১০:১৫ এম
তামার মূল্য সোনার চেয়ে বেশি, এ কথা শুনলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। "পাগল নাকি?" বলাটাই স্বাভাবিক। তবে এবার জাপান এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে সোনার চেয়ে এক টুকরো তামার দাম বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে মোট ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে। এই অঙ্কটি হয়তো আরও বাড়তে পারে। প্রথমে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ৩৭ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তা কাটছাঁট করে ২০ কোটিতে নামিয়ে আনে। দেশের বর্তমান আর্থিক সংকটে এই টাকা একটি বিশাল পরিমাণ। এত বড় খরচের পরও সোনা বা রৌপ্য নয়, মিলল এক টুকরো তামা।
এবার বাংলাদেশ ব্যক্তিগত ও একক মিলিয়ে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ করেছিল। সেখানে অর্জিত হয়েছে মাত্র একটি তামা। উশুতে পদকটি জিতেছেন জিন্নাত আক্তার, তা-ও সৌভাগ্যক্রমে। নিয়ম অনুযায়ী উশুতে সেমিফাইনালে উঠলেই পদক নিশ্চিত হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ না আসায় তিনি সেমিফাইনালে চলে যান। পরে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তিনি জয়ী হতে পারেননি। সেমিফাইনালে না খেলে ওঠার সুবাদে তিনি তামা গলায় ঝোলান। ২০ কোটি টাকার প্রাপ্তি কী, এর উত্তর একটাই—এক টুকরো তামা। একে অর্থ অপচয় ছাড়া আর কী বলা যায়? এমন কথাও উঠেছে—বাজেটের পুরো টাকা খরচ হয়েছে কি না, কারণ ক্রীড়া কর্মকর্তাদের অভ্যাস সবারই জানা।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে না, তা আগেই ক্রীড়ামোদীরা জানতেন। কিন্তু দেশ ছাড়ার আগে গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন কিছু ডিসিপ্লিনের কথা বলেছিলেন। যেসব খেলায় ভালো করার সম্ভাবনা ছিল, তা কি হয়েছে? পুরুষ ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট, পুরুষ কাভাডি, নারী কাভাডি, আর্চারি, শুটিং ও সাঁতারে ভালো করার আশা করা হয়েছিল। অথচ সবকিছুই ছিল শূন্যতায় ভরা। পুরুষ ক্রিকেটে তামা আসবে, এ ব্যাপারে অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন। বাস্তবে তামাও মিলল না। নারী ক্রিকেটেও ভরাডুবি। তাহলে আর দল পাঠানোর লাভ হলো কী?
আরও পড়ুন: ঢাকা ক্রিকেটার্সকে উড়িয়ে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের হ্যাটট্রিক জয়
জাতীয় কাবাডিতে পুরুষ দল এক দিনে দুই জয় পেয়ে যে উৎসব উদযাপন করেছিল, তা বিশ্বকাপ জয়ের মতো। কিন্তু বাস্তবে এমন ভরাডুবি ঘটল যে, তামার পদকও গলায় ঝুলল না। নারী বিভাগেও একই অবস্থা। অথচ এই কাভাডি একসময় ছিল এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম ভরসা। আর্চারি নিয়ে দেশে যে হৈচৈ হয়, তাতে মনে হয় এরা সাফল্য ছাড়া আর কিছু বোঝেন না। এশিয়ান গেমসে যা দেখা গেল, তীর ছুড়তেই যেন আর্চাররা ভুলে গিয়েছিলেন। শুটিং বা সাঁতারে হিটেই আউট। অ্যাথলেটিকসসহ সব কিছুতেই ভরাডুবি।
যখন কিছুই পাবেই না, তখন কোন যুক্তিতে এত ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা হলো? ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা অর্জনের কথা চিন্তা করে কি তা করা হয়েছিল? নাকি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার জন্য? এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু তা ব্যয়বহুল বাজেটে কেন? সম্ভাবনাময় কিছু খেলাতেই তো সীমাবদ্ধ রাখা যায়। ফেডারেশন থেকে বলা হয় অর্থ সংকটে খেলোয়াড়দের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি না। বাস্তবেও এ কথা সত্য। ক্রীড়া পরিষদের স্বল্প বাজেটে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছু করা যায় না। ঠিক জায়গায় অর্থ নেই। অথচ বিদেশে গেমস এলে পাহাড় সমান অর্থ খরচ হয়। জাপান এশিয়ান গেমসের বাজেট ২০ কোটি টাকা। এই অর্থ যে শুধু ক্রীড়াবিদদের পেছনে গেছে, তা নয়। ২৬০ জনের বহর জাপানে গিয়েছিল, এর মধ্যে কর্মকর্তাদের ছড়াছড়ি। এমনকি কোচ সেজে কর্মকর্তারা জাপানে গেছেন। এ যেন পিকনিককেও হার মানায়।
এ দায়-দায়িত্ব তো অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। তারাই তো বড় বড় গেমসের বহর ঠিক করে। সরকার থেকে বারবার বলা হচ্ছে, অর্থ অপচয় রোধ করতে। কিন্তু এই সংস্থা তা মানছে না। কোন যুক্তিতে অর্থ অপচয় করে এত বড় দল পাঠানো হলো, তার কোনো জবাবদিহি নেই। তাই অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন যা খুশি তাই করছে। নিজেদের পছন্দের লোক পাঠাতে হবে। আলাদাভাবে প্রেস অ্যাটাসে পাঠানো হয়েছিল। এতে কি দলের কোনো উপকার হয়েছে? হয়ে থাকলে ভালো।
ক্রীড়াঙ্গনে শুধু ফেডারেশন নিয়েই মন্দ কথা বলা হয়। প্রহসনমূলক নির্বাচন, দুর্নীতি, আরও কত কী। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এখানে আড়ালে থেকে যাচ্ছে। নির্বাচনে অনিয়ম থাকায় আমিনুল ইসলামের নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান যে কমিটি রয়েছে, তাদের নির্বাচন কি স্বচ্ছভাবে হয়েছে? আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন, যা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। সেই বিলুপ্ত কমিটিই নাকি বর্তমান বিওএকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কথাটি সত্য কি না জানি না। বিওএ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ভাবতে হবে। তা না হলে গেমস ঘিরে শুধু বিতর্ক বাড়বে। টাকা আর টাকা যাবে। সাফল্য আসবে না। হয়তো দলের চেয়ে ব্যক্তিরাই লাভবান হবেন।
আরও পড়ুন: বায়ার্নের গোলবন্যায় ৬-১ গোলে ভাসল লাইপজিগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন