ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিজ শহর রোজারিওতে ফিরলেন লিওনেল মেসি


নিজ শহর রোজারিওতে ফিরলেন লিওনেল মেসি

 

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার হৃদয় পুড়ে গেছে। অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচে তারা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে, যার ফলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে।

ম্যাচ হারের কারণে ভীষণ যন্ত্রণার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন লিওনেল মেসি একটি খোলা চিঠিতে। ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি বলেছেন, ‘কষ্টটা অনেক গভীর, ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে।’

আরও পড়ুন: জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের স্থান নেই: বিএনপির এমপি শাহজাহান

আর্জেন্টাইন দলের সঙ্গে দেশে ফিরতে না পারার কারণ হয়তো অন্য সতীর্থদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারেননি মেসি। অভিমানকে বুকে পাথর চাপা দিয়ে গতকাল দেশে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

তবে, সতীর্থদের মতো বুয়েনস এয়ার্সে ফিরে যাননি, বরং নিজ শহর রোজারিওতে ফিরে এসেছেন। ফ্লোরিডা থেকে নিজের প্রাইভেট জেটের মাধ্যমে রোজারিওতে ফিরে আসেন তিনি।

ফেরার সময় মেসির সঙ্গে ছিল তার পরিবার। দেশে আসার খবরের জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন, তবে তিনি কোনো পাবলিক বক্তব্য দেননি।

প্রাইভেট জেট থেকে নেমে সাদা এসইউভি গাড়িতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মেসি। বাসায় তার ৬৮ বছর বয়সী বাবা জর্জ মেসি অপেক্ষা করছিলেন। বর্তমানে তিনি লক্ষণ স্পষ্ট না হওয়া এক রোগে ভুগন্ত।

আরও পড়ুন: পিএসসিকে দলীয়করণের অপচেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: ছাত্রশিবির

মেসির জন্য অপেক্ষায় থাকা ভক্তরা তার জার্সি ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছিল এমন বার্তা, ‘মেসি, তুমি কিংবদন্তি। আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। পুরো দেশ তোমাকে ভালোবাসে।’

বাড়িতে মেসি কতদিন থাকবেন তা এখনো জানা যায়নি। তবে জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে ইন্টার মায়ামিতে ফিরে আসতে পারেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, যদিও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি, কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষের দিকে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। কিলিয়ান এমবাপ্পের (১০ গোল) পর সর্বাধিক ৮ গোল করেছে তিনি এবং ৮ ম্যাচে ৪ অ্যাসিস্টও প্রদান করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাবির নারী শিক্ষার্থীরা: ইতিহাসের আড়ালে সাহসী এক অধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাবির নারী শিক্ষার্থীরা: ইতিহাসের আড়ালে সাহসী এক অধ্যায়

২০২৪ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছিল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে শুরু থেকেই পুরুষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শত শত নারী শিক্ষার্থীও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে, আবার কেউ আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন। কেউ কেউ হলের বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসেন। যদিও ইন্টারনেট বন্ধ ছিল, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না এবং নিরাপত্তাহীনতার দুরবস্থায় অনেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরেও রাবির নারী শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ ও নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সত্ত্বেও ঐ অভিজ্ঞতার অধিকাংশ তথ্য এখনও পর্যাপ্তভাবে নথিবদ্ধ হয়নি।

আন্দোলনের শুরুতে অনেক নারী শিক্ষার্থী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তবে সহিংসতার মাত্রা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা সংগঠিতভাবে আন্দোলনে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত রোকেয়া হল, জুলাই-৩৬ হল (তৎকালীন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল), মন্নুজান হল, বেগম খালেদা জিয়া হলসহ মোট ছয়টি ছাত্রী হল থেকে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন প্রকারের বাধা সত্ত্বেও তারা রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন।

একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলে এবং হল ছাড়ার বাধ্যবাধকতা আসলে নারী শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে বাধ্য হন। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি ফিরতে পারেননি। ট্রেন এবং বাসের চলাচল ঠিক নয়, ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অনেকেই রাজশাহীতে আটকে থাকতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন মেস, পরিচিতজন বা সহপাঠীদের বাসায় আশ্রয় নেন। তবে মেসে পুলিশের তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে অনিরাপত্তার সৃষ্টি হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হন। পরে তারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করেও ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

আন্দোলনের অংশগ্রহণের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীরা ব্যানার তৈরি করেছেন, কর্মসূচির সমন্বয় করেছেন, আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এবং সহপাঠীদের সহায়তায় বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘাতের মুহূর্তেও তারা পিছপাতে রাজি হননি; বরং সহপাঠীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে মানববর্ম তৈরি করে পেশাদারী আত্মত্যাগ করেছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পরিষদের অন্যতম নারী সদস্য তাসিন খান উল্লেখ করেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর আমি সমন্বয়ক পরিষদে যুক্ত হই। তখন মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম—স্বাভাবিক জীবনে হয়তো আর ফেরা হবে না। মনে হয়েছিল, বেঁচে থাকলে হয়তো জেলে যেতে হবে অথবা পলাতক জীবন কাটাতে হবে। ৫ আগস্টের পরের জীবনকে আমি বোনাস জীবন মনে করি। জুলাই আমাকে বিবেকের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়েছে। আন্দোলনের পর আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি। বিভিন্ন সুযোগ এলেও আমি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হইনি। রাজনীতিসচেতন নাগরিক হিসেবে থাকতে চাই এবং দলান্ধতাকে সবসময় প্রত্যাখ্যান করি।"

তিনি আরও বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলোর একটি। ন্যায়বিচার ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সাহস, ঐক্য ও দায়িত্ববোধের কোনো বিকল্প নেই।"

অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা আরেক নারী শিক্ষার্থী এবং রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়েদা হাফসা বলেন, "কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল একটি যৌক্তিক আন্দোলন। তাই শুরু থেকেই আমরা এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা ৭ জুলাই থেকেই অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সব হল থেকেই নারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন।"

তিনি উল্লেখ করেন, "১৪ জুলাই রাতে বেগম খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা হলের তালা ভেঙে বেরিয়ে মিছিলে যোগ দেয়। অন্য হলের ছাত্রীরাও একইভাবে আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ লাঠি, কেউ মরিচের গুঁড়ে, আবার কেউ বেডের স্ট্যান্ড হাতে নিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েন।"

হাফসা আরও জানিয়েছেন, "১৬ জুলাই রাতের ক্যাম্পাসে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণের শব্দ এবং গ্যাসের প্রভাব মেয়েদের হল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়লেও কিছু সাহসী ছাত্রীরা শেষ পর্যন্ত হল না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। পরে প্রশাসনের নির্দেশের কারণে তাদেরও হল ছাড়তে হয়।"

মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বর্তমান হল সংসদের সহসভাপতি সুমাইয়া জাহান বলেন, "আন্দোলনের শুরু থেকেই নারী শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রথমদিকে ছোট ছোট দলে কর্মসূচিতে অংশ নিলেও আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মন্নুজান হলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং ন্যায্য দাবির পক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।"

তিনি আরও জানিয়েছেন, "টিয়ারশেল, হামলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নারী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের স্থান ত্যাগ করেননি। হল ছাড়ার দিনটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। পরিবহন সংকট, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে অনেকেই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেননি। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সাহস, সংহতি ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন।"

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম তুহিনা বলেন, "নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বলব, জুলাইকে শুধু একটি স্মৃতি হিসেবে নয়, শিক্ষা হিসেবে ধারণ করতে হবে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছি। সেই চেতনা ধরে রেখে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস তখনই পূর্ণতা পায়, যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার অবদান সমান গুরুত্বের সঙ্গে নথিবদ্ধ করা হয়। শুধুমাত্র নেতৃত্বের গল্প নয়, সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই রাবির জুলাই আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে মৌখিক ইতিহাস, সাক্ষাৎকার ও তথ্যভিত্তিক গবেষণা আগামী প্রজন্মের জন্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে অংশ নেওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, "জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীরা সম্মুখসারির সংগঠক ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছেন। তারা শুধু সমর্থনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, স্লোগানে আন্দোলনকে বেগবান করেছেন, আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন এবং খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিয়েছেন। এমনকি গ্রেপ্তার সহযোদ্ধাকে ছাড়িয়ে আনা এবং আহতদের সেবাতেও তারা এগিয়ে গেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি এখনো অপ্রতুল। আন্দোলনে তাদের অবদানও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।"

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি সাহস, ত্যাগ, প্রতিরোধ এবং মানবিকতারও ইতিহাস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা সেই ইতিহাসে কেবল সহযাত্রী ছিলেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রেই ছিলেন সামনের সারির অংশগ্রহণকারী। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাদের অভিজ্ঞতা এবং অবদান যত বেশি নথিবদ্ধ হবে, ততই সমৃদ্ধ এবং পূর্ণতা পাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে বাড়ল সোনার দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৩ এম


দেশের বাজারে বাড়ল সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

 

বিস্তারিত আসছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের বিচারিক হস্তক্ষেপে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৭ এম


পরিবেশ সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের বিচারিক হস্তক্ষেপে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত

নদী দখল, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, বায়ু ও শব্দদূষণ কিংবা অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের বিচারিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করা হয়েছে।

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় ও নির্দেশনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

গাছ কাটতে লাগবে অনুমতি

২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটার জন্য অনুমতি নিতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছেন, কমিটির অনুমতি ছাড়া ঢাকা শহরসহ অন্যান্য জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটা যাবে না। তবে গ্রামাঞ্চলে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ কাটার বিষয়টি এই নির্দেশনার আওতায় আসবে না।

নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা

২০১৯ সালে হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে বাংলাদেশের সকল নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ বা ‘লিভিং এনটিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদীর আইনি অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করে নদী দূষণ ও দখল রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ

দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ধ্বংস করে নির্বিচারে পাহাড় কাটা বন্ধে একাধিক আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া আরেকটি আদেশে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে পাহাড় কাটা এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশও জারি করা হয়েছে।

বায়ু দূষণ রোধে নির্দেশনা

রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে হাইকোর্ট ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছে। ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি এই নির্দেশনাগুলো তুলে ধরা হয়ঃ

১. ঢাকা শহরের মধ্যে বালি বা মাটি বহনকারী ট্রাকগুলোকে বালি বা মাটি ঢেকে পরিবহন করতে হবে।

২. নির্মাণ কাজ চলছে এমন জায়গাগুলোর নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখতে হবে।

৩. ঢাকার সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর যে নির্দেশ ছিল, সে অনুযায়ী যেসব জায়গায় পানি ছিটানো হচ্ছে না, সেসব এলাকায় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. সড়কের মেগা প্রজেক্টের নির্মাণ কাজ এবং কার্পেটিংয়ের যেসব কাজ চলছে, সেগুলো যাতে আইন-কানুন এবং চুক্তির শর্তাবলী মেনে করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. কালো ধোঁয়া ছাড়ানো গাড়িগুলোকে জব্দ করতে হবে।

৬. সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী চলাচলকারী গাড়ির ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ এবং পুরাতন গাড়িগুলোর চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

৭. লাইসেন্সবিহীনভাবে চলা ইটভাটাগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনও বন্ধ হয়নি, সেগুলো বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।

৮. পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া টায়ার পোড়ানো এবং ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধ করতে হবে।

৯. মার্কেট এবং দোকানের বর্জ্য প্যাকেট করে রাখতে হবে এবং দোকান বন্ধের পরে সিটি করপোরেশনকে ওই বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাজারীবাগের ট্যানারি স্থানান্তর

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি-বেলা’র একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৯ সালে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের এই আদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত রক্ষা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষার জন্য ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৭ জুন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝিলোঞ্জা, সুগন্ধা ও লাবনী পয়েন্ট এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল।

সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস

২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট এক রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট সুন্দরবনকে দেশের ফুসফুস উল্লেখ করে বলেন, অ্যামাজন যেমন পৃথিবীর ফুসফুস। ঠিক তেমনই সুন্দরবন আমাদের ফুসফুস।

অন্যদিকে ২০২১ সালে একটি রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত এলাকার খালের ভেতরে কোন ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলার চলাচল করা যাবে না। কাঁকড়া জেলেরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সুন্দরবনের সংশ্লিষ্ট স্টেশন অফিসে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে পাস সংগ্রহ করে কেবল বৈঠাচালিত নৌকা এবং দোন দড়ির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওজনের কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন।

পাস নিয়ে কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় বন বিভাগের স্টেশন অফিস থেকে কঠোরভাবে সংশ্লিষ্ট নৌকা ও নৌকার লোকদের পরীক্ষা করতে হবে। যাতে কোনো প্রকার ‘চারু’ (কাঁকড়া ধরার জন্য বাঁশের শলা দিয়ে নির্মিত চাঁই) এবং ‘বিষ’ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি জিনিস বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাতে না পারে।

এই রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের বিপুল জনগণের জীবন রক্ষা ও জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম এবং জাতীয় সম্পদ। সুন্দরবন অক্ষুণ্ন থাকলে ওই বিপুল জনগোষ্ঠী বেঁচে থাকবে এবং সর্বোপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও ওই অঞ্চল রক্ষা পাবে।

অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ

পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা পরিবেশ দূষণের দায়ে বিভিন্ন সময় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর ফলে অসংখ্য অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া, জরিমানা আদায় ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এদিকে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম যাতে শুরু না হতে পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় উচ্চ আদালতের রায় ও আদেশের কার্যক্রম সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাসস-কে বলেন, আমাদের দেশে পরিবেশ আইন হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। এরপর বিধিমালা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ রক্ষার আইন ও বিধিমালা থাকলেও পরিবেশ রক্ষায় দৃশ্যমান তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না। এক্ষেত্রে আমাদের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় ও আদেশের ফলে পরিবেশ রক্ষার জন্য নানা কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্টরা বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থের মামলা ও হাইকোর্টের নির্দেশনার ফলে পরিবেশ রক্ষায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। সর্বোপরি পরিবেশ রক্ষায় আমাদের উচ্চ আদালতের রায় ও আদেশগুলো অবশ্যই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউ ইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতা, যা বললেন মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


নিউ ইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতা, যা বললেন মামদানি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতি সমর্থন দেওয়া হলেও, নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসনের হাতে সেটি কার্যকর করার ক্ষমতা নেই বলে জানান শহরের মেয়র জোহরান মামদানি।

আল-জাজিরার খবরে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় মামদানি এ বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে এলে তার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইন নিয়ে সিটি প্রশাসন গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে।

মামদানি বলেন, পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এমন পরোয়ানা বাস্তবায়নের আইনি ক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের রয়েছে। তাই নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়ে তা কার্যকর করার কোনো এখতিয়ার নেই।

আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন নিউ ইয়র্কের মেয়র। তিনি বলেন, "একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই—বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা অবাধে ঘুরে বেড়ানো অন্য কোনো যুদ্ধাপরাধীকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে স্বাগত জানানো হবে না।"

এর আগে মামদানি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের সম্ভাবনা তিনি বিবেচনা করছেন। সেই বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হবে না। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মামদানির এই সর্বশেষ অবস্থান প্রকাশিত হলো।

উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলের কথিত গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%