০৫:০৭ পি.এম
উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলা থেকে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এখানে এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতার বিরুদ্ধে দুই মুসলিম যুবককে মিথ্যা ‘লাভ জিহাদ’ এবং গণধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার মিরাটের জাগ্রতি বিহার এক্সটেনশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর সাথে যুক্ত কিছু লোক দুই মুসলিম যুবক এবং এক তরুণীকে বহনকারী একটি গাড়ি আটকায়। জিশান ও শাহভেজ নামে চিহ্নিত ওই যুবকদের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে এক হিন্দু নারীকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। তবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তদন্তের পর মামলাটি নাটকীয় মোড় নেয় বলে জানা গেছে। পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী পরে প্রকাশ করেন যে, পুরো ঘটনাটি নকুল গুর্জর নামের এক ব্যক্তি পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সাথে ভিএইচপি-র যোগসূত্র রয়েছে বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
বুলন্দশহরের সিয়ানার বাসিন্দা ভাবনা নামে সনাক্ত হওয়া ওই তরুণী পুলিশকে জানান যে তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে নকুলকে চিনতেন। তিনি তদন্তকারীদের কাছে অভিযোগ করেন যে, নকুল তাঁকে টাকার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। একটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যদি তিনি জিশান ও শাহভেজকে একটি ফৌজদারি মামলায় ফাঁসাতে সাহায্য করেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, জিশান ও শাহভেজের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও ‘লাভ জিহাদ’-এর মিথ্যা অভিযোগ তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তদন্ত অনুযায়ী, জিশান একটি গৃহকর্মী সরবরাহকারী সংস্থা চালান এবং বিভিন্ন পরিবারে কাজের লোক ঠিক করে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, নকুল নাকি অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভাবনার মোবাইল নম্বর জিশানের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে মেয়েটি কাজের সন্ধান করছে। পরবর্তীতে জিশান ওই তরুণীর সাথে যোগাযোগ করেন। চাকরির বিষয়ে কথা বলতে তাঁকে জাগ্রতি বিহার এক্সটেনশনে ডাকেন। সেই সময় গাড়িতে শাহভেজও উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, গাড়িতে ওঠার আগেই ভাবনা গাড়ির ছবি এবং তাঁর লাইভ লোকেশন নকুলের সাথে শেয়ার করেছিলেন। এর পরপরই নকুল ও তাঁর সহযোগীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হট্টগোল শুরু করেন এবং যুবকদের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তোলেন।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
পুলিশ যখন তদন্ত জোরদার করে, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নকুল গুর্জরের একটি পুরোনো ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রায় এক বছর আগে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি গণধর্ষণ মামলায় জামিনে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নকুলকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, নকুলকে এর আগেও ওই মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে তিনি জামিন পান। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তের সময় এই ভাইরাল ভিডিওটিকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মিরাট পুলিশ জানিয়েছে, নকুল গুর্জরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে জিশান ও শাহভেজকে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় নতুন তথ্য সামনে আসায় তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
উত্তর প্রদেশ পুলিশের কর্মকর্তা সুচিতা সিং জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তরুণীটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তিনি সুরক্ষিত আছেন। স্কুল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে পুলিশ তাঁর বয়সও যাচাই করেছে। প্রথমে নিজেকে ১৬ বছর বয়সী দাবি করলেও নথিপত্রে তাঁর বয়স ১৯ বছর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নকুল গুর্জরের খোঁজ পেতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন