০৪:৪০ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দুই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান ও ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন উঠেছে। উড়োজাহাজগুলোর রুট, যাত্রী চাহিদা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও জানতে চেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপির সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র জানায়, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কিনা, তা জানতে চান কমিটির সদস্য জামায়াতের এমপি কামরুল হাসান। তিনি প্রশ্ন করেন, এই ৩৫টি উড়োজাহাজ কোন কোন রুটে চলবে, এগুলোর যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ও চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কিনা এবং বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে কিনা। এছাড়া, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তিনি জানতে চান।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ওলামা লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদান নাকি সৌজন্য সাক্ষাৎ?
বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ সময় জানান, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সব উড়োজাহাজ দেশে আসতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, উড়োজাহাজ কেনার অর্থ সফট লোনের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে এবং উড়োজাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত আয় দিয়েই এর ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কমিটির একজন সদস্য জানতে চান, টার্মিনাল নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অর্থের অপব্যবহার হয়েছে কিনা।
বিমানবন্দরের ট্রলি-সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে ট্রলির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে। বৈঠকে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও জামায়াতের এমপি কামরুল হাসান ছাড়াও অংশগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার ও আবু তালিব। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়) গিয়াস উদ্দিন রিমন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তথ্য চায় সংসদীয় কমিটি। একই দিন সংসদ ভবনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কিত চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এ সময় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এগুলো উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর শুরু হবে
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, নাজমুল হুদা, এবং আবদুল হান্নান মাসউদ অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্যের বিদ্যমান ব্যবধান, সম্ভাবনা ও তা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন