০৯:২৪ পি.এম
লন্ডনের কেন্দ্রে একটি বিশাল চীনা দূতাবাস নির্মাণের পরিকল্পনার পক্ষে রায় দিয়েছে একটি ব্রিটিশ আদালত। একই সঙ্গে আদালত কর্তৃক এর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) লন্ডনের হাইকোর্ট ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জটি খারিজ করে দেয়।
সংগঠনটি দূতাবাস নির্মাণের বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করেছিল। তাদের অভিযোগ হলো, দূতাবাসটি নির্মিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবাধিকারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দুই বিচারক ভার্চুয়ালি শুনানিতে বাসিন্দাদের দাবিগুলো খারিজ করে দিয়েছেন এবং জানান, আবাসন মন্ত্রী এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাসে পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়ে আইনসম্মত কাজই করেছে।
‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর কাছে অবস্থিত দুই শতাব্দীর পুরনো ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট’ এলাকায় দূতাবাসটি নির্মাণের জন্য চীনের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছিল, যা হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চীন সফরের ঠিক আগে। প্রস্তাবিত স্থানটির নিকটবর্তী প্রায় ১০০টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ওই আবাসিক সংগঠনটি বলেছে, দূতাবাসের উপস্থিতির ফলে সন্ত্রাসী হামলা ও বিক্ষোভ দমনের মতো ঘটনাগুলো ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
এছাড়া তারা দাবি করেছিল, এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো এবং চীনের কঠোর বা দমনমূলক আইন কার্যকর করার চেষ্টা করা হতে পারে বলে তাদের উদ্বেগ। সংগঠনটি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তারা উল্লেখ করেছেন, কূটনৈতিক দায়মুক্তির (ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি) কারণে যুক্তরাজ্য সরকার সেখানে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকর করার সুযোগ পাবে না।
বাসিন্দা সংগঠনের প্রধান লুক পোলার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, বেইজিং হয়তো ভাবছে এই রায়ই শেষ কথা। কিন্তু তা নয়। আপিল করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তারা যদি আশা করে যে আমরা মাথা নত করব এবং আমাদের রাজধানীকেই সিসিপি (চীনা কমিউনিস্ট পার্টি)-র ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হতে দেব, তবে এই বিশাল দূতাবাসের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিরোধিতার শক্তিকে তারা সম্পূর্ণ ভুল বুঝেছে।
বেইজিং ২০১৮ সালে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রয়্যাল মিন্ট’-এর জায়গাটি প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিল। ২০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই স্থানে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম দূতাবাস কমপ্লেক্স গড়ে উঠবে। আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বরো কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় তারা বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো ‘সতর্কতা ও বিবেচনার সঙ্গে’ আমলে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন