০৩:২২ পি.এম
ইতালির রোমে কনসার্টকে ঘিরে নানা বিতর্কের মধ্যে, এবার একটি অভিযোগ সামনে এসেছে যে হোটেলকক্ষ নোংরা ও অগোছালো রেখে যাওয়ার ঘটনায় নগরবাউল জেমস মুখ খুলেছেন।
তার দাবি, আলোচনার মাধ্যমে যে কক্ষটি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাঁর ছিল না।
শুক্রবারের এক সংবাদ সম্মেলনে জেমস বলেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর দলের একজন তরুণ অতিথি গিটারিস্ট। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি মনে করেন যে, বিষয়টিকে অযথা বড় করে দেখার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
বৃহস্পতিবার ইতালির ভেনিসে সংবাদ সম্মেলনে এই সব বিষয় নিয়ে কথা বলেন জেমস। একই সঙ্গে রোমের কনসার্টকে ঘিরে আয়োজকদের দিক থেকে তোলা প্রতারণা ও অর্থসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয় নিয়েও চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে এসে, জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। চেক-আউট করার পর, ওই কক্ষটির কয়েকটি ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে।
এতে অভিযোগ করা হয়, একটি কক্ষ অপরিষ্কার ও অগোছালো অবস্থায় রেখে গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই কক্ষটি ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে জেমস বলেন, ‘অভিযোগটি ৫৪৯ নম্বর রুম–সংশ্লিষ্ট। রুমটিতে আমাদের একজন অতিথি গিটারিস্ট ছিলেন। ইয়াং ছেলে। নিয়ম কিন্তু সব সময় হোটেল থেকে ক্লিনিং করা। ইয়াং ছেলে, তারা হয়তো পরিষ্কার করেনি।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
কিন্তু এটি এমন বড় কিছু নয়। হোটেলে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে। প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, তারা হয়তো সেটি করেনি।’
এই বিষয়টিকে সাধারণ ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই রুম এলোমেলো রাখে। যদি হোটেল কর্তৃপক্ষ সত্যিই ২০০ ইউরো জরিমানা করে থাকে, তাহলে এটা তেমন বড় ফাইন (জরিমানা) নয়। অনেক সময় দেখা যায়, কেউ রুমে ধূমপান করে ১০০ অথবা ২০০ ইউরো জরিমানা দেয়। একেক দেশে একেক নিয়ম, এটা বড় কোনো বিষয় নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলেও, জেমস এর মধ্যে খুব একটা বিচলিত নন। তাঁর কথায়, ‘এটা নিয়ে এত বড় একটি ইস্যু করার প্রয়োজন নেই। তারা করতেছে করুক, করুক না। ফোন আছে, দুই-চারটা কথা লিখতেছে, লিখুক। বাধা দেওয়ার কিছু নেই। তারা মন খুলে লিখুক, স্বাধীনতা আছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে, জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন জানান, যে কক্ষ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে জেমস অবস্থান করেননি।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
তাঁর ভাষ্যমতে, দলের জন্য মোট চারটি কক্ষ নেওয়া হয়েছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে এবং রবিন ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। বিতর্কিত ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য একজন সংগীতশিল্পী।
রবিন বলেন, ‘হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য এক মিউজিশিয়ান। তাই একজনের কক্ষের অবস্থার দায় জেমসের ওপর দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা। তাঁকে নিয়ে এই ধরনের মিথ্যাচার কারোর কাছেই কাম্য নয়।’
হোটেলের নিয়ম না মেনে কিংবা রিসেপশনে যোগাযোগ না করেই কক্ষ ছাড়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন রবিন।
রোমের ওই কনসার্ট ঘিরে ইতালির আয়োজক হোসাইন আহমেদ প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে হিসাবের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই অর্থের হিসাব দিতে রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন অস্বীকৃতি জানিয়েও অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ডাকা হয়েছিল বলেও জানান আয়োজক।
আরও পড়ুন: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ
কিন্তু এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে জেমসের পক্ষ। রবিনের দাবি, কনসার্ট আয়োজনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল এবং চুক্তি লঙ্ঘনের কোন ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন