০৯:১০ পি.এম
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির স্পেশাল ফোর্সের ব্যবহৃত একটি ড্রোনে চীनी প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করা এবং এটি থেকে চীনে সংকেত পাঠানোর প্রকাশিত খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ দূরনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ড্রোনটির প্রধান ক্যামেরা থেকে গোপন তথ্য ও সংকেত চীনের একটি সার্ভারে পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) বিষয়টি অস্বীকার করে বলে, কোনো সামরিক সিস্টেম বা সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে পাচার হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন উল্লেখ করে যে, ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনসের ব্যবহৃত ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড মূল্যের 'কে-থ্রি' মডেলের নজরদারি ড্রোনগুলোতে এই নিরাপত্তার ঝুঁকি ধরা পড়ে। ডাইভারশন ও কৌশলগত সুবিধার জন্য পারস্য উপসাগরের প্রণালি এলাকায় মোতায়েনের অংশ হিসেবে ড্রোনগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। জানা গেছে, ড্রোন প্রস্তুতকারক ক্রাকেন টেকনোলজি গ্রুপ তৃতীয় একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্যামেরাগুলো সংগ্রহ করেছিল। যদিও এগুলো নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ অবস্থায় থাকলেও, তারা প্রতিনিয়ত চীনে তথ্য পাঠাতে সক্ষম ছিল বলে অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ায় আটকেপড়া ১৮০০ বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি
বিষয়টি নজরে আসার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্যামেরাগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে সামরিক সরঞ্জামাদিতে চীনা যন্ত্রাংশের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য জরুরিভাবে নিরীক্ষার দাবি করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বিশেষ সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের এভাবে রেকর্ড হওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর ঝুঁকি।
চীনের কাছে ডেটা পাচার বা প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারির উদ্বেগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেন বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২০ সালে ৫-জি নেটওয়ার্ক থেকে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়েকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি সম্প্রতি ব্রিটিশ বিশেষ বাহিনীর সদর দপ্তরে চীনের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন