ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান যুদ্ধের পেছনে চীনের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে


ইরান যুদ্ধের পেছনে চীনের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন আর শুধুমাত্র ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই সংঘাতের চারপাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে চীনের ভূমিকা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানকে মোকাবিলা করা জটিল হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ, সংঘাতটি যদিও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে, তবে এর প্রভাব এবং স্বার্থের সঙ্গে চীনও জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন

এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। তা হলো, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি পরোক্ষ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে? তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে। বরং ওয়াশিংটনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এবং সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত দুই দেশের স্বার্থকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে আসছে। বিশেষ করে জ্বালানি, নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য।

এই বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান এবং স্বার্থের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতে কোন দেশের প্রভাব কতটা থাকবে, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

তাহলে ইরান সংঘাত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-চীন যুদ্ধ নয়, তবে এটি দুই দেশের বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে জটিল করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে

চীন ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন

ইরানের যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। যুদ্ধ শুরুর আগে চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ ইরান থেকে আসত। সংঘাত শুরু হওয়ার পরও তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে চীন তার অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চীনের কাছে তেল বিক্রি করে ইরান গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয় করছে। এই বাণিজ্যে চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। এসব শোধনাগার দেশের বড় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির তুলনায় পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর কম নির্ভরশীল। ফলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের তেল কেনা তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ।

তবে ইরানের সঙ্গে চীনের এই বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা কোম্পানি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের ওপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আরও পড়ুন: হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হবে?

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে, এমন প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নেটওয়ার্ককেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। ফলে ইরান-চীন সম্পর্ক এখন শুধু তেল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সম্পর্ককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত স্বার্থের পার্থক্যও আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি জটিল কৌশলগত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এক বিষয়। কিন্তু চীনের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিলে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কিছু সরবরাহকারী ইরানে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি পাঠিয়েছে। এসব পণ্য সাধারণ কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম এবং ড্রোন তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।

এছাড়া জর্দানে মার্কিন সেনাদের একটি স্থাপনায় ইরানের হামলার আগে বা পরে ব্যবহৃত কিছু স্যাটেলাইট ছবি চীনা প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চীন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই অভিযোগকে তেমন গুরুত্ব দেননি। সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরাসরি কোনো সংঘাত না থাকলেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে দমনপীড়নের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ আইনপ্রণেতার চিঠি

আধুনিক যুদ্ধে বাণিজ্যিক প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামের পার্থক্য দিন দিন কমে আসছে। নেভিগেশন ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট ছবি, যোগাযোগ সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং উন্নত প্রযুক্তি এখন সামরিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কোনো দেশকে সরাসরি সেনা বা ক্ষেপণাস্ত্র না পাঠিয়েও সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করা সম্ভব। এসব সরঞ্জাম যুদ্ধের সময় একটি দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

এ কারণেই ইরানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক কাজে সরবরাহ করা কিছু প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার হতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে চীন-ইরানের স্বার্থের মিল

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘যেকোনো পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত মিসর: সিসি

চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত করলে চীনের তেল সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায়। চীনও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা এবং সামরিকীকরণের বিরোধিতা করে আসছে। ফলে এ বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থের কিছুটা মিল রয়েছে।

চীন ইরানের পতন চায় না। একই সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হোক বা তেল সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিক, সেটিও বেইজিং চায় না। তবে চীন ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং চীনা কর্মকর্তারা বারবার সংযম এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের বৈধ অধিকার এবং স্বার্থের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

তাহলে ইরানকে সমর্থন করলেও চীন এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যাতে তার জ্বালানি সরবরাহ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে এআই খাতের ধাক্কায় চীনের প্রযুক্তি শেয়ারে সবচেয়ে বেশি দরপতন

প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে যুদ্ধ

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব দেশটির সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে চীন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য এবং জ্বালানি সম্পর্ক চালু রাখছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা সীমিত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। দুই দেশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চায়। তাই এই সংঘাত তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দুর্বলতাও সামনে নিয়ে আসছে। তবে ইরান যুদ্ধকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-চীন যুদ্ধ বলা ঠিক হবে না। দুই দেশ ইরানে একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করছে না। কিন্তু সংঘাতের কারণে দুই দেশের স্বার্থ এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং আর্থিক প্রভাব কাজে লাগাচ্ছে, সেখানে চীন বাণিজ্য, তেল কেনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের প্রতিযোগিতাকে বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবে? এই সংঘাত ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় দুই দেশের প্রভাব এবং সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবি, অডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


শরীয়তপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবি, অডিও ভাইরাল

শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজিমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগকারী মো. রবিন মাদবর (২৩) জাজিরা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের সেলিম মাদবরের ছেলে। রবিন জানান, সম্প্রতি তিনি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদনের তদন্তের দায়িত্ব পান জাজিরা থানার এএসআই নাজিম। পরবর্তীতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে কল করে তাকে থানায় যেতে বলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে রবিন ও এএসআই নাজিমের মধ্যে টাকা নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। অডিওতে রবিনকে টাকার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ করতে শোনা যায়। তিনি নিজেকে রাজমিস্ত্রি পরিচয় দিয়ে বলেন, দুই হাজার টাকা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। একপর্যায়ে অডিওতে এএসআই নাজিমকে এক হাজার টাকা দাবি করতে শোনা যায়।

এ সময় রবিন বলেন, তিনি শুনেছেন ৫০০ টাকায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করা যায়। নাজিমের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শোনা যায় জবাবে। অডিওর পরবর্তী অংশে রবিনকে বলতে শোনা যায়, স্যার, আপনার ফাইলের নিচে টাকা রাখলাম।

তবে এএসআই নাজিম টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রবিনের বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজপত্র ছিল না। তিনি সেসব কাগজ জমা দিতে বলেছিলেন। পরে রবিন সেগুলো জমা দিয়েছেন। টাকা চাওয়া কিংবা ফাইলের নিচে টাকা রাখার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে সোনা ধরে রাখল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে সোনা ধরে রাখল ভারত

ভারত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে পরাজিত করে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। অভিষেক শর্মা এবং তিলক ভার্মার ঝোড়ো ফিফটিতে রানের পাহাড় গড়ে ওঠে, যার ফলে হাসান নেওয়াজের লড়াই সত্ত্বেও ভারতীয় দল জয় পায়।

শনিবার জাপানের নিশীনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ভারত পাকিস্তানকে ১৯ রানে পরাজিত করে। পাকিস্তান ২১২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার হাসান নেওয়াজের ৯৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংস সত্ত্বেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

বিস্তারিত আসছে…

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরেন্দ্রের রোদে সোনালী স্বপ্ন: সৌর সেচে অনাবাদী জমিতে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


বরেন্দ্রের রোদে সোনালী স্বপ্ন: সৌর সেচে অনাবাদী জমিতে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে

মো. আয়নাল হক

রাজশাহী, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বরেন্দ্র অঞ্চলে, যা খরার জন্য পরিচিত, যখন তপ্ত রোদ পড়ছে, তখন সেখানে এক নীরব কৃষি বিপ্লবের সাক্ষী হচ্ছে ফসলি জমিগুলো। ডিজেল ইঞ্জিনের গর্জন কিংবা যন্ত্রপাতির কোলাহল ছাড়াই এই পরিবর্তন ঘটছে।

সৌর চালিত সেচ পাম্পগুলো কোনো জ্বালানি খরচ ছাড়াই ভূগর্ভ থেকে পরিষ্কার পানি তুলে শুষ্ক জমিতে পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে এক সময়ের অনাবাদী জমিগুলো এখন ফলপ্রসূ কৃষিজমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কৃষকেরা ধান, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মরিচ চাষ করছেন। কিছু কৃষক বছরে তিনবার ধান উৎপাদন করছেন।

স্থানীয় কৃষক আনারুল জানান, আগে পানির জন্য কৃষকদের অনেক কষ্ট করতে হতো; দূরবর্তী পুকুর থেকে ডিজেল চালিত পাম্পের মাধ্যমে দীর্ঘ পাইপলাইন টেনে পানি আনতে হতো। সেচের খরচ এত বেশি ছিল যে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ত। পল্লী বিদ্যুতের সংযোগও ছিল না।

সৌর সেচ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, এখন সূর্য ওঠার সাথে সাথেই পাম্প চালু হয়ে যায় এবং কোনো জ্বালানি খরচ ছাড়াই পানি উঠতে থাকে।

তার মতে, এই সোলার পাম্পটির মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ২০ জন কৃষকের আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে যৌথভাবে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা হচ্ছে, কোনো একক মালিকের পরিবর্তে।

আরেক কৃষক সুমন জানান, আগে তারা মূলত আমন ধান এবং শীতকালীন সবজি বা ডালের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তিনি বলেন, সহজে সেচের পানি পাওয়ার ফলে এখন তারা আউশ ও বোরো ধানের পাশাপাশি আগাম জাতের সবজি চাষ করছেন এবং এতে অতিরিক্ত আয় হচ্ছে।

কৃষক আখতার হোসেন জানান, সেচের পানির সহজলভ্যতা এক সময়ের অনাবাদী এবং মরুপ্রায় জমিকে উর্বর কৃষিজমিতে রূপান্তর করেছে। পাশের জমি থেকে বেগুন তোলার সময় তিনি জানান, পলিথিন মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি আগাম জাতের ফুলকপির চারাও তৈরি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অধীনে বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে সৌর চালিত সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছিল, যার সমাধান হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের অধীনে সেচ সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের বিনামূল্যে সৌর সেচ ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দুই বছরে রাজশাহী বিভাগে ৩২টি সৌর সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত এলাকায় সেচের জন্য প্রতিটি ২ অশ্বক্ষমতা (হর্স পাওয়ার) সম্পন্ন ২৪টি স্থায়ী সৌর সেচ ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ৮টি বহনযোগ্য (পোর্টেবল) সিস্টেম দেওয়া হয়েছে যেন কৃষকেরা তা এক জমি থেকে অন্য জমিতে নিয়ে যেতে পারেন এবং বাগানগুলোতে নির্দিষ্টভাবে সেচ দেওয়ার জন্য ১০টি প্রিসিশন সৌর ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান জানান, টেন্ডার অনুযায়ী প্রতিটি সৌর পাম্প স্থাপনে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ৫৫০ ওয়াটের ছয়টি সোলার প্যানেল থেকে মোট ৩,২০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। ২ অশ্বক্ষমতার পাম্পটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ করতে পারে।

তিনি জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে যেসব এলাকায় গভীর নলকূপের সেচ এলাকা (কমান্ড এরিয়া) কমে গেছে, সেসব জায়গায় এই প্রযুক্তি বিশেষ উপযোগী। এর উদাহরণ দিয়ে হাসানুজ্জামান বলেন, একটি গভীর নলকূপের সেচ এলাকা যেখানে আগে প্রায় ১৫০ বিঘা ছিল, তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৮০ বিঘায়। এ ধরনের এলাকায় এই প্রযুক্তি একটি আশীর্বাদস্বরূপ।

তিনি বলেন, সৌর সেচ ব্যবস্থার ফলে কৃষকদের সেচ খরচ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং ফসলের নিবিড়তা (ক্রপিং ইন্টেনসিটি) প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে বিদ্যমান ডিজেল ও বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পগুলোতেও সোলার প্যানেল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল মতিন জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এমন দুর্গম এলাকাগুলোতে সৌর সেচ বিশেষভাবে কার্যকরী। তবে সেচ মৌসুমের বাইরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে এই উদ্যোগ আরও বেশি অর্থবহ হতো।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এই উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান শক্তি নির্ভর উপাদান হলো সেচ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশ সাধারণ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


বরিশালে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশ সাধারণ মানুষ

বরিশাল অঞ্চলে এলপি গ্যাসের দাম প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরিশাল মহানগরীর কোনো এলপিজি স্টেশনে যানবাহনের অটোগ্যাস সরবরাহ গত প্রায় ১৫ দিন ধরে নেই। পুরো অঞ্চলে প্রতিদিনই তরল গ্যাসের সরবরাহ কমছে। বর্তমানে সাড়ে ১২ কেজির রান্নার গ্যাসের দাম ১৯ শত টাকা ছুঁয়েছে। অথচ দুই মাস আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৪৫০ টাকা। ডিলারগণ জানিয়েছেন, বোতলজাত এলপি গ্যাসের সরবরাহও ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

এছাড়া, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহন গ্যাস সংকটে পড়ছে। বরিশাল মহানগরীসহ এ অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন গ্যাসের জন্য লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, বসুন্ধরা ও ওরিয়নসহ ৮টি গ্যাস বিপণন প্রতিষ্ঠান বরিশালে বাজারজাতকরণ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয় একাধিক খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, কোম্পানিতে আগাম টাকা দিয়েও সাড়ে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার পেতে যেখানে সাড়ে ১৬ শত টাকা গুনতে হচ্ছে, সেখানে পরিবহন মাসুলসহ সব খরচের পরে ১৮ শত টাকার নিচে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসন থেকে বিষয়টি উপলব্ধি করে গ্যাসের মূল্যহার সমন্বয় না করে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ফলে এক পর্যায়ে তাদের পক্ষে গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার কিছু কর অবকাশ দিয়ে এলপি গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের ন্যূনতম কোনো মাথাব্যথা নেই বলে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বেশিরভাগ পরিবার রান্নার গ্যাসের অগ্নিমূল্য নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষোভও জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%