ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশ সাধারণ মানুষ


বরিশালে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশ সাধারণ মানুষ

বরিশাল অঞ্চলে এলপি গ্যাসের দাম প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরিশাল মহানগরীর কোনো এলপিজি স্টেশনে যানবাহনের অটোগ্যাস সরবরাহ গত প্রায় ১৫ দিন ধরে নেই। পুরো অঞ্চলে প্রতিদিনই তরল গ্যাসের সরবরাহ কমছে। বর্তমানে সাড়ে ১২ কেজির রান্নার গ্যাসের দাম ১৯ শত টাকা ছুঁয়েছে। অথচ দুই মাস আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৪৫০ টাকা। ডিলারগণ জানিয়েছেন, বোতলজাত এলপি গ্যাসের সরবরাহও ক্রমাগত কমে যাচ্ছে।

এছাড়া, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহন গ্যাস সংকটে পড়ছে। বরিশাল মহানগরীসহ এ অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন গ্যাসের জন্য লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, বসুন্ধরা ও ওরিয়নসহ ৮টি গ্যাস বিপণন প্রতিষ্ঠান বরিশালে বাজারজাতকরণ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয় একাধিক খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, কোম্পানিতে আগাম টাকা দিয়েও সাড়ে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার পেতে যেখানে সাড়ে ১৬ শত টাকা গুনতে হচ্ছে, সেখানে পরিবহন মাসুলসহ সব খরচের পরে ১৮ শত টাকার নিচে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসন থেকে বিষয়টি উপলব্ধি করে গ্যাসের মূল্যহার সমন্বয় না করে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ফলে এক পর্যায়ে তাদের পক্ষে গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

আরও পড়ুন: পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়তে প্রতিটি শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: চসিক মেয়র

অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার কিছু কর অবকাশ দিয়ে এলপি গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের ন্যূনতম কোনো মাথাব্যথা নেই বলে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বেশিরভাগ পরিবার রান্নার গ্যাসের অগ্নিমূল্য নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষোভও জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরনদীর নলচিড়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


গৌরনদীর নলচিড়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নলচিড়া ইউনিয়নে এ প্রতিনিধি সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এবং গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এএফএম জামাল উদ্দিন। বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল খান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান শরীফ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বদিউজ্জামান মিন্টু, গৌরনদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ এবং সদস্য সচিব মো. শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদশী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. আকবার মোল্লা, গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন আবু বকর গাজী, মো. জামাল উদ্দিন ফকির, মো. সাইয়েদুল আলম সেঁন্টু খান, মো. শামিম আহমেদ, মো. কামরুজ্জামান খোকন, মো. হারুন সিকদার, মো. শাহে আলম হাওলাদার, কে এম আনোয়ার হোসেন বাদল এবং মো. ফুয়াদ হোসেন এ্যনি।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে বয়স্ক জনগণের সংখ্যা বাড়ছে, প্রেসিডেন্টের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


ইরানে বয়স্ক জনগণের সংখ্যা বাড়ছে, প্রেসিডেন্টের সতর্কতা

ইরান দ্রুত জনমিতিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০৫১ সালের মধ্যে ইরানের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি বয়স্ক মানুষ হতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। শনিবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, জাতীয় প্রবীণ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্যের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় খুবই সীমিত। দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে আগেভাগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা কম ব্যয়বহুল, মানবিক এবং কার্যকর।

তিনি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, একাকিত্ব, দারিদ্র্য, স্বনির্ভরতা হারানো এবং পরিবার ও বীমা ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপ মোকাবিলায় আগেভাগে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বয়স্ক সমাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তখনই, যখন আমরা এখনো বয়স্ক হয়ে উঠিনি।’

তিনি বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে জাতীয়, দূরদর্শী এবং বিভিন্ন খাতের সমন্বিত নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও প্রবীণদের পরিচর্যাকে পরস্পর-সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এছাড়া, বয়স্ক জনগোষ্ঠী সংক্রান্ত একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যব্যবস্থা চালু, প্রবীণদের বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা সংশোধন, তাদের আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং পরিচর্যা সেবা ও পরিচর্যাকারীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

তিনি একই সঙ্গে ‘সিলভার ইকোনমি’ বা প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানো, প্রবীণ-বান্ধব শহর গড়ে তোলা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং অবসরজীবনের জন্য আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই যুগেও চালু হয়নি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই যুগেও চালু হয়নি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা

গত এক বছর ধরে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত রয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসাইন শরিফ। চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য তাঁর পরিবার জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। দুই মাস আগে তিনি বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছেন, যার জন্য ব্যয় হয়েছে অন্তত ২০ লাখ টাকা।

সাজ্জাদের চিকিৎসার জন্য অর্থের একটি অংশ সংগ্রহ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভাগের সহযোগিতায়। তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কেমোথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতি মাসে তাঁর পরিবারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা।

আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম হক অনন্যা একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। সম্প্রতি ক্যানসারজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও, এখনও প্রতিমাসে তার ওষুধের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। চিকিৎসার খরচ মেটাতে তাঁর বাবা জমি বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে তাঁর সহপাঠীরা সহযোগিতা করেছেন।

সাজ্জাদ ও তাসনিমের মতো গুরুতর অসুস্থ আরো অনেক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সহপাঠীদের কাছ থেকে কিংবা ক্রাউড ফান্ডিং (গণ-অর্থায়ন)-এর মাধ্যমে সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগভিত্তিক অর্থ সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

অথচ একই ধরনের অসুস্থতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিমার আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করা হলে গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ বিমার আওতায় আসতে পারে। এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কমবে এবং চিকিৎসার জন্য সহপাঠীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমবে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পরেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)-এর শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু হয়নি। দীর্ঘ ২০ বছরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেই নিয়মিত বা কাঠামোবদ্ধ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা।

তবে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের মধ্যে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাময়িক জীবনবিমার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর উপস্থিতিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেনিথ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের মধ্যে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই সময় শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সেমিস্টার প্রতি ১০০ টাকা প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্যবিমা চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সেই আশ্বাসের প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মানসুরা আফরিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা থাকা এখন সময়ের দাবি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার থেকে আসা। হঠাৎ বড় ধরনের চিকিৎসার খরচ তাদের পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ঝুঁকি থেকে কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারে।’

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা

দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)-এ স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাবিতে ভর্তির সময় এককালীন ২৭০ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে শিক্ষার্থীরা তালিকাভুক্ত বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা পান। কোনো শিক্ষার্থী চিকিৎসা চলাকালে মারা গেলে তার পরিবারের জন্য রয়েছে এককালীন এক লাখ টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ নিজ বিভাগে ভর্তির সময় বছরে ২৫০ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এ বিমা বাধ্যতামূলক। অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে অথবা ছাত্রত্ব শেষ হলে বিমার মেয়াদও শেষ হয়।

জাবিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার অন্তর্ভুক্ত হতে প্রতিবছর ৩৯০ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হয়। বিমার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে এককালীন দুই লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জীবিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে বছরে সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে চিকিৎসা নিলে বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ঢাবি, রাবি ও জাবির পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মন্দিরা দাস বলেন, ‘ঢাবি, রাবি ও জাবির মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও স্বাস্থ্যবিমা থাকা দরকার। বিশেষ করে শিক্ষকদের এই ক্ষেত্রে বিবেচনা উচিত যে, তাদের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে, শহরে এবং বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে চাঁদা তুলে চিকিৎসার খরচ চালায়। এই ক্ষেত্রে শিক্ষক ও প্রশাসনকে আরো আন্তরিক হওয়া উচিত।’

আবারও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে, তথ্য বিশ্লেষণ করে যদি উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয় তাহলে নেব।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার ব্যাপারে একবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে ইনস্যুরেন্স কম্পানিগুলো কিছু জটিলতা দেখিয়েছে। আমরা আবার কথা বলব। কোনো কম্পানি আগ্রহ দেখালে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার বিমানবন্দরে পেনাংসহ নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


কক্সবাজার বিমানবন্দরে পেনাংসহ নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু

দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিমান যোগাযোগে ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক চালু সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে এয়ার এশিয়া। পাশাপাশি নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুনমিং এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগও চলছে বলে জানা গেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে। প্রস্তাবিত এই রুট চালু হলে কক্সবাজার সরাসরি মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। তবে, ফ্লাইট চালুর নির্দিষ্ট তারিখ ও সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীলতা কমে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নির্মিত হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

নতুন টার্মিনালে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি, লিফট, এসকেলেটর ও বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর আগে নতুন টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদেরও সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু না হওয়া পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রী ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

নতুন টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন-বহির্গমন এখান থেকেই সম্পন্ন হবে। অভ্যন্তরীণ যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইন সম্পন্ন করে পুরনো টার্মিনালের মাধ্যমে বিমানে উঠবেন।

টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। আগে যেখানে বছরে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা ছিল, সম্প্রসারণের পর তা প্রায় ১৮ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে টার্মিনালে আধুনিক ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি উড়োজাহাজে সরাসরি ওঠানামার জন্য বোর্ডিং ব্রিজ স্থাপন করা হয়েছে।

শুধু টার্মিনাল নয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী করে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে।

এই রানওয়ের একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে সাগরের পানির ওপর। এখানে বিমান অবতরণ করলে মনে হবে, যেন পানির ওপরই বিমান নেমেছে।

বর্ধিত এই রানওয়ে বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত বড় উড়োজাহাজ, এমনকি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করে রানওয়েটি উন্নত করা হয়েছে।

ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরে দেশীয় উড়োজাহাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, পেনাংয়ের পাশাপাশি কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কুনমিং রুটের মাধ্যমে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের কক্সবাজারে আকৃষ্ট করার লক্ষ্য রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা সরকার পর্যালোচনা করছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব আন্তর্জাতিক রুট চালু হলে কক্সবাজার শুধু সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক দেশীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবেও বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালু হলে বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বাড়বে। আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ট্যুর অপারেটর, বিনোদন ও অন্যান্য পর্যটনসেবায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পর্যটন খাতে আরো বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের নিয়মিত কার্যক্রম, যৌক্তিক বিমানবন্দর ফি এবং পর্যটন গন্তব্যের সার্বিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর আগ্রহকে নিয়মিত ফ্লাইটে রূপ দেওয়া, পর্যটকসেবার মান বাড়ানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য সমন্বিত পর্যটন প্যাকেজ চালু করা প্রয়োজন। তাহলেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত অবকাঠামোর সুফল পর্যটন খাতে কার্যকরভাবে পাওয়া সম্ভব হবে।

কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, দ্বীপ, দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ ও সামুদ্রিক পর্যটনের বিস্তৃত সম্ভাবনা। এতদিন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বড় অংশকে ঢাকা হয়ে কক্সবাজারে আসতে হতো। সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সুযোগে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ সময় ও সংযোগের জটিলতা কমবে।

এয়ার এশিয়ার পেনাং-কক্সবাজার রুট চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কাঠমান্ডু, কুনমিং ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য রুট চালু হলে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কক্সবাজারের সক্ষমতা কাজে লাগাতে বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামো, পরিবেশ সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, যাতায়াতব্যবস্থা, পর্যটকসেবার মান এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কক্সবাজারকে একটি টেকসই আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%