১১:২০ পি.এম
২০১১ সালের আগস্ট মাস। স্বাস্থ্যগত কারণে স্টিভ জবস যখন অ্যাপল ছাড়েন, তখন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন টিম কুক। অনেকেই তখন সন্দিহান ছিলেন। কারণ কুক পরিচিত ছিলেন সাপ্লাই-চেইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি কি জবসের মতো উদ্ভাবনী ধারা ধরে রাখতে পারবেন? ১৫ বছর পর আজ টিম কুক যখন পদত্যাগ করছেন, তখন সেই প্রশ্নের অকাট্য উত্তর দিচ্ছে পরিসংখ্যান।
কুকের এই দীর্ঘ মেয়াদে অ্যাপলের বাজার মূলধন ৩৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে আকাশ ছুঁয়ে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় অ্যাপলের শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ১৩ ডলার। সেটি ২,৩৫৯ শতাংশেরও বেশি বেড়ে এখন ৩১৯.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানির বার্ষিক আয় ১০৮ বিলিয়ন থেকে ছাড়িয়েছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার।
টিম কুকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো অ্যাপলকে হার্ডওয়্যারের গণ্ডি পেরিয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল পে ও অ্যাপ স্টোরের মতো সার্ভিস খাতগুলো এখন কোম্পানির অন্যতম আয়ের উৎস, যা থেকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
হার্ডওয়্যারের জগতেও তার বড় ছাপ রয়েছে। ইন্টেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ম্যাক কম্পিউটারের জন্য নিজস্ব প্রসেসর ‘অ্যাপল সিলিকন’ তৈরি করে তারা। ২০১৫ সালে বাজারে আসে স্বাস্থ্য ও ফিটনেসনির্ভর অ্যাপল ওয়াচ। এর ঠিক এক বছর পর ওয়্যারলেস এয়ারপডস এনে বিশ্বজুড়ে নতুন উন্মাদনা তৈরি করে অ্যাপল।
তবে তার এই দীর্ঘ সফল যাত্রা পুরোপুরি বাধাহীন ছিল না। ২০১২ সালে ভুল তথ্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল অ্যাপল ম্যাপস। দাম বেশি হওয়ায় ২০২৩ সালে বাজারে আসা ‘ভিশন প্রো’ হেডসেটটিও সাধারণ গ্রাহকদের খুব একটা টানতে পারেনি। এছাড়া বিপুল খরচের পর শেষমেশ বাতিল করতে হয় তাদের উচ্চাভিলাষী ইলেকট্রিক ও স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রকল্প ‘প্রজেক্ট টাইটান’।
কুকের বিদায়ের পর অ্যাপলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। মাইক্রোসফট, গুগল বা ওপেনএআই যখন এই দৌড়ে আগ্রাসী, অ্যাপল তখন গোপনীয়তা ও সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশনের দিকে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। টিম কুকের রেখে যাওয়া এই বিশাল সাম্রাজ্য এবং এআই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার এই কঠিন পরীক্ষা এখন দিতে হবে তার উত্তরসূরি জন টার্নাসকে। ব্যর্থতার কিছু গল্প থাকলেও, কুকের হাত ধরে অ্যাপলের এই অবিশ্বাস্য আর্থিক উত্থান সত্যিই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন