ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে’


‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে’

পাকিস্তান সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা রাজা নাসির আব্বাস মন্তব্য করেছেন, মক্কা চুক্তির শর্তাবলী সম্পর্কে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাইরে কেউ অবগত নয়। দেশের অঘোষিত শাসক হিসেবে সামরিক বাহিনী থাকায় এই সিদ্ধান্তটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়নি।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “যদি পাকিস্তান এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তা দেশের জন্য মহাবিপর্যয় বয়ে আনবে। আমরা ইতোমধ্যে দুটি রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ মোকাবিলা করছি; অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী। এই সংঘাতে অংশগ্রহণ করলে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টি হবে।”

“মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান” শিরোনামে শনিবার দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে রাজা নাসির আব্বাস পাকিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে না জড়াতে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রিয়াদে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের কাছে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মনে হচ্ছিল।

সৌদি আরবের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের এই সর্বময় প্রভাবশালী সেনাপ্রধান।

জেনারেল মুনিরের জন্য এটি ছিল একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয়। এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান, যা তীব্র অর্থসংকটে ভুগছে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জীবনরক্ষাকারী বিনিয়োগ ও ঋণ পাবে। এর বিনিময়ে ইসলামাবাদ সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে। সৌদি ভূখণ্ডে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দেশটির সুরক্ষায় মাঠে নামবে।

বিশ্লেষকদের মতে, তখন পাকিস্তানের হিসাব ছিল পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি কম থাকবে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেই হিসাব পাল্টে যায়। ফেব্রুয়ারি মাসে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে এবং ইরানও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

এর ফলে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের পুরোনো সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। তাদের মধ্যবর্তী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। চলতি মাসের শুরুতে হুথিরা ইয়েমেনে অভূতপূর্ব ভূখণ্ডগত সাফল্য অর্জন করে এবং সৌদি আরবে ড্রোন ও হামলা চালায়। জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনে জোরালো বিমান হামলা শুরু করেছে। অনেকের মতে, অঞ্চলটিতে আবারো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এই নতুন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির চরম চাপের মুখে পড়েছেন। গত আগস্টে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তিতে তুরস্ককে যুক্ত করা হয় এবং এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। চুক্তিতে নির্ধারণ করা হয়—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা বলে গণ্য হবে।

লন্ডনের কিংস কলেজের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “আমার মনে হয় না আসিম মুনির আঞ্চলিক ঝুঁকির মাত্রা সঠিকভাবে হিসাব করতে পেরেছিলেন। পাকিস্তানের সৈন্যদের এত দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে নামাতে হতে পারে, তা তিনি হয়তো ভাবেননি।”

আরও পড়ুন: উটের প্রস্রাবেই সারবে ক্যানসার? সৌদি ভাইরাল দাবির সত্যতা জানাল

সৌদি আরবের কাছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কৌশলী হুথি বিদ্রোহীদের মুখোমুখি হওয়ার মতো পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের হুমকি সামলে অভ্যস্ত পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এই রণক্ষেত্রে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের ধারণা, হুথিদের দমনে সৌদি আরব যদি ‘মক্কা চুক্তি’ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পাকিস্তানের সামনে সেনা পাঠানো ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না। এমনকি প্রশিক্ষণের কাজে সৌদি আরবে অবস্থানরত হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনাকেও যুদ্ধের ময়দানে নামাতে হতে পারে। কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তান এখন সৌদি আরবের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। সম্প্রতি দেশটি পাকিস্তানকে জরুরি ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলারের তহবিল ও বিনিয়োগ দিয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তায় তারা ‘অনড়’ ও ‘নিঃশর্ত’ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটির প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান ‘যেকোনো সীমা পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত।

বাহ্যিক মনোভাব কড়া হলেও পর্দার আড়ালে পাকিস্তানের কর্তাব্যক্তিরা মধ্যপ্রাচ্যের এই অশেষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। দেশটির অর্থনীতি ইতিমধ্যে ধসে পড়েছে; একই সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানদের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং সীমান্ত এলাকায় তীব্র জঙ্গিবাদ বৃদ্ধি সামাল দিতে গিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

অনেকের মতে, মক্কা চুক্তি কার্যকর করা মানে ইরানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলি হামলার আগে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল। সেই সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানকে আলোচনার টেবিলে এনে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইরানের ওপর পাকিস্তান যেমন ক্ষুব্ধ হয়েছে, তেমনি ইসলামাবাদের ওপরও তেহরান বিশ্বাস হারিয়েছে।

বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকার মতে, হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের যোগদান বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরানের পর পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস। ইয়েমেনের হুথিদের ওপর হামলায় পাকিস্তান অংশ নিলে দেশের ভেতরেই বড় ধরনের সুন্নি-শিয়া উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে।

এছাড়া, আফগানিস্তানের তালেবানদের সঙ্গে ইরানের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধে জড়ালে আফগান সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি তালেবানদের সহিংসতা আরও প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে ইরানসংলগ্ন অস্থিতিশীল সীমান্ত অঞ্চল বেলুচিস্তানেও দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নতুন মাত্রা পেতে পারে।

এখন পর্যন্ত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা স্পষ্ট করা হয়নি যা মক্কা চুক্তিকে সক্রিয় করতে বাধ্য করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান হয়তো আশা করছে যে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই বাড়ালেও রিয়াদ সরাসরি ইরানের সঙ্গে উন্মুক্ত যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। চুক্তির অন্য শরিক তুরস্কও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে পড়তে রাজি নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক

ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ’র পরিচালক মুহাম্মদ আমির রানা বলেন, “ইয়েমেনের মাটিতে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপে যুক্ত হওয়া এড়াতে পাকিস্তান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স নিজেও এখনই চুক্তিটি সক্রিয় করতে চান না।

তিনি বলেন, “সৌদি আরব যদি স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, পাকিস্তান হয়তো তাদের সহায়তা দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত ছাড়া সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করবে না। ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে নতুন কোনো যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলতে আগ্রহী নয়; তারা হুথিদের সঙ্গে আলোচনার পথই খোলা রাখতে চায়।”

তবে তিনি যোগ করেন, “ভবিষ্যতে কী হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সত্যিই কঠিন।

আরও পড়ুন: ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দুই নেতার আটকাদেশ দুই দিন বৃদ্ধি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ পি.এম


এবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের একটি ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতের এই বিস্ফোরণের বিষয়টি এখনও বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

এর আগে, সন্ধ্যার পর ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ইনকামিং লেনে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার সামাদ সুপার মার্কেটের সামনে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় আহত হন বিল্লাল নামে এক রিকশাচালক।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা সেখানে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই সময় রিকশাচালক মো. বিল্লাল আহত হন। ঘটনার পর তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় নেয়া হয় এবং পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

রাতের দিকে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরেও একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার পর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মগবাজার ও আগারগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই রাতে মিরপুরের কাফরুল এলাকায় দুর্বৃত্তরা যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়। নাশকতামূলক এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোর রোডের স্মৃতিতে একাত্তরের শরণার্থী জীবনের কাহিনী কবিতা ও গানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


যশোর রোডের স্মৃতিতে একাত্তরের শরণার্থী জীবনের কাহিনী কবিতা ও গানে

একদিকে মিলনায়তনে কবিতা ও গানের সুর ভেসে আসছিল, অন্যদিকে বাইরে ক্যানভাসে ফুটে উঠছিল ঘরছাড়ার যন্ত্রণা, পথের ক্লান্তি এবং বেঁচে থাকার আকুতি। ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একাত্তরের শরণার্থী জীবনের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে এমন একটি আবেগঘন বিকেলের সাক্ষী হলো।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাদুঘরের মিলনায়তনে স্মারক অনুষ্ঠান ‘৭১-এর শরণার্থী জীবন’ ও ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’-এর আয়োজন করে স্মৃতি ৭১। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জিন্নাত আরা হক।

অনুষ্ঠানের সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফারুক এইচ খান একাত্তরের শরণার্থী সংকট এবং মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা সেপ্টেম্বর অন যশোর রোডের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঘরবাড়ি ও স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে সীমান্ত পেরোনো মানুষের মানবিক বিপর্যয় কিভাবে গিন্সবার্গের কবিতায় বিশ্বজনীন ভাষা পেয়েছিল।

এরপর ১৫২ লাইনের এই কবিতা থেকে নির্বাচিত অংশ আবৃত্তি করেন মুস্তাক আহমেদ ও নাজনিন পাপ্পু। কবিতার ভাষায় উঠে আসে শরণার্থীদের ক্ষুধা, অনিশ্চয়তা, মৃত্যু, বিচ্ছেদ ও আশ্রয়ের আকুতি। মৌসুমি ভৌমিকের গাওয়া বহুল পরিচিত গানটি পরিবেশন করেন নবনিতা হাবিব চৌধুরি।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘একাত্তরের শরণার্থী’ প্রদর্শিত হয়। পর্দার বাস্তবতার পাশাপাশি মঞ্চে সরাসরি নিজেদের স্মৃতি তুলে ধরেন একাত্তরের প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল জুগিয়েছিলেন যে শিল্পীরা, তাদের মঞ্চে নিয়ে আসেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান। তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন উত্তরীয় পরিয়ে তাদের সম্মান জানান।

স্মৃতিচারণে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় আবৃত্তিশিল্পী ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য। তিনি একাত্তরে শরণার্থী মিছিলে নিজের মাকে হারানোর ব্যক্তিগত স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধের বৃহৎ ইতিহাসের আড়ালে একটি পরিবারের বিচ্ছেদ আর একজন সন্তানের শোক চাপা পড়ে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি, লেখক ও প্রকাশক মফিদুল হক বলেন, একাত্তরের শরণার্থী অভিজ্ঞতাকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দলিল হিসেবে দেখা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, দেশ ছাড়ার সেই অভিজ্ঞতা কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি লাখো মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, স্মৃতি ও ক্ষতির ইতিহাস।

কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদ মুক্তিযুদ্ধের সময় গানকে মানুষের মনোবল ধরে রাখার অন্যতম শক্তি হিসেবে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সময়ের সাংস্কৃতিক সংগ্রামে গান ছিল প্রতিরোধেরই এক রূপ।

শরণার্থী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শঙ্কর লাল সাহা ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ ফারাজিও। তাদের স্মৃতিচারণে ফিরে আসে দেশ ছাড়ার যাত্রা, আশ্রয়ের অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের দিনে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াই।

‘স্মৃতি ৭১’-এর মাহবুব জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় গান, কবিতা ও শিল্প কেবল বিনোদন ছিল না; ট্রেনিং সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে গিয়ে শিল্পীরা তাদের মনোবল ধরে রাখার মাধ্যম হয়ে উঠেছিলেন।

মিলনায়তনে যখন স্মৃতি ও কথনে ফিরে আসছিল একাত্তর, তখন বাইরে চলছিল আরেক শিল্পযাত্রা। দেশের স্বনামধন্য চিত্রশিল্পীরা ক্যানভাসে তুলে ধরছিলেন শরণার্থী জীবনের নানা খণ্ডচিত্র। যুদ্ধ, দেশত্যাগ, পথের ক্লান্তি, আশ্রয় এবং বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা তাদের তুলিতে নতুন করে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

আবৃত্তি, গান, প্রামাণ্যচিত্র, প্রত্যক্ষ বয়ান এবং চিত্রকলার এই সমন্বয় একাত্তরের শরণার্থী সংকটকে কেবল অতীতের ঘটনা হিসেবে নয়, মানুষের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখার একটি পরিসর তৈরি করে।

১৯৭১ সালে শরণার্থী সংকট প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা থেকেই অ্যালেন গিন্সবার্গ লিখেছিলেন সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড। পরবর্তীকালে কবিতাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থী সংকটের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক স্মৃতির অন্যতম পরিচিত দলিল হয়ে ওঠে। স্মৃতি ৭১-এর এই আয়োজন সেই ইতিহাসের কাছেই ফিরে গিয়ে একাত্তরের শরণার্থীদের জীবন, কণ্ঠ এবং স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে হত্যা করে শ্যালিকাকে ম্যাসেজ পাঠাল মেহেদী-‘আমি চলে যাচ্ছি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


স্ত্রীকে হত্যা করে শ্যালিকাকে ম্যাসেজ পাঠাল মেহেদী-‘আমি চলে যাচ্ছি’

শনিবার সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে শ্যালিকা সিনথিয়ার মোবাইল ফোনে মেহেদী হাসান মারুফ একটি ম্যাসেজ পাঠায়, "মাকে (শাশুড়ি) নিয়ে বাসায় আসো, আমি চলে যাচ্ছি।" ম্যাসেজটি পাঠানোর পূর্বে পুলিশ গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের তালটিয়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মেহেদীর স্ত্রী স্নিগ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্ত্রীর লাশ উদ্ধার হলেও রাত পর্যন্ত মেহেদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মারুফের বয়স ২৪ বছর এবং তিনি পূবাইলের খিলগাঁও এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে। নিহত আফসানা আক্তার স্নিগ্ধার বয়স ২০ বছর এবং তিনি পূবাইলের সাতানীপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আফসার উদ্দিনের মেয়ে।

সিনথিয়া, স্নিগ্ধার ছোট বোন, জানান, মাত্র দেড় মাস আগে তার বোন ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সংসার জীবন শুরু করেছিলেন। ৬ মাস আগে সৌদি প্রবাসী মারুফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর আগে সৌদি চলে যায় মেহেদী। সিনথিয়া বলেন, "দুলাভাই মেহেদীকে অসম্ভব ভালোবাসতেন তার বোন।" তিনি মেহেদীর ফাঁসি দাবি করেছেন।

বাবা আফসার উদ্দিন জানান, স্নিগ্ধা তার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবার বড়। কলেজে যাওয়ার পথে মেহেদীর সঙ্গে তার মেয়ের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু মেহেদী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তারা তাকে অপছন্দ করতেন। দুই বছর আগে সৌদি চলে যাওয়ার পর তার মেয়ে ফোনে মেহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, যা তার অজানা ছিল। ৬ মাস আগে গোপনে মোবাইল ফোনে মেহেদীকে বিয়ে করে। দেড় মাস আগে মেহেদী দেশে এসে কাজী অফিসে কাবিননামা করে। কিন্তু মেহেদীর বাবা-মা বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্নিগ্ধাকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে সংসার শুরু করে।

তিনি আরো জানান, তার মেয়ে মাকে প্রায়ই ফোন করে বলত যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মেহেদী তার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তিনি জানতে পারেন ভাড়া বাসা থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে সিনথিয়ার মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানোর পরও বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা মেহেদীকে জিনিসপত্র ও ব্যাগ গুছিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাসা থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে ম্যাসেজটি পাঠিয়েছে। সারাদিন অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তার মেয়েকে হত্যা করে মেহেদী বিদেশে পালিয়ে গেছে।

পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, সকালে বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরের খাটের ওপর স্নিগ্ধার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী স্নিগ্ধাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে স্বামী মারুফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টঙ্গীতে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাম্মেদ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ পি.এম


টঙ্গীতে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাম্মেদ গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাম্মেদ (৪০) কে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের ৫৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাম্মেদকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে উৎখাতের চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%