০৮:১৩ পি.এম
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস কেতন আগরওয়ালের হত্যাকারীদের জন্য কঠোরতম শাস্তির প্রতিশ্রuti দিয়েছেন।
শুক্রবার নিহত কেতন আগরওয়ালের পিতা বিশিষ্ট শিল্পপতি বিশাল আগরওয়াল পুনেতে যখন দেখা করতে যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী এই আশ্বাস প্রদান করেন।
শুক্রবার পুনে সফরকালে, মুখ্যমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে কেতনের পিতাকে ডেকে নেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্তনা প্রদান করেন। সাক্ষাতে বিশাল আগরওয়াল কেমন দাবিগুলি জানালেন। প্রথমত, তিনি দাবি করেন যেন সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট উজ্জ্বল নিকমকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত
দ্বিতীয়ত, তিনি দাবি করলেন এই মামলার বিচারের জন্য একটি দ্রুত বিচার আদালত গঠন করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী উভয় দাবি বিষয়েও তাতক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টে দেখা যায়, সাক্ষাতের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল আজ পুনেতে দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে দেখা করেন এবং ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।' এরপর, মুখ্যমন্ত্রী পরিবারটিকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'আমরা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে এই মামলার দোষীরা যেন কঠোরতম শাস্তি পায়।'
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'তাদের ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখা হবে না।' মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্স-এর পোস্টে আরও জানানো হয়, 'একটি দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং উজ্জ্বল নিকমকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের পরিবারের দাবিও তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে।' উজ্জ্বল নিকমও এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সম্মতি দিয়েছেন। ফড়নবিস আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেন।
মুম্বাইয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলা মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে উজ্জ্বল নিকম দেশজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেন। এছাড়া, তিনি বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার শুনানীতেও নেতৃত্ব দেন।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
কেতনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের কাছে দেবেন্দ্র ফড়নবীস বলেন, 'এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। সমাজ হিসেবে আমাদের আত্মোপলব্ধি করা দরকার যে কেন ভালো পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এমন প্রতিহিংসামূলক ও বিকৃত মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।'
তিনি আরও মন্তব্য করেন, 'এটি কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'তরুণ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যাতে এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক প্রবণতা এবং বিকৃত চিন্তাভাবনা গড়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করার জন্য সমাজকে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।' সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, গুরুতর এবং সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে পুনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান কেতন আগরওয়ালের সাথে সিয়া গোয়েলের বাগদান হয়। আগামী নভেম্বরে তাদের জমকালো বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে গত ১৮ জুন সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী লোহাগড় দূগ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করেন।
আরও পড়ুন: দুর্লভ ডাইনোসর ‘জোডি’ ৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি, বিজ্ঞানীদের অসন্তোষ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন