০২:২৪ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে শহীদ ওসমান হাদীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, জীবদ্দশায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করার পর, মৃত্যুর পর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাঁকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে হাদীর সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির মতবিরোধ ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপি ওই আসনে হাদীর বিপরীতে রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী জুবায়ের হাদীকে ওই আসন থেকে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় ছিল।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক সহিদুলকে প্রাণনাশের হুমকি, আদালতে মামলা
হাদী ৫০০ ভোট পেলেও ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করার কথা জানিয়েছিলেন, এ প্রসঙ্গে হাদীর ভাই ওমর হাদীর একটি ফেসবুক পোস্টের কথাও উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাশেদ খান বলেন, জীবদ্দশায় হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলাই আন্দোলনের ঐক্য বিনষ্ট এবং আন্দোলনকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি জামায়াতের রাজনীতিরও সমালোচনা করেছিলেন। অথচ মৃত্যুর পর তাঁকে দুই দলের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে হাদীর অবস্থানকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তাঁর দাবি, হাদী জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতির আদর্শ ধারণ করতেন।
বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানান রাশেদ খান। তিনি মনে করেন, হাদীকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হবে না।
আরও পড়ুন: আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, নতুন ভবন ৩১ একরে নির্মিত হবে
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে হাদীকে সমাহিত করা নিয়েও পোস্টে কথা বলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, নজরুলের সঙ্গে হাদীকে তুলনা করে বিতর্ক তৈরি না করে তাঁদের চিন্তা ও চেতনার মিলকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, হাদী জীবদ্দশায় মৃত্যুর পর বাবার কবরের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে কবরের স্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে হাদীর সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নুর আক্রান্ত হওয়ার পর হাদী তাঁর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। পরে হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নুরও তাঁর পক্ষে অবস্থান নেন। দুজনই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খানের দাবি, নুরের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের স্পষ্ট ব্যাখ্যাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খান জানান, শনিবার সকালে ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাদীর ভাই বলেছেন, যখন অনেকে কথা বলতেন না, তখন নুর তাঁর পক্ষে কথা বলতেন। মৃত ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়—এমন বক্তব্য দেওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে রুবিওর তলবে চরম বিতর্কে মোদি সরকার
রাশেদ খান বলেন, শহীদ ওসমান হাদীকে তাঁরা আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন। তিনি তাঁর নাম ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে সর্বজনীন মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন