০৬:১০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। দেশের যুব সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার, চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী এর প্রকোপ কম-বেশি থাকলেও এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব? কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের সক্ষমতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এর সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশ: মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হল খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশে এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট বিরাজমান।
তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে 'নতুন কুঁড়ি' স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে। দল-মত নির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তানরা এখানে যুক্ত হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।
শুধু খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ারের আয়োজনের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বছরের নির্দিষ্ট কিছুদিন (যেমন ১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি) ছাড়া কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক বা বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় না! যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে এই চর্চাগুলো সারা বছর চালু রাখতে হবে।
তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকাল দেখা যায় একটি জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাবার কাঁধে চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা জিন্নাত এইচএসসিতে উত্তীর্ণ
সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত 'ফ্যামিলি কার্ড' ও 'ফার্মার্স কার্ড' এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন