১২:১৩ পি.এম
চীনের সামরিক আধুনিকায়নের দ্রুত অগ্রগতির একটি সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র সোমবার বেইজিংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
খবরটি মূলত বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এই সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চীনের আগের একটি পরীক্ষার দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হলো। ২০২৪ সালে চীন ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণ করেছিল। এ পরীক্ষাটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে ৪০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে পরিচালিত এ ধরনের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে, যা দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র এখনও চীনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই ভাবছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকাতে আগের চেয়ে বেশি চেষ্টা করছে, তখন চীন তার বিপরীত পথে এগোচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চীনের দ্রুত এবং স্বচ্ছতার অভাবে পরিচালিত পারমাণবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।’
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে করা সর্বশেষ বড় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট নবায়ন না করে শেষ হতে দেয়। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, নতুন কোনো চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তবে চীন এই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রাশিয়ার তুলনায় অনেক ছোট হলেও তা দ্রুত বেড়ে চলেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ‘অর্থবহ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় অংশ নেয়’ এবং আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ উৎক্ষেপণের বিষয়ে নিয়মিত আগাম তথ্য জানাতে সামর্থ্য গ্রহণ করে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করছে। তাইওয়ান জানিয়েছে, চীনের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল ‘জেএল-২’। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার বা ৫ হাজার মাইলের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি ফিলিপিন্সের উপর দিয়ে গিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, চীন এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘চীন আবারও প্রমাণ করল যে তারা এই অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শনকারী একটি আগ্রাসী পক্ষ।’
ফিলিপাইনও এই পরীক্ষার সমালোচনা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই উৎক্ষেপণের কোনো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য নেই। এটি চীনের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি উসকানিমূলক পদক্ষেপ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন