ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

হাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াডের রংপুর অঞ্চলের সেরা দশে


হাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াডের রংপুর অঞ্চলের সেরা দশে

১৭তম জাতীয় স্নাতক (অনার্স) গণিত অলিম্পিয়াড-২০২৬-এর রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক বাছাইপর্বে সেরা দশে স্থান অর্জন করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম ভবনে হাবিপ্রবির গণিত বিভাগের আয়োজনে রংপুর অঞ্চলের এই আঞ্চলিক বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১০৭ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন, যার মধ্যে ১০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন হাবিপ্রবির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার অ্যানী। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল হাসান এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসিফ হাসান।

আরও পড়ুন: কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩০ ধাপ পেছাল চুয়েট, ৪১৫তম স্থানে

এ ছাড়া হাবিপ্রবি থেকে যথাক্রমে ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম স্থান অধিকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সানোয়ার হোসেন, মো. মাহফুজ আহমেদ এবং জান্নাতুল মাওয়া বাঁধন। সব মিলিয়ে সেরা ১০ জনের মধ্যে হাবিপ্রবির পাঁচজন শিক্ষার্থী স্থান করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামউল্ল্যা বলেন, ‘গণিত আমাদের পড়াশোনা ও গবেষণার একটি অত্যন্ত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্সসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রকৃত উন্নতি করতে হলে গণিতের ভিত্তি আরও মজবুত করতে হবে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে মেধাবী ও গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই দেশের ভবিষ্যৎকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করা সম্ভব।’

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই লিখিত পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ সমস্যা সমাধানভিত্তিক গণিতের প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ী সেরা দশে চারজন নারী শিক্ষার্থীও স্থান পেয়েছেন।

আঞ্চলিক পর্বের কনভেনর ও হাবিপ্রবির গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম জানান, সেরা দশে স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে এবং তাঁরা আগামী জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করবেন। আগামী ৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মূল আয়োজন আগামী বছর কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা সাময়িকভাবে বহিষ্কার

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতির উদ্যোগে দেশব্যাপী স্নাতক পর্যায়ে এই গণিত অলিম্পিয়াড নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে আমেরিকা প্রবাসী নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


সিলেটে আমেরিকা প্রবাসী নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কায়স্থরাইল এলাকায় মো. নুরুল ইসলাম (৬৫) নামের এক আমেরিকা প্রবাসীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে, দক্ষিণ সুরমার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের পাশে রান্নাঘরে ব্যবহৃত একটি দা পাওয়া যায়।

নুরুল ইসলাম দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কায়স্থরাইল এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নুরুল ইসলাম আত্মহত্যা করতে পারেন।

স্থানীয় লোকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, ফজরের নামাজ পড়ে নুরুল ইসলাম তার স্ত্রীসহ আবার ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে, স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে নুরুল ইসলামকে বিছানায় না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাসার দ্বিতীয় তলার বাথরুমে তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। স্ত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নুরুল ইসলাম আত্মহত্যা করতে পারেন। এর আগেও তিনি গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় বাসার ভেতর কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি।’

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ এম


সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।”

আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।”

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—“অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ।” তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—“দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”

৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে অবরোধের কারণে বৌদ্ধ বিহারে চীবর দানোৎসব স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ এম


সাজেকে অবরোধের কারণে বৌদ্ধ বিহারে চীবর দানোৎসব স্থগিত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বনানী বন বিহারে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, অবরোধের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ভিক্ষু-শ্রমণ, দায়ক-দায়িকা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের পক্ষে এতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাঘাইহাট বনানী বন বিহারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বনানী বন বিহারে ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনিবার্য কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২ নভেম্বর কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির এক সিদ্ধান্তক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সব দায়ক-দায়িকা, ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকা, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের বিষয়টি অবগত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাঘাইহাট বনানী বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, "সাজেকের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কঠিন চীবর দানোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে কমপক্ষে ১০ হতে ১৫ দিন আগে থেকে প্রস্তুতি লাগে। কিন্তু সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মানুষজনের উপস্থিতিও কম, সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, বাজারও মিলছে না।" এসব কারণে এবারে কঠিন চীবর দানোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সন্তু লারমা গ্রুপের জেএসএস সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে নিতে ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে ১৪তম দিন শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধ পালিত হয়েছে। অবরোধটি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, "সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালিত হয়েছে।" তিনি জানান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি মাঝেমধ্যে চলাচল করলেও বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি।

উল্লেখ্য, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সড়কে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন।

বিক্ষুব্ধদের ৫ দফা দাবির মধ্যে চার দফা দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে একমত না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে আলোচনা চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর ক্যানসার জয়ী ব্লেয়ার টিকনারের নতুন জীবনবোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ এম


স্ত্রীর ক্যানসার জয়ী ব্লেয়ার টিকনারের নতুন জীবনবোধ

নিউজিল্যান্ডের পেসার ব্লেয়ার টিকনার ক্যারিয়ারের শুরুতে পারফরম্যান্সের চাপ এবং প্রত্যাশার বেড়াজালে বন্দি থাকতেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি আর সেভাবে ভাবেন না। স্ত্রীর ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই তার জীবনবোধকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করেছে। এখন তার কাছে ক্রিকেট শুধুমাত্র উপভোগের একটি মাধ্যম, এবং জীবনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো পরিবার।

৩৩ বছর বয়সি এই পেসার ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার জীবনের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শেয়ার করেছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে টিকনারের স্ত্রী সারাহর লিউকেমিয়া (রক্তের ক্যানসার) ধরা পড়ে। এরপর টানা আট মাস ধরে চলে তার জীবনযুদ্ধ। ওই বছরের বড়দিনের আগের দিন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন সারাহ। বর্তমানে রোগটি প্রশমিত অবস্থায় রয়েছে। স্ত্রীর সেই কঠিন সময়টি টিকনারের জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় ছিল।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে টিকনার বলেন, ‘আমার জীবনটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। পুরোটা সময়ে সারাহ ও আমার পরিবারকে পাশে পাওয়া অসাধারণ ব্যাপার। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি অনেক চাপ অনুভব করতাম। এরপর সারাহর ক্যানসারের চিকিৎসার কঠিন সময় এসেছে। আর এখন মনে হচ্ছে, জীবনের নতুন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছি। জীবনে অনেক কিছুই ক্রিকেটের চেয়ে বড়। এই কঠিন সময় আমাকে সেই উপলব্ধিটাই দিয়েছে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি সব সময় মুখে হাসি নিয়ে খেলতে চেষ্টা করি। কারণ জীবনটা যে শুধু ক্রিকেট নয়, সেটা আমি বুঝেছি। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু দিন শেষে আমি যখন বাড়ি ফিরি, তখন আমার স্ত্রী ও মেয়েকে পাশে পাই। তাদের নিয়ে আমি ভীষণ সুখী এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তাই আমার কাছে ক্রিকেটের চেয়েও পরিবার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড দল খুব একটা ভালো করতে পারেনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে কিউইরা। তবে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ এক ইনিংস খেলে সমর্থকদের চমকে দেন টিকনার। মাত্র ২৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলার সঙ্গে শেষ উইকেটে জ্যাকব ডাফির সঙ্গে গড়েন মূল্যবান ৪১ রানের জুটি।

ব্যাটিংয়ে এমন দারুণ পারফরম্যান্সের পর রসিকতা করতেও ছাড়েননি এই পেসার। মজা করে নিজের ব্যাটিং অর্ডার আরো ওপরে তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়ে টিকনার বলেন, ‘মাঠে নামার আগে কয়েকটি কথা হয়েছিল। গতবার এখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করেছিলাম। তাই ডাফিকে একটু খোঁচা দিয়েছি। ১০ নম্বরে উঠতে পারলে খুশি হব। তবে ধীরে ধীরে তিন নম্বরেও যেতে চাই।’

এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনের ম্যাচে বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার সঙ্গে অপরাজিত ১৮ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি।

ভারতের বিপক্ষে আসন্ন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বোলারদের সহায়ক উইকেট চান টিকনার। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পিচ থেকে বোলাররা বাড়তি সুবিধা পাবে। টিকনারের ভাষায়, ‘বোলার হিসেবে আমি এমন উইকেটই চাই। ৪০০ রান তাড়া করে আরেকটি ৪০০ রানের ম্যাচ দেখতে চাই না। আশা করি, এবার বাড়তি বাউন্স থাকবে এবং পিচ থেকে বল কিছুটা নড়াচড়াও করবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%