ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রতিবন্ধীদের বন্ধু শিক্ষক আলী তানভীরের মানবিক উদ্যোগ


প্রতিবন্ধীদের বন্ধু শিক্ষক আলী তানভীরের মানবিক উদ্যোগ

মানবিকতা পেশা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার সীমারেখায় আবদ্ধ নয়, এর একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চকরিয়ার তরুণ শিক্ষক আলী তানভীর। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রতিবন্ধী শিশু ও অসহায় পরিবারের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তার উদ্যোগের ফলস্বরূপ ১১০ প্রতিবন্ধী শিশু কৃত্রিম পা, হুইলচেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ পেয়েছে। মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেকেই তাকে ভালোবেসে ডাকেন ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’ হিসেবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা আলী তানভীর বর্তমানে বান্দরবানের লামা আদর্শ গার্লস হাই স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা তার দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: নতুন ভোটার হওয়া ও এনআইডি সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন

করোনা মহামারিতে শুরু মানবিক পথচলা

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে আলী তানভীর নিজ এলাকা চকরিয়ায় মানবিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথমে তিনি এলাকার অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খোঁজখবর নিতে শুরু করেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করতেন। সময়ের সাথে সাথে তার উদ্যোগের পরিধি বৃদ্ধি পায়, এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে যুক্ত হন।

এখন পর্যন্ত তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিছু পরিবারকে তিনি আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন, আবার কিছু পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চিকিৎসাসেবা পেতে সহযোগিতা করেছেন। তার উদ্যোগের মাধ্যমে ১১০ প্রতিবন্ধী শিশু বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ পেয়েছে, যেমন কৃত্রিম পা ও হুইলচেয়ার।

ফেনীর বন্যায় সহায়ক উপকরণ হারিয়ে ফেলা ১০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্যও নতুন করে প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করেন আলী তানভীর। এছাড়া সীতাকুণ্ডের ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের সময় লাশ বহনের কাজে সহযোগিতা করেন তিনি। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা তার মানবিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনের অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রূপসী ও তামান্নাদের স্বপ্নপূরণের চেষ্টা

আলী তানভীরের সহযোগিতায় নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে রূপসী ও তামান্নার মতো শিশুরা। ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের গোড়ালি হারায় রূপসী। দুর্ঘটনার পর তার চিকিৎসা ও পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে রূপসীর পাশে দাঁড়ান আলী তানভীর। চিকিৎসার পাশাপাশি তার শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতেও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি।

রূপসীর মা জানান, মেয়ের চিকিৎসা ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে তানভীর সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে রূপসী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

অন্যদিকে, জন্মগতভাবে দুই হাত ও এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া তামান্নার জন্য ২০২২ সালে কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করেন আলী তানভীর। তবে বিদ্যালয় দূরে হওয়া এবং যাতায়াত ও ওঠানামার অসুবিধার কারণে তামান্নার পক্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় অনেকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তামান্নার বাস্তবতা তুলে ধরে আলী তানভীরের উদ্যোগের পাশাপাশি উঠে এসেছে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা। চিকিৎসা কিংবা সহায়ক উপকরণ দিলেই তাদের সব সমস্যা সমাধান হয় না। প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহজ প্রবেশাধিকার, নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ। এসব সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন শুরুতেই বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার হাত

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মানবিক উদ্যোগ? জানতে চাইলে আলী তানভীর বলেন, ‘প্রথমে প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিই। যেসব পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ, তাদের স্থানীয় অর্থোপেডিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ দেওয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি জানান, অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির ছবি ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। তার ফেসবুক বন্ধুরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সেই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা কাজে লাগিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তার এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সহায়তাবঞ্চিত পরিবারগুলো উপকৃত হচ্ছে, অন্যদিকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মানবিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আলী তানভীরের মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাথীর মতো অনেকেই। ২০২০ সাল থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে তানভীরের সঙ্গে পরিচয় সাথীর। সরাসরি সব সময় অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও তানভীরের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।

সাথী বলেন, ব্যস্ততার কারণে সরাসরি যেতে না পারলেও আমি তানভীরের মাধ্যমে সমাজের এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। প্রতিবন্ধীদের প্রতি তার ভালোবাসা দেখে আমি তাকে ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’ বলে ডাকি।

সাথীর দেওয়া এই নাম যেন আলী তানভীরের মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিচয় হয়ে উঠেছে। তার উদ্যোগে শুধু একজন ব্যক্তি নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত অনেক মানুষও অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ব্যক্তিগত সামর্থ্যের সঙ্গে অন্যদের সহযোগিতাকে যুক্ত করে তিনি গড়ে তুলেছেন মানবিক সহমর্মিতার একটি পরিসর।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে সড়ক উন্নয়নকাজ উদ্বোধন করলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম

সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন অধিকার নিশ্চিত করা

প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা এখনো সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর্থিক অসচ্ছলতা, প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণের অভাব, চিকিৎসাসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা অনেক শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আলী তানভীরের মতো মানুষের উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য ও মানুষের সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে আলী তানভীর যে পথচলা শুরু করেছেন, তা কেবল আর্থিক সহায়তা কিংবা প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার কর্মকাণ্ড প্রতিবন্ধী শিশুদের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও তৈরি করছে।

রূপসীর পড়াশোনা এগিয়ে চলা যেমন আশার গল্প, তেমনি তামান্নার বিদ্যালয়ে যেতে না পারার বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন সমান সুযোগ ও উপযোগী পরিবেশ।

আরও পড়ুন: এমআর ট্রেডার্সের গুদাম সিলগালা, ৮১ টন কেমিক্যাল জব্দ

প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কেমন ভবিষ্যৎ দেখতে চান আলী তানভীর?

প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে আলী তানভীর বলেন, আমি এমন একটি সমাজ দেখতে চাই, যেখানে প্রতিবন্ধী শিশুরা নিজেদের অসহায় মনে করবে না। তাদের পরিবারকে সন্তানের চিকিৎসা, পড়াশোনা কিংবা চলাচলের ব্যবস্থা করতে গিয়ে অসহনীয় কষ্টের মুখোমুখি হতে হবে না। প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশু যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সহায়ক উপকরণ ও শিক্ষার সুযোগ পায় এবং নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যেতে পারে। শুধু সহানুভূতি দেখানো নয়, তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। আমি চাই, আমার এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও মানুষ অনুপ্রাণিত হোক এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসুক।

ব্যক্তিগত উদ্যোগ, মানুষের ভালোবাসা আর সম্মিলিত সহযোগিতাকে পুঁজি করে আলী তানভীরের এই পথচলা প্রমাণ করে, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন আন্তরিক ইচ্ছা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা।

পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ১১০ শিশুর চলার পথ সহজ করতে ভূমিকা রাখা এই তরুণ শিক্ষক তাই অনেকের কাছে কেবল একজন সহায়তাকারী নন; তিনি ভরসা, সহমর্মিতা ও নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। ভালোবেসে যাকে তারা ডাকেন ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুরে কাকলী রানী দাসের তিন সন্তানের জন্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ এম


সৈয়দপুরে কাকলী রানী দাসের তিন সন্তানের জন্ম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাকলী রানী দাস নামের এক গৃহবধূ একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে দুটি কন্যাসন্তান এবং একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর মা ও তিন নবজাতক সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার দুপুরে শহরের বাঙ্গালীপুর মোড়ে অবস্থিত পদ্মা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে এই শিশুগুলোর জন্ম হয়। কাকলী রানীর স্বামী বিদ্যুৎ চন্দ্র দাস (২৮) পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ডাঙ্গারহাট গ্রামের চক সন্ন্যাসী শাহাপাড়ায়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই কাকলী রানী উক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নাহিদ আক্তার বৃষ্টির তত্ত্বাবধানে ছিলেন। রোববার দুপুরে তার পরিচালনায় সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিন নবজাতকের জন্ম হয়।

একসঙ্গে তিন সন্তান লাভের খবরে ওই পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। চিকিৎসক ডা. নাহিদ আক্তার বৃষ্টি জানান, অস্ত্রোপচারের পর মা ও তিন নবজাতক আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সাংবাদিক আলিফ হত্যা

দুই আসামির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ এম


দুই আসামির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তাজুল ইসলাম। এই ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন পাঁচজন, যার মধ্যে তাজুল নিজেই আলিফকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকালে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। বিকাল পৌনে ৪টায় শুরু হওয়া জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ রোববার রাতে বলেন, দুই আসামি জানিয়েছেন যে, তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিক আলিফের পূর্বে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের ফলস্বরূপ তাকে হত্যা করা হয়। আসামিরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতেন এবং সীমান্ত এলাকায় তাদের ব্যবসা ছিল। আলিফ তাদের ব্যবসায় বাধা দিতেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতেন, যার কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

ওসি আরও জানান, দুই আসামির বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী পাঁচজন ছিলেন। তাজুল আলিফকে গুলি করার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে শুরু করলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম এসেছে বলে জানান ওসি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের স্বার্থেই আপাতত তাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের সঙ্গেও তার বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এলাকায় নিজ নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও পরিচালনা করেন তিনি।

সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) এর আগে জানিয়েছিলেন, আলিফ তাজুলের চোরাচালান ও অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য পেয়ে তা র‍্যাবকে দিয়েছিলেন। প্রায় চার বছর আগে র‍্যাব (বর্তমানে এসআরবি) তাজুলকে গ্রেফতার করেছিল।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, আলিফ তাজুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তাজুলের বাড়িঘরের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাজুলের ধারণা ছিল, আলিফ তার কাছে থাকা অস্ত্রের তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এর আগেও আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল।

গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

গত শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে ইমরান ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেফতার করা হয়।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারব। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আলিফের স্ত্রী

এদিকে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যোগ দেন। দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকছেন আনন্দিতা।

গারো সম্প্রদায়ের এই নারী আলিফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তার নাম রাখা হয় খাদিজা আক্তার।

আনন্দিতা সাংমা বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর একজন নারী আমাকে ফোন করে সহযোগিতার কথা বলেছেন। আমার ব্যাংক হিসাবের নম্বর চেয়েছেন। এরপর আরও অনেকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। চাকরির ব্যবস্থা হওয়ায় আপাতত অন্য কারও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই, তাজুল ইসলাম, শুটার শামীমসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বামীকে আর কখনো ফিরে পাব না; কিন্তু যারা তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার দুই সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে স্বামীহারা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ এম


আজ জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত

‘রক্তদানে জীবনের জয়গান, চক্ষুদানে আলোর সন্ধান’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস। প্রতিবছর ২ নভেম্বর এই দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আজ সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার হলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

১৯৭৮ সালের ২ নভেম্বর ডিএমসিএইচ ব্লাড ব্যাংকে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে সন্ধানী। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালে সন্ধানী আয়োজিত প্রথম স্বেচ্ছায় রক্তদান অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২ নভেম্বরকে ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে সন্ধানী পরিচিত। রক্তদানের পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটি মানুষের চক্ষু ব্যাংক হিসেবেও কাজ করে, মৃত্যুর আগে স্বেচ্ছা প্রণোদিত চক্ষুদানের বিষয়ে উত্সাহ প্রদান করে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সেই চোখ ব্যবহার করতে পারে।

সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি চার হাজার ২০৪টি কর্নিয়া সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে তারা তিন হাজার ৫২৫ জন অন্ধ মানুষের চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির মহাসচিব কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে অন্ধ জনসংখ্যা প্রায় ১৪ লাখের মতো। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখের মতো কর্নিয়াজনিত অন্ধ।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাস করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ এম


পাস করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিশ্চয়তা

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যদি সম্পূরক (সাপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তবুও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করার সুযোগ তারা হারাতে পারেন। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। কিন্তু অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে দেখা যাচ্ছে, আবেদনের সময় শেষ হওয়ার পর যদি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, তাহলে এসব শিক্ষার্থীর আবেদন করার সুযোগ থাকবে না। ফলে সম্পূরক পরীক্ষায় পাস করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল না পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী চলতি শিক্ষাবর্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন চার লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দুই লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য এক লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।

এসব শিক্ষার্থীর জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষা গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ৩১ ডিসেম্বর।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষর করা কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়ে চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। ১ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলবে। তবে বিদ্যমান বিধিমালায় এ ধরনের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ না থাকায় সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা প্রয়োজন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত জিপিএর শর্ত পূরণ করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে দুই পরীক্ষার মোট জিপিএ এবং পৃথক পরীক্ষার জিপিএর শর্তও ভিন্ন। ফলে এইচএসসিতে অকৃতকার্যরা সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ফল না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে পারছেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর, চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। অন্যদিকে সম্পূরক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ আবেদন শেষ হওয়ার ৩৬ দিন পর ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে ১২ নভেম্বর, শেষ হবে ২৭ নভেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ৮, ৯ ও ১৬ জানুয়ারি। অর্থাৎ সম্পূরক পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই প্রাথমিক আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর, চলবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।

একইভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে হলেও আবেদনের সময় শেষ হবে সম্পূরক পরীক্ষার ফল প্রকাশের ২১ দিন আগে।

অন্যদিকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখনো আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ১০ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সম্ভাব্য পরীক্ষার তারিখ ১৪ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সূচি ও বিস্তারিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এছাড়া কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭ সালের ২ জানুয়ারি। সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জিএসটি) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯, ২০ ও ২৭ মার্চ। কৃষি গুচ্ছ ও জিএসটি গুচ্ছের আবেদন শুরুর ও শেষের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত আবেদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

ফলে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সীমা সম্পূরক পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই শেষ হচ্ছে, সেগুলোতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের চলতি শিক্ষাবর্ষে আবেদনের সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া এখনো ঘোষণা করা হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে ফল প্রকাশের পর আবেদনের সুযোগ রাখা হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

এ অবস্থায় সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হারানোর আশঙ্কা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়া এবং আবেদনের সময় পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য এইচএসসি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, "তাদের বিষয়ে সরকার ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরে আমরা বসব। এরপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।"

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, "বিষয়টি একটি নতুন পদ্ধতি। তাই এটি কীভাবে প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে ভর্তি কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের একটি ভর্তি কমিটি আছে। কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে মূল ধারায় ফিরে আসার যে সুযোগ পাচ্ছে, সেটিও দেশের শিক্ষা খাতে নতুন একটি সংযোজন। এসব বিষয় কীভাবে আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা যায়, তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভর্তি কমিটির সভায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%