০৯:৩২ পি.এম
সংবিধান সংশোধন নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। সরকারী দল বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, তবে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেও রাজপথে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থান কি রাজনীতিতে নতুন উত্তাপের ইঙ্গিত দেয়? বিশ্লেষকরা বলেছেন, পরিমিত বিরোধিতার মধ্যে থাকার সম্ভবনা বেশি। তবে, সরকারি দল নিজ থেকে নতুন কোনো সংকট ডেকে আনে কি না এই প্রশ্নও উঠেছে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে ১২ জনের নাম বিএনপি ঘোষণা করেছে, কিন্তু জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোট এই কমিটিতে নিজেদের বিরত রেখেছে।
বিশেষ কমিটির নাম ঘোষণার পর বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সদরপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সভা
প্রশ্ন উঠছে, যেসব বিরোধী দল এতদিন সরকারের সহযোগী ছিল, তারা কি এবার কঠোর ভাবে বিরোধীতা করবেন? এবং, যদি তেমন হয়, তাহলে নতুন রাজনৈতিক সংকট কি আসন্ন হতে পারে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, 'বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরবে এবং রাজনীতি মেরুকরণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যদি সেটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মাধ্যম হয়, তাহলে এটা রাজনৈতিক সংঘাত বৃদ্ধি করবে।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন মোস্তফা বলেন, 'এখন পর্যন্ত সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে পরিমিতিবোধ দেখা যাচ্ছে, যা থেকে মনে হচ্ছে তাদের মধ্যে সম্পর্ক পরিমিত বিরোধিতার মধ্যেই থাকবে। নতুন কোনো সংকট সৃষ্টি করবে না।'
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল হিসেবে দাবি আদায়ে জামায়াত রাজপথে যাবে এইটা যেমন স্বাভাবিক, ঠিক তেমনি সরকারও সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজে থেকে সংকট ডেকে আনবে কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার
অধ্যাপক হাসানুজ্জামান বলেন, 'রাজনৈতিক সংকট তৈরির বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারি দল কতটুকু ছাড় দেয় এবং বিরোধী দল কতটুকু জনমত সৃষ্টি করে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তার ওপরে।'
ড. মামুন মোস্তফা বলেন, 'রাষ্ট্র সংস্কার কিংবা সংবিধান সংশোধনের মধ্যে অনেক বিষয় রয়েছে যা পরীক্ষিত নয়। তাই, নতুন নতুন সংশোধন নিয়ে এসে সরকার নতুন কোনো সংকট ডেকে আনবেন কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।'
তাদের মত, সংসদের কেবল দুটি অধিবেশন হয়েছে, নতুন সরকার ও বিরোধী দলের বয়সও অল্প। দেশের সাথে বিদেশের বিভিন্ন চাপ রয়েছে। ফলে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে আরো কিছু সময় প্রয়োজন, তাদের মতামত।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন