ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উইকেট উদযাপনে এবার তাইজুল


উইকেট উদযাপনে এবার তাইজুল

অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন হাসান মাহমুদ। এবারের উদযাপনে শামিল হয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

মারনাস লাবুশানেকে বোল্ড করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে তৃতীয় উইকেট এনে দিয়েছেন তাইজুল। ব্যক্তিগত ৩১ রানে বিদায় নেওয়ায় অস্ট্রেলিয়া এখন আরও বিপদে পড়েছে। কারণ, বাংলাদেশের থেকে এখনো ১৫০ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়ারা।

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৭৮ রান। স্টিভেন স্মিথ ২৪ রানের বিপরীতে ব্যাট করে আছেন ক্যামেরন গ্রিন, যিনি করেছেন ১ রান।

আরও পড়ুন: দেশ স্বাধীন করতে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একত্রে যুদ্ধের কথা বললেন নুরুল আমিন এমপি

এর আগে, অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকেই বোল্ড করেছেন হাসান। জ্যাক ওয়েদারল্ডকে বোল্ড করে শুরু করেছেন তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন হাসান।

দলীয় ৪ রানের সময় হাসানকে মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন বাঁহাতি ওপেনার। এর ফলে, প্রথম ইনিংসে ২৩ রান করেও এবার ‘ডাক’ মেরে বিদায় নেন।

শুরুতে সতীর্থ হারানোর ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছিলেন ট্রাভিস হেড-মারনাস লাবুশানে। কিন্তু তারা খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। ইনিংসের ১১তম ওভারে হেডকে বোল্ড করেন হাসান। হেডও একভাবে ওয়েদারল্ডের মতো আউট হন। হাসানকে মারতে গিয়ে তিনি ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন। ব্যক্তিগত ১৭ রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় হতাশ হেড তার বেল ঠিক করে যান।

অন্যদিকে, ডারউইনে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১ রানের সেঞ্চুরির সাহায্যে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছে। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ রান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়েছেন পেসার জশ হ্যাজলউড, যিনি খরচ করেছেন ৮৯ রান। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের পক্ষে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান।

আরও পড়ুন: কেন সমর্থকদের কলার বেলুন নিয়ে মাঠে আসতে বললেন ম্যানসিটি কোচ এনজো মারেসকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্ধ্যার মধ্যে যেসব এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


সন্ধ্যার মধ্যে যেসব এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

দেশের ছয়টি জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই কারণে, সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ওই সংস্থাটি।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য একটি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করার জন্য বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিজিতে পাঠানোর কথা বলে ২১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


ফিজিতে পাঠানোর কথা বলে ২১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

ফিজিতে পাঠানোর কথা বলে দুইজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা নেওয়ার পরও বিদেশে পাঠাতে না পারার পাশাপাশি টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগপত্রের সূত্র অনুযায়ী, অভিযোগকারীরা হলেন—নাজমুল হাসান (৪১), বাবুল (৪১) এবং মো. রাজা মিয়া (৩৬)। তাঁদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচিত একজন বন্ধুর মাধ্যমে অভিযুক্ত মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে বিদেশে, বিশেষ করে ফিজিতে লোক পাঠানোর বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্তের আলোচনা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফিজিতে পাঠানোর কথা বলার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নেওয়ার জন্য বলা হয়। বিভিন্ন সময়ে নগদে মোট ১৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর পাশাপাশি, পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্রও অভিযুক্তের কাছে জমা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অভিযুক্তের কাছে তাঁদের প্রায় ২১ লাখ টাকা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় পার হলেও অভিযুক্ত তাঁদের ফিজিতে পাঠাতে পারেননি। একই সঙ্গে দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন সময় নানা অজুহাত দেখাতে থাকেন, বলছেন অভিযোগকারীরা। এমনকি তাঁরা পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার পরও পাওনা টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তার জন্য গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত তাঁদের কাছে একটি জমির দলিল প্রদান করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ওই জমি তাঁদের তিনজনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া কিংবা জমি বিক্রি করে পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাঁদের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলছেন অভিযোগকারীরা।

বর্তমানে তাঁরা পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা ও পাওনা টাকা উদ্ধারের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন এবং তাঁদের পাওনা টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা করারও আবেদন করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য যদি পাওয়া যায়, তবে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতের ৫১ বছর, নানা কর্মসূচিতে স্মরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতের ৫১ বছর, নানা কর্মসূচিতে স্মরণ

আজ ১৫ আগস্ট। বাঙালি জাতির ইতিহাসে গভীর শোক ও বেদনার একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আজ তাঁর শাহাদাতের ৫১ বছর পূর্ণ হলো।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সরকারি ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন নথিতে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বাধিকার আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্ব বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সংগঠিত করে। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেও বঙ্গবন্ধু সরকারের সামনে ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। অবকাঠামো পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং নতুন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু হয় তাঁর নেতৃত্বে।

নানা কর্মসূচিতে স্মরণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। অতীতেও ১৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশজুড়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালনের নজির রয়েছে।

ইতিহাসের শোকাবহ অধ্যায়

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন নথিতেও এ হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনে পরিপূর্ণ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়।

প্রজন্মের পর প্রজন্মে স্মরণ

প্রতি বছর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দিনটিকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত—এমন মূল্যায়ন বাংলাদেশের সরকারি ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রকাশনায় উঠে এসেছে।

৫১ বছর পরও ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গভীর শোকের দিন হিসেবে আলোচিত। দিনটি স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে নিহত পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২২ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটেছে, যার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

মাউমেরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা ফাতুর রহমান এএফপিকে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা রয়েছেন।

ভূমিকম্পের পর হাজারো মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছের নাগেকেও রিজেন্সিতে। সেখানকার বাসিন্দারা সমুদ্রের পানি সরে যেতে দেখে দ্রুত উঁচু জায়গায় চলে যান।

এটি সমুদ্রের পানি হঠাৎ সরে যাওয়া সুনামির সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। পরে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ সুনামির সতর্কতা তুলে নেয়। তবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ পরবর্তী কম্পনে দুর্বল ভবন ধসে পড়তে পারে।

নাগেকেওর ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ইয়োহানেস বাবো তখন একটি বাজারে ছিলেন। তিনি বলেন, "হঠাৎ মাটি কাঁপতে শুরু করে। কম্পন ছিল খুব শক্তিশালী। সৌভাগ্যক্রমে তখন তিনি ও অন্যরা ঘরের বাইরে ছিলেন।" বাবো জানান, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর মানুষ আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে।

নিরাপত্তার জন্য তিনি পরিবার সদস্যদের নিয়ে পাহাড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, তার পরিবার নিরাপদে আছে এবং কেউ আহত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলের কাছে। এটি উপকূলীয় শহর এন্দে থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটি ছিল অগভীর, ফলে এর প্রভাব কাছাকাছি এলাকায় বেশি অনুভূত হয়েছে।

প্রধান ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটার শক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। ভূমিকম্পে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। মাউমেরেসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজছেন।

জাকার্তা থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পূর্বে মাউমেরে শহরের বাসিন্দা লুকাস লোটার বলেন, "হঠাৎ মাটি কাঁপতে শুরু করলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।" ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের রোগীদেরও বাইরে বের করে আনা হয়। তিনি জানান, কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখতে পেয়েছেন। লোটার হাসপাতালের রোগীসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, "ভূমিকম্পের কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে হাসপাতালে থাকা লোকজনও নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হন।"

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোতে মূলত ছোট শহর ও গ্রাম রয়েছে। সেখানে উঁচু ভবনের সংখ্যা খুব কম। অনেক এলাকায় কোনো উঁচু ভবনই নেই। ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা সম্ভাব্য সুনামির সতর্কতা জারি করে। মানুষকে দ্রুত উঁচু জায়গায় চলে যেতে বলা হয়। শুরুতে সমুদ্র থেকে ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সুনামির সতর্কতা তুলে নেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতা তুলে নেওয়া হলেও সমুদ্রের পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ এলাকায় অবস্থিত। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত এই এলাকায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত নিয়মিত ঘটে। তাই ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূকম্প ঘটে। ফ্লোরেস দ্বীপে ১৯৯২ সালে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ মারা যান। দেশটির ইতিহাসে ২০০৪ সালের ভূমিকম্প ও সুনামি সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি। ওই বছর সুমাত্রার উপকূলের কাছে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর পর ভারত মহাসাগরে ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। পুরো অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা যান। এর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই মারা যান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ‘বক্সিং ডে’ নামে পরিচিত ২৬ ডিসেম্বরের ওই দুর্যোগটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি।

২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটে। ওই বছর লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে আরো কয়েকটি ভূমিকম্প হয়। এতে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় লম্বক ও পাশের সুম্বাওয়া দ্বীপে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। একই বছর সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পর সুনামি আঘাত করে, ফলে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%