ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুলাই বিপ্লবোত্তর চাকসুর সফলতা ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ


জুলাই বিপ্লবোত্তর চাকসুর সফলতা ও ব্যর্থতা বিশ্লেষণ

‘৯টি ফোকাস পয়েন্ট ও ১২ মাসে ৩৩ সংস্কার’Ñএই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের জন্য ইশতেহার ঘোষণা করেছিল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। আবাসন ও যাতায়াত সংকট সমাধান, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, অটোমেশন, নারীবান্ধব ক্যাম্পাস, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৩৩টি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্যানেলটি।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সপ্তম চাকসু নির্বাচনে ২৬ পদের মধ্যে ২৪টিতে জয়ী হন এই প্যানেলের প্রার্থীরা। পরে ২৩ অক্টোবর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন শুরু করেন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা। গত ২৩ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষে কিছু বিষয়ে সফলতা থাকলেও, ইশতেহারের পূর্ণ বাস্তবায়ন তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

চাকসু নেতাদের দেওয়া তথ্য, দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এক বছরের কার্যক্রমে অনেক ছোট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলেও বড় প্রতিশ্রুতিগুলো এখনো পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে। চাকসু নেতারা মনে করেন, বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এক বছর যথেষ্ট সময় নয়।

আরও পড়ুন: হাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াডের রংপুর অঞ্চলের সেরা দশে

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট সমাধানে হলগুলোতে বর্ধিত অংশ ও টিনশেড নির্মাণের মাধ্যমে অন্তত ১০ শতাংশ নতুন আবাসন বাড়ানোর পাশাপাশি বহুতলবিশিষ্ট নতুন হল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। তবে দায়িত্বের এক বছর পার হলেও এসব প্রতিশ্রুতি পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি।

চাকসু নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নতুন করে মাত্র ২০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা বাড়াতে অবকাঠামোগত সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, এক হাজার আসনের একটি ছাত্রী হল নির্মাণের বাজেট অনুমোদন এবং ১০ তলাবিশিষ্ট পাঁচটি ছাত্র হল ও পাঁচটি ছাত্রী হল নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যাতায়াতব্যবস্থায় অগ্রগতি

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে শাটল ট্রেনের সংখ্যা ও বগি বাড়ানো, শহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত রেলের দ্বিতীয় লাইন স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ, শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ চালু, ই-কারের সংখ্যা বাড়ানো, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শাটল বাস এবং পাশের উপজেলাগুলোতে বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল।

আরও পড়ুন: কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩০ ধাপ পেছাল চুয়েট, ৪১৫তম স্থানে

এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে চাকসু। তবে রেলের দ্বিতীয় লাইন স্থাপনের প্রস্তাব রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন পেলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। পাশাপাশি বিনামূল্যে শাটল বাস সার্ভিস চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানা গেছে।

স্বাস্থ্যসেবা এবং সুযোগ-সুবিধায় অগ্রগতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা, চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপারেশন থিয়েটার স্থাপন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল হেল্পলাইন চালুসহ বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্যানেলটি।

প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিনামূল্যে প্রায় ৪,০০০ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে এবং ১২টি আবাসিক হলে মেডিসিন কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা সাময়িকভাবে বহিষ্কার

পাশাপাশি তিনটি অ্যাম্বুলেন্স বৃদ্ধি, মিনি অপারেশন থিয়েটার চালু, ওষুধের পরিমাণ ও বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নারী-পুরুষ চিকিৎসকসহ ২০টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ ও স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন চাকসু নেতারা।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং, ক্যান্টিন ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার হোটেলগুলোতে খাবারের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা এবং বিভিন্ন আবাসিক হলে ডিপ ফ্রিজ ও বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন এবং তিন অনুষদের ক্যান্টিনে পৃথক ফিমেল জোন চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নারীদের নামাজের স্থান, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল শক্তিশালী এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধে পৃথক সেল গঠনের উদ্যোগও নিয়েছে প্যানেলটি।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নামাজের স্থান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে জেনারেটর এবং পর্যাপ্ত ফ্যান ও লাইট সংযোজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইবিতে ফুলকুঁড়ি আসরের শিশু-কিশোর সমাবেশ ও পুরষ্কার বিতরণী

১৪টি হলের লাইব্রেরিতে চাকরির প্রস্তুতিমূলক এবং উচ্চশিক্ষাবিষয়ক বই সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তিনটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ ও দুটি ফটোকপি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। তিন হলের রিডিংরুমে এসি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি নির্মাণের বাজেট অনুমোদন হয়েছে। আবাসিক হলে প্রয়োজনীয় শরীরচর্চা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি বিভাগের ল্যাবরেটরির উন্নয়নে দুই কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা এবং ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে ইসলামী ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, সার্টিফিকেট উত্তোলনসংক্রান্ত সফটওয়্যার ও ১০টি উচ্চ কনফিগারেশনের কম্পিউটার নিয়ে ডিজিটাল লার্নিং হাব স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের জন্য মাসিক বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

তবে চাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। এছাড়া ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অন-ক্যাম্পাস জব চালু এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সিকিউরিটি ফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।

আরও পড়ুন: জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডে সেরা ১০-এর মধ্যে বেরোবির ৫ শিক্ষার্থী

যা বলছেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা

শিক্ষার্থীরা জানান, চাকসু নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। এছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে চাকসু নেতাদের কাছে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হয়েছে। তবে আবাসন সংকট সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা হতাশ।

ছাত্রশিবির প্রতিশ্রুতির নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে উল্লেখ করে সপ্তম চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, তারা ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সংকট সমাধান, উপজেলাভিত্তিক বাস চালু ও মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল করার ইশতেহার বাস্তবায়ন করেনি। নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। তারা মূলত চাকসুর মাধ্যমে তাদের মাদার পার্টিকে সার্ভ করেছে।

শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি রোমান রহমান বলেন, চাকসুর সদ্য সাবেক কমিটি চাকসু নির্বাচন একাডেমিক ক্যালেন্ডারভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে চাকসুকে আমি আংশিক সফল বলব। তারা এক বছর সময়ের মধ্যে কিছু কাজ করেছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে জাবি ছাত্রদলের রচনা প্রতিযোগিতা

চাকসুর সাঈদ বিন হাবীব বলেন, আমরা আমাদের ইশতেহারের সব বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। কিছু কাজ হয়তো ছয় মাস কিংবা এক বছর পর দৃশ্যমান হবে। আমরা ইশতেহারের বাইরে গিয়ে কয়েকটি হলের রিডিংরুমে এসিও স্থাপন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া বাজেটের বাইরেও স্পন্সর ম্যানেজ করে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে এসব কাজ সম্পন্ন করেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুরে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


সৈয়দপুরে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

বকেয়া বেতনের দাবিতে সৈয়দপুরের একটি প্লাইউড কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের কামারপুকুর ধলাগাছ এলাকায় আহমেদ প্লাইউড কারখানার সামনে এই অবরোধটি ঘটে। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে।

তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের নিকটবর্তী দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত আহমেদ প্লাইউড কারখানায় প্রায় দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। ৩ নভেম্বর কাস্টমস ও ভ্যাট এক্সাইজ রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল কারখানার বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করে। তারা অধিকতর তদন্তের উদ্দেশ্যে সেখানকার প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র ও কম্পিউটার (ল্যাপটপ) জব্দ করে নিয়ে যায়। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, কাস্টমসের নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার কারণে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান সম্ভব হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত দিনে বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা কারখানার প্রধান ফটক সংলগ্ন রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে এসে সড়ক অবরোধ করেন এবং বেতনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতা ও আশ্বাসের মাধ্যমে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে দাঁড়ান। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ এম


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে কেক কাটা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের করণীয়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্স হলের সামনে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আকবর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মো. ফরহাদ উদ্দীন এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ববিসাসের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম।

প্রধান আলোচক আকবর হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গণতান্ত্রিক চর্চা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা অন্য পেশার মতো নয়; এই পেশায় আসার পর কেউ প্রশংসা করবে, আবার কেউ নিন্দা করবে—দুটোই গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠতা বজায় থাকলে ব্যক্তিগত মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও সবার প্রতি ন্যায়বিচার করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, একজন সাংবাদিকের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সততা ও পেশাদারিত্ব। এই পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সাংবাদিক সরকার ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে পারেন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেন। গণমাধ্যমের সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ তার বক্তব্যে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সত্য ঘটনা তুলে ধরার জন্য।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা এবং বরিশাল শহরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল বিএম কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এরপর ববিসাসের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম সবাইকে অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ববিসাসের সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশের ববি প্রতিনিধি মাসুদ রানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় রাফিনিয়ার নতুন চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ এম


২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় রাফিনিয়ার নতুন চুক্তি

রাফিনিয়া বার্সেলোনার সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ আরও সুদৃঢ় করেছেন। কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে নতুন চার বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, যার ফলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাকে বার্সার জার্সিতে দেখা যাবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০২২ সালের গ্রীষ্মে লিডস ইউনাইটেড থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেন রাফিনিয়া। চার বছর ধরে ক্লাবের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন এই উইঙ্গার, এবং এবার তিনি ক্যাম্প ন্যুয়ে আরও চার বছরের জন্য থিতু হলেন।

নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে রাফিনিয়া তার আবেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাব ও কোচের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে মেলে ধরতে পারলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কিছুদিন বার্সায় খেলে যেতে চাই।"

চুক্তি নবায়নের সময় রাফিনিয়ার জন্য আরও আনন্দের কারণ, কারণ তিনি চলতি মৌসুমে অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ১৯, যার মধ্যে ১৫টি এসেছে লা লিগায়, যা দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বার্সেলোনার হয়ে রাফিনিয়া মোট ৯৪ গোল করেছেন। এই সময়ে তিনি তিনটি লা লিগাসহ মোট সাতটি শিরোপা জিতেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুলবাড়ীতে সুস্বাদু আনারকলি চাষে সফলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ এম


ফুলবাড়ীতে সুস্বাদু আনারকলি চাষে সফলতা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আনারকলি চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন আহমেদ রিপন। সুস্বাদু এই ফলের চাষ প্রথমবারের মতো শুরু হওয়ায় ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুর গ্রামের রায়হান আহমেদ রিপন ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি এই ফল চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছেন।

জানা যায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমেদ রিপন কয়েক বছর আগে কক্সবাজারে ভ্রমণের সময় রাস্তার পাশে আনারকলি ফল বিক্রি করতে দেখে ৫০ টাকায় একটি ফল ক্রয় করেন। ফলটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় তিনি সেই ফলের বীজ নিয়ে এসে বপন করেন।

তবে প্রথমে তিনি তেমন ফল পাননি। কোনো রকমে বীজ থেকে চারা গজালেও গাছ দুর্বল হয়ে মারা যায়। কিন্তু রিপন হাল ছাড়েননি। গত বছরের ডিসেম্বরে কক্সবাজার থেকে ৯০০ টাকায় দুটি চারাগাছ কিনে নিজের জমিতে রোপণ করেন। ইউটিউব দেখে তিনি পরিচর্যা শুরু করেন। দিন দিন আনারকলি গাছ শাখা-প্রশাখায় ভরে ওঠে। মাত্র সাত মাসের মধ্যে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে।

সরেজমিনে রিপনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চার শতাংশ জমিতে মাত্র দুটি আনারকলি গাছ লাগানো হয়েছে। লতানো গাছের মাচায় ঝুলছে শত শত আনারকলি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক ফলপ্রেমী ও উদ্যোক্তারা রিপনের বাড়িতে ভিড় করছেন। দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের আনাগোনায় তিনি বিরক্ত নন। হাসিমুখে সবাইকে আনারকলি চাষ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। আগতদের আনারকলি খাইয়ে এর স্বাদ ও উপকারিতা সম্পর্কেও জানাচ্ছেন।

রিপনের প্রতিবেশী মুক্তি চক্রবর্তী জানান, এই এলাকায় আনারকলি চাষ এবারই প্রথম। এটি মূলত পাহাড়ি এলাকার ফল। এখানকার উর্বর মাটিতে গাছটি বেশ হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্যিকভাবে এটি লাভজনক হবে।

উদ্যোক্তা রায়হান আহমেদ রিপন বলেন, কক্সবাজারে ভ্রমণের সময় তিনি এই ফল খেয়েছিলেন। গত বছর এর বীজ এনে বপন করেছিলেন, কিন্তু সফলতা পাননি। পরে ডিসেম্বর মাসে পরিচিত একজনের মাধ্যমে ৯০০ টাকা দিয়ে দুটি চারা সংগ্রহ করেন। মাত্র সাত মাসে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। প্রায় প্রতিদিনই ফল কিনতে পাইকাররা বাড়িতে আসছেন। প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন তারা। তবে তিনি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।

গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ফলে তেমন কোনো রোগবালাই নেই। গাছ রোপণের সময় জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। পরে পাতার পচন রোধে দু-একবার এমিস্টার টপজাতীয় ওষুধ স্প্রে করতে হয়। ফুল এলে মাছি দমনের জন্য ফেরোমোন ফাঁদ দিতে হয়।

ফুল ফুটলে পুরুষ ফুলের পরাগ স্ত্রী ফুলে সংস্পর্শ করাতে হয়। এতে ফলন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যথায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ফুল ফলে পরিণত হতে পারে। শুধু শীতের তিন মাস ছাড়া সারা বছর আনারকলি উৎপাদন করা সম্ভব। একটি গাছ একটানা ১০ বছর ফল দেয়।

বর্তমানে বাজারে প্রতিটি ফল ৫০ এবং প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার দুটি গাছে এবারই প্রথম ফল এসেছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ফল পেয়েছি। গাছে এখনো শত শত আনারকলি রয়েছে।’

নতুন উদ্যোক্তাদের কথা চিন্তা করে নিজেই গাছের চারা উৎপাদন করেছেন বলে জানান রিপন। এ পর্যন্ত ৩০০টির বেশি চারা প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি চারা ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। নিজের এক বিঘা জমিতেও চারা রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তার মতে, এলাকার মাটি উর্বর হওয়ায় প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০টি চারাই যথেষ্ট। এক বিঘা জমি থেকে বছরে ১৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আবদুল্লাহ মুস্তাফিন বলেন, ফুলবাড়ীর মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে এর আগে আনারস, এমনকি সৌদি আরবের খেজুরও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%