বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৮ এম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়। রোববার বিকেলে উপজেলা চত্বর থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সদস্য পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল, পৌর বিএনপির সভাপতি গোলাপ খাঁন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, বিএনপির নেতা আব্দুল আজিজ, হাবিবুর রহমান মানিক, চেয়ারম্যান মীর খুরশেদ আলম, সামসুল ইসলাম মামুন, এস.এম.জাবেদ, মোঃ সহিদ মিয়া, শহিদুল ইসলাম বাবু, মাসুকুর রহমান, হাজী ফিরোজ মিয়া, বাবুল হোসেন, শেখ জহিরুল ইসলাম, ফজলুর রহমান বুলেট, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এনায়েত উল্লাহ, যুগ্ম আহবায়ক মশিউর রহমান, কবির চৌধুরী, পৌর যুবদলের আহবায়ক জনি পাঠান, যুগ্ম আহবায়ক জসিম শিকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফরিদুর রহমান, পৌর আহবায়ক আলমগীর কবির, যুগ্ম আহবায়ক রাশেল আহম্মদ, রনি আহম্মদ, শ্রমিক দলের আহবায়ক মাসুদ আলী, সদস্য সচিব লিটন পাঠান, ছাত্রদল নেতা ইমন খান, রিফাত খাঁ প্রমুখ। বক্তারা দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার জয়পাশা এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় মোঃ হাসান মিয়া (৩০) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে কুলাউড়া থানার পুলিশ। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজনকে নিয়ে কুলাউড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জয়পাশা সাকিনস্থ জাপানীবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কুলাউড়া থানার একটি পুলিশ দল। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে মোঃ হাসান মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া হাসান মিয়া বড়লেখা থানার মোহাম্মদনগর এলাকার মৃত বদরুল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি কুলাউড়া পৌরসভার জয়পাশা এলাকায় বসবাস করছেন। কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানিয়েছেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসানের সহযোগী কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাকে যথাযথভাবে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট জেলা বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ঐক্য পরিষদ, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করার দাবিতে, বর্তমান অধিক্ষেত্র বহাল রেখে শূন্য পদে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগসহ আট দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি পাঠানো হয়। সংগঠনের সভাপতি কাজী মাওলানা জয়নুল ইসলাম মুনিম এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আব্দুল জলিল খান স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কাজী মাওঃ বদরুল ইসলাম, কাজী নুরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সবুর, কাজী আব্দুর রাজ্জাক, কাজী সৈয়দ মুজাম্মিল উদ্দিন, কাজী মো. আব্দুল হাছিব, কাজী জামাল উদ্দিন, কাজী আব্দুস শাহীদ, কাজী জসীম উদ্দীন, কাজী আব্দুল ওয়াদুদ, কাজী জাকির হোসেন, কাজী আব্দশ শাকুর, কাজী আমীরুল ইসলাম, কাজী সিরাজুল ইসলাম, কাজী কয়েছ উদ্দিন খান, কাজী আবদুল বারী সিদ্দিকী, কাজী শামসুজ্জামান, কাজী আব্দুল ফাত্তাহ, কাজী হেলাল উদ্দিন, কাজী নুরুদ্দীন, কাজী মুহিবুর রহমান, কাজী আলীম উদ্দিন প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজারের বেশি মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের আয় সীমিত হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান অধিক্ষেত্র বহাল রাখার পাশাপাশি নিকাহ নিবন্ধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ১৩ অনুযায়ী বর্তমানে কর্মরত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র অবসরকাল পর্যন্ত বহাল রাখা। অবসরের পর নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কোনো অবসরকালীন ভাতা না থাকায় তাঁদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করা। কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার অবসরে গেলে তাঁর পুত্রকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া।
এছাড়া, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংশোধন করে পুরুষের বিবাহের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং নারীর ১৬ বছর নির্ধারণ, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ‘অহেতুক হয়রানিমূলক’ কার্যক্রম বন্ধ, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার প্রথা বন্ধ এবং নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ ও তালাকের হলফনামা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধন, তালাক নিবন্ধন, নকল ও কমিশন ফি বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ১৪ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা এবং পাঁচ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণের দাবি করা হয়েছে। তালাক নিবন্ধন ফি ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, বিবাহের নকল ফি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং কমিশন ফি ৫০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পেশাগত সমস্যা, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। স্মারকলিপিতে এসব দাবি মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে অবস্থিত সবুজবাগ আলিম মাদ্রাসার দুই শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস এবং শাহাব উদ্দিনের বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাঁরা ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
আব্দুল কুদ্দুস ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক শাহাব উদ্দিন ১৯৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজবাগ আলিম মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুস সোবাহান।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামসুর রহমান, মাওলানা আবুল বাসার মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, জামায়াতের থানা আমির মন্তাজ আলী, রাজিবপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমান, শওকত আলী, রমজান আলীসহ অন্যান্য বক্তাগণ অবসরপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেন। তাঁরা অবসরোত্তর জীবনের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুখ-শান্তি কামনা করেন। পরে বিদায়ী দুই শিক্ষককে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সম্মাননা ও উপহার প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরের নাগরিক সমস্যা, সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় ফেসবুকে তুলে ধরে আলোচনায় আসছেন শহরের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেইন। তিনি শহরের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা সরেজমিনে তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন। তাঁর এসব পোস্ট অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
শহরের সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন, বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি, দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা নাগরিক সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন মোশাররফ। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী ক্ষতিকর ও অবৈধ ট্রাক্টর-ট্রলির বিষয়ে সতর্ক করে এর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি মাদক, যুবসমাজ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক বিষয় নিয়েও তাঁর লেখালেখি রয়েছে। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিয়েও তিনি আলোচনা-সমালোচনা করেন। দলের ভালো কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভুল-ত্রুটি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মোশাররফের পোস্টে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে জনস্বার্থ ও স্থানীয় সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পায় বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন। সৈয়দপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি নিয়মিত মতামত দেন। পুলিশ প্রশাসনের ভালো উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি কোথাও কোনো সমস্যা বা জনভোগান্তির অভিযোগ থাকলে সেটিও তুলে ধরেন।
সৈয়দপুরের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর ক্যাম্পগুলোর বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও তাঁর লেখায় উঠে আসে। মোশাররফের লেখালেখির আরেকটি দিক হলো তিনি নিজে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সমস্যাগুলো দেখিয়ে ছবি বা ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন স্থানীয় সমস্যা দ্রুত মানুষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে নাগরিক সমস্যাগুলো আনতে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মোশাররফের ফেসবুকভিত্তিক এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৈয়দপুরের নাগরিক সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত আলোচনায় আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম হিসেবেও তাঁর এ ধরনের লেখালেখি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ