সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৫ পি.এম
শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের জাফনার চেম্মানি অঞ্চলে একটি গণকবর থেকে ৫৭২ জনের কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ও নবজাতকও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শ্মশান সম্প্রসারণের জন্য খননকাজের সময় শ্রমিকরা প্রথম মানবদেহের অবশিষ্টাংশ দেখতে পান।
আগস্ট মাসে খননের তৃতীয় ধাপে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এসব কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করেন। সেখানে চুড়ি, স্কুলব্যাগ ও দুধের বোতলের মতো ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। এটি শ্রীলঙ্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের সময় চেম্মানিতে গণকবর থাকার অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও অধিকারকর্মীরা ধারণা করছেন, এখানে যুদ্ধের সময় নিহত বেসামরিক মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে।
নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারগুলো দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের আশা, এই গণকবর থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা প্রিয়জনদের ভাগ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তামিলদের একটি অংশ বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছে। তবে ধীরগতির খননপ্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চেম্মানি আবারও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিলেন তামিল। নিরাপত্তা বাহিনী ও তামিল টাইগার—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনী জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চেম্মানি এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ে। সেখানে সেনা ক্যাম্প ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়। একই সময়ে বহু বেসামরিক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নিখোঁজদের একজন ছিলেন কান্দাইয়া জয়পালান। ১৯৯৬ সালে চেম্মানির কাছে একটি চেকপয়েন্ট থেকে সেনাবাহিনী তাকে আটক করে নিয়ে যায় বলে তার মেয়ে জেয়ারুবি জয়পালান জানান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। এর আগে একই এলাকায় তামিল স্কুলছাত্রী কৃষান্তি কুমারস্বামীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পাঁচ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে চেম্মানি এলাকায় তার মরদেহ ও পরিবারের সদস্যদের মরদেহ পাওয়া যায়।
এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক সেনাসদস্য পরে দাবি করেন, চেম্মানিতে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল। এর পর ১৯৯৯ সালে সেখানে খনন চালিয়ে ১০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে নতুন করে আবিষ্কৃত গণকবরটি আগের স্থানটির কাছেই হওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি করছেন।
শ্রীলঙ্কা মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেহাবশেষগুলোর বেশিরভাগই অগভীর ও ঘনভাবে সমাহিত ছিল। কমিশনের মতে, এসব সমাহিতকরণ অবৈধ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
চেম্মানিতে নতুন গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো প্রতিবাদ ও স্মরণানুষ্ঠান করছে। তারা আশা করছে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিখোঁজ স্বজনদের পরিচয় জানা যেতে পারে। ৬৫ বছর বয়সী সুসিলা ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া তার একমাত্র ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধান করছেন। তিনি বলেন, ছেলেকে ছাড়া তার জীবন শূন্য হয়ে গেছে।
চেম্মানি থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো বর্তমানে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এখনো ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়নি। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, দেহাবশেষের বয়স ও মৃত্যুর কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে কিছু নমুনা বিদেশেও পাঠানো হতে পারে।
গত কয়েক দশকে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি গণকবরের সন্ধান মিলেছে। তবে এসবের কোনোটিই জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে যুক্ত করা যায়নি। এ কারণে নতুন তদন্ত নিয়েও অনেক তামিল পরিবারের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
২০১৮ সালে মান্নারে পাওয়া একটি গণকবর থেকে ৩৫০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার হলেও তদন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। পরিবারগুলো এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি চায়। সরকার বলছে, চেম্মানির তদন্তে তারা সহযোগিতা করছে। বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা জানান, খননকাজ অব্যাহত থাকবে এবং দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
নিখোঁজদের পরিবারের কাছ থেকেও ডিএনএ নমুনা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী গণহত্যার পর বেসামরিকদের চেম্মানিতে কবর দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে।
শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধকালীন নিখোঁজ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক চাপের পর ২০১৮ সালে নিখোঁজদের সন্ধানে অফিস অব দ্য মিসিং পারসন্স (ওএমপি) গঠন করা হয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, সংস্থাটি এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও হত্যার বহু মামলা এখনও ঝুলে আছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
জাতিসংঘ শ্রীলঙ্কাকে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা তদন্তের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কার পরপর কয়েকটি সরকার যুদ্ধকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকারের সামনে এখন অতীতের বিলম্ব ও অস্বীকারের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। নিখোঁজ ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধানে থাকা সুসিলা বলেন, ‘আমি জানি না এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আর কতদিন বাঁচব, কিন্তু আমি এর একটা শেষ দেখতে চাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাউফল উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
আজ সোমবার, বেলা ১১টায়, বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি), ঢাকার উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণটি আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনআইএলজির মহাপরিচালক (সচিব) মো. আমিনুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার এবং এনআইএলজির কর্মকর্তা আব্দুল জলিল মল্লিক। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব-কর্তব্য, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা, সামাজিক সচেতনতা এবং সরকারি কার্যক্রমে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার থানচি উপজেলার বলীপাড়া ইউনিয়নের বলীপাড়া বাজারে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপির পক্ষ থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা।
তিনি মন্তব্য করেন, "অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তাদের এ দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা জরুরি।" তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং, জসিম উদ্দীন, চনু মং মার্মা, মা সেতু তংসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে থানচি উপজেলার বলীপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৩টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ফলে বলীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন এবং পুনরায় ব্যবসা চালু করতে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি করতে জেলা প্রশাসন ঢাকায় একটি বৃহৎ ‘জব ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগে বিভিন্ন এনজিও সহায়তা প্রদান করবে। চাকরি প্রদানের পাশাপাশি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও থাকবে এই আয়োজনে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ১১ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলার এনজিওগুলোর সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। সভায় জেলার বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি এনজিও এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মন্তব্য করেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলার কোন এলাকায় কোন এনজিও কী ধরনের প্রকল্প পরিচালনা করছে এবং এসব কার্যক্রম মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে। এনজিওগুলোর প্রতিটি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে এনজিওগুলোর সফল উদ্যোগগুলোর প্রচার এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সফল উদ্যোগ অন্য প্রতিষ্ঠান বা এলাকায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। তাই ভালো উদ্যোগগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় এনজিওগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে বড় পরিসরে জব ফেয়ার আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, এই আয়োজন শুধুমাত্র চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এর মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
জব ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ১১ সদস্যের সমন্বয় কমিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, চাকরির সুযোগ চিহ্নিতকরণ, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং উদ্যোক্তা সহায়তার বিষয়গুলো সমন্বয় করবে। পাশাপাশি আয়োজনের স্থান, সময় ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে কমিটি।
সভায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এনজিওগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি চিহ্নিত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ডেঙ্গু ফ্রি জোন’ গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ফরিদা খানম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, মানুষের জীবনে দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় এনজিওগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এনজিওগুলোর কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী বাজারসংলগ্ন কুমার নদে দীর্ঘ ১২৫ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা এবার বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘তেলজুড়ী নৌকাবাইচের মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজন স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর নৌকাবাইচকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে বসে জমজমাট মেলা। তবে এবার আয়োজন না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেলজুড়ী বাজারসংলগ্ন কুমার নদে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী বাজার বণিক সমিতি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবছর মেলা পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সর্বশেষ কমিটিতে সভাপতি করা হয় বিএনপি নেতা শাকির আহমেদ শাকু ফকিরকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. রহমান মেম্বারকে।
সম্প্রতি মেলা আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিটির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির পদত্যাগ করলে কমিটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এরপর চলতি বছর মেলা ও নৌকাবাইচ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মেলা কমিটির সাবেক সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকিরের দাবি, পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে মেলা আয়োজন নিয়ে নিরাপত্তা-শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই উপজেলার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া বড় পরিসরে মেলা আয়োজন করা কঠিন। গত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের একটি পক্ষ মেলা আয়োজনে বাধা দিচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শাকির আহমেদ শাকু ফকির বলেন, বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই তিনি কমিটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি অন্যদের দায়িত্ব নিয়ে মেলা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, চলতি বছর মেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রহমান মেম্বার। তাঁর দাবি, মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণেই এবার মেলা আয়োজন করা হয়নি।
তিনি বলেন, গত বছর মেলা-পরবর্তী সময়ে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও মেলার কয়েক দিন আগে ময়েনদিয়া, জয়পাশা, ধুলজুড়া ও পরমেশ্বরদীর লোকজনের সঙ্গে খারদিয়া গ্রামের লোকজনের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
রহমান মেম্বারের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে মেলা আয়োজন করা হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। এর পাশাপাশি মেলা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও স্পনসর না পাওয়ায় এবার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
মেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হলেও মেলা বন্ধ হওয়ার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধেরও প্রভাব রয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতার ইন্ধনে তাঁদের কিছু সমর্থক ঐতিহ্যবাহী এ মেলা বন্ধে তৎপর ছিলেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিরোধের কারণে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজন বন্ধ হওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নৌকাবাইচ ও মেলা পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন ধরে মেলার সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত মিষ্টির দোকানি আ. জব্বার মোল্যা বলেন, তাঁদের পরিবার প্রায় এক শতাব্দী ধরে এ মেলায় মিষ্টি বিক্রি করে আসছে।
তিনি জানান, তাঁর দাদা ও বাবা এ মেলায় ব্যবসা করেছেন। তিনিও প্রায় ৫০ বছর ধরে আমিত্তি, গজা, দানাদার ও জিলাপি বিক্রি করে আসছেন। এবার মেলা হবে ধরে নিয়ে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ময়দা, চিনি ও বেসন কিনেছেন। ইতোমধ্যে কয়েক মণ মিষ্টিও তৈরি করা হয়েছে।মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
এমন ক্ষতির কথা জানিয়েছেন মেলার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাঁদের ভাষ্য, সারা বছর তাঁরা এ মেলার অপেক্ষায় থাকেন এবং মেলাকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়।
শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, মেলা বন্ধের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। মেলা কমিটি সহযোগিতা চাইলে তিনি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, কয়েকদিন আগে মেলা কমিটির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন তাঁরা মেলা আয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। মেলা বন্ধের বিষয়ে তাঁকে কেউ অবহিত করেনি।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর মেলাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে জয়পাশা গ্রামে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পাশার পক্ষ নিয়ে তেলজুড়ীতে হামলার অভিযোগ ওঠে খারদিয়া গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে।
ওই হামলায় তেলজুড়ী এলাকায় ১৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে তেলজুড়ী ব্রিজসংলগ্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ ও মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এখন মূল আলোচনা, রাপত্তা নিশ্চিত করে কবে আবার ফিরবে তেলজুড়ীর ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ