০২:৫৮ পি.এম
গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা একটি ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মোছা. নাজমা খাতুন (২৪) নামের এক নারীর মৃতুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে ভারী বৃষ্টির পর সড়কের পাশে জমে থাকা পানির মধ্যে হাঁটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা খাতুন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার লাংগলঝাড় এলাকার আব্দুল বারীর মেয়ে। তবে গাজীপুরে তিনি কোথায় বসবাস করতেন এবং কী কাজ করতেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে গাজীপুরে ভারী বৃষ্টির কারণে ভোগড়া বাইপাস এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় নাজমা খাতুন ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পানির নিচে থাকা একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে যান। পানির প্রবল স্রোত এবং গভীরতার কারণে তিনি দ্রুত তলিয়ে যান।
আরও পড়ুন: নাচোলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ৪টি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে মাঠে নামলেন ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আসগার হাসান
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর তারা ম্যানহোল থেকে নাজমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান বলেন, খোলা ড্রেনে পড়ে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত নারীর পরিচয় এবং গাজীপুরে তার অবস্থানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
গাজীপুরে খোলা ড্রেন ও ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে ফারিয়া তাছনিম জ্যোতি (৩২) নামের এক নারী নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা পর টঙ্গীর শালিকচূড়া বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওই ঘটনার পর নগরীর খোলা ড্রেন ও ম্যানহোলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে রিটও করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ঘটনার পরও নগরীর বিভিন্ন স্থানে খোলা ম্যানহোল ও অরক্ষিত ড্রেন রয়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় ১৬১ অসহায় পরিবার পেল হাঁস-মুরগি, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নগরীর ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাতসংলগ্ন ড্রেন-ম্যানহোলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু বহুদিন ধরে অনেক স্থানে খোলা ম্যানহোল, ভাঙা ড্রেন এবং অপর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকরভাবে সমাধান করা হয়নি। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণহানিও ঠেকানো যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং দায়িত্বশীলদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর দায়সারা তৎপরতা নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ সব ম্যানহোল ও ড্রেন দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে ঢাকনা বসানো, সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় নগরবাসীর জীবন আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
নগরবাসীদের দাবি, গাজীপুর মহানগরের খোলা ম্যানহোল ও অরক্ষিত ড্রেনগুলো দ্রুত শনাক্ত করে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অবহেলা বা গাফিলতির কারণে যদি কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তবে দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: টেকনাফের নয়াপাড়া পাহাড়ে সশস্ত্র ডাকাতদের গুলিতে সেনাসদস্য নি-হ-তের খবর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন