০১:০৭ পি.এম
কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে জন্মের পরপরই চরম অবহেলা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়েছিল বলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক মিস ইন্ডিয়া পূজা চোপড়াকে। এতদূর পর্যন্ত গিয়েছিল যে, তাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল তার বাবার পরিবার।
সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী নিজের জীবনের সেই অন্ধকার ও কষ্টদায়ক অধ্যায়ের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি মায়ের অদম্য সাহসের ফলেই কিভাবে আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন, সে গল্পও শেয়ার করেছেন।
আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড
সাক্ষাৎকারের সময় পূজার পাশাপাশি তার মা নীরা চোপড়াও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের প্রথম সন্তানের জন্মও এক মেয়ে ছিল।
দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হওয়ার পর, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ছেলে সন্তানের জন্য তার ওপর প্রবল চাপ দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু যখন জানা যায়, তিনি আবারও কন্যাসন্তান জন্ম দিতে চলেছেন, তখন পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। নীরাকে গর্ভপাত করানোর জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে, সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
পূজা বলেন, তার জন্মের পর বাবার পরিবার কোনোভাবেই তাকে গ্রহণ করতে পারেনি। কন্যাসন্তান হওয়ার অপরাধে তার বাবা স্ত্রী নীরা এবং দুই মেয়েকে একা ফেলে চলে যান। এর পর চরম অর্থনৈতিক অনটন, সামাজিক কটূক্তি এবং একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করে দুই মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করেন তার মা।
মায়ের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পূজা চোপড়া। মায়ের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার মা। যদি মা সেই সময় সমাজ ও পরিবারের চাপের কাছে মাথা নত করতেন, তাহলে হয়তো আজ আমার কোনো অস্তিত্বই থাকত না। মায়ের সংগ্রাম আর সাহসের কারণেই আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।’
আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
সূত্র : এই সময়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন