনিরের দাবি, তারা সৌদি আরবে যাওয়ার আগে সব টাকা বিল্লালের কাছে দিয়েছিলেন এবং টাকা বাকি থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয়রা এই বিষয়টির সালিসের আয়োজন করেছিলেন, কিন্তু আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

এ বিষয়ে সৌদি আরবে থাকা আশরাফুলের সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আশরাফুল যাদের সৌদি আরবে নিয়েছে, তাদের কিছু টাকা বাকি আছে। এজন্য আকামা দেওয়া হয়নি। টাকা পাওয়ার পর তাদের আকামা দেওয়া হবে।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, ‘এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে নারীকে পেটালেন যুবদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে নারীকে পেটালেন যুবদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক নারীকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা মো. সফিকের (৩৮) বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই গ্রামের মো.খলিল ড্রাইভারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং একই এলাকার মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।

ভুক্তভোগী খুকি অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী গত দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও বেতন পাননি। বেতন চাইতে গেলে সফিক দাবি করেন, তার স্বামী ইয়াবা সেবন করে সব টাকা খরচ করেছেন। ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় তাদের পরিবারকে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এরপর তিনি স্বামীকে সফিকের কাজে যেতে নিষেধ করেন, যা নিয়ে সফিক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, শনিবার সকালে বাড়ির পাশের নদীতে বসানো একটি রিং জাল সফিক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় সফিক তার স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তার ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তার স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।

খুকি আরও অভিযোগ করেন, সফিক তার প্রজেক্টে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার স্বামীকে দিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করাতেন। আবার হিসেবে গরমিল হলে বেজায় গালমন্দ করতেন। সব সময় তার প্রজেক্টে ১০-১৫ টি মোটরসাইকেল থাকে। প্রায় সেখানে হরেক রকম মাদকের আসর বসে।  

অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সফিক বলেন, খুকির পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে তার স্বামী আমার বোনের বসত ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন, আমার মাছ চুরি করেন। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার পথে খুকি ও তার স্বামী আমাকে আক্রমণ করে এবং আমার নাক ফাটিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%