১১:৩৫ পি.এম
যুগান্তরে খবর প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
২৬ অক্টোবর তারিখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিনের স্বাক্ষরিত চিঠিটি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, চিঠিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে পৌঁছেছে।
চিঠির সঙ্গে যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত পত্রিকা কাটিং সংযুক্ত করা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর প্রেরিত চিঠিতে উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন উল্লেখ করেছেন যে, বিদ্যালয় পরিবর্তনের নামে ‘টিসি ফি’ এবং অফিস খরচের নামে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অনিয়মের সঙ্গে বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহীদুল ইসলাম শহীদ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায়, বর্ণিত বিষয়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ চিঠি প্রাপ্তি স্বীকার করে এই প্রতিবেদকের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আপনাদের এত উৎসাহ কেন? এ নিয়ে খোঁজ নিতে হবে কেন? তদন্ত কমিটি গঠন করেছি কিনা এটা বোর্ডের বিষয়। দুর্নীতি কি শুধু আমরাই করি! আর কেউ করেন না!’ এরপর তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড/ সোনালী সেবায় সিন্ডিকেট কোটি টাকা লোপাট’ শীর্ষক খবর যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী জেএসসি (অষ্টম শ্রেণিতে) স্কুল পরিবর্তনের (টিসি) জন্য আবেদন করেছেন। প্রতিটি শিশুর স্কুল পরিবর্তন ফি (সেবামূল্য) বাবদ ‘সোনালী সেবা’ নামে ১ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কিন্তু দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে ‘সোনালী সেবা’ খাতে ওই টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে নগদ টাকা নেওয়া হয়। এভাবে সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭শ জনের ‘সোনালী সেবার’ নামে নগদ টাকা বোর্ডের ব্যাংক হিসাব খাতে জমা করা হয়। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবশিষ্ট ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর নগদ দেওয়া টাকা বোর্ডের তহবিলে জমা না করে স্কুল পরিবর্তন বা টিসির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ফলে, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি ৩ হাজার ৮০০ জনের (যাদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়নি) তাদের বোর্ড ফির নামে ৩৮ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে অতিরিক্ত ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত
সার্ভারের কোড পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশেষ কায়দায় ওই দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। এই পরিমাণ টাকা নগদ গ্রহণ করা হলেও শিক্ষার্থীদের নামে কোনো ব্যাংক রসিদ প্রদান করা হয়নি।
এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, প্রথমে ১৩ অক্টোবর দুদক সমন্বিত দিনাজপুর জেলা কার্যালয় এ অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের অনুসন্ধান দল এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের সমন্বয়ে গঠিত ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক সমন্বিত দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান।
আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন