ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে: ত্রাণমন্ত্রী দুলু


বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

লালমনিরহাট, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। 

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আজ শুক্রবার লালমনিরহাট পৌরসভা এলাকায় শ্রী শ্রী গৌরী শংকর সোসাইটির আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার

দুলু বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে কোনো সম্প্রদায় যেন নিজেদের দুর্বল মনে না করে, সেজন্য তাদের ধর্মীয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

গৌরী শংকর সোসাইটির উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সোসাইটির সম্পত্তি সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এত বড় সম্পত্তি ফেলে রাখলে তা দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য নতুন কমিটিকে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

লালমনিরহাটের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী সিন্ধুমতী দিঘিকে ঘিরে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেখানে দুর্গা, কালী ও শিব মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী হীরালাল রায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী শৈলেন্দ্র কুমার রায় এবং হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি শ্রী গুরু চরণ রায়সহ সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ আখ্যা দিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিপিবি কার্যালয়ে হামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণভোটের রায় না মানলে সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ: মামুনুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


গণভোটের রায় না মানলে সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের ভোটে দেওয়া গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক দায় নয়, বরং সরকারের বৈধতার স্বার্থের জন্যও তা অত্যন্ত জরুরি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার সাতমাথার খোকন পার্কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বগুড়া জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মামুন রাহমানী।

 

আল্লামা মামুনুল হক আরও বলেন, একই নির্বাচন কমিশন, একই তফসিল, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে দুই নির্বাচনের ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। তাই একটি নির্বাচন ও তার ফলাফলকে বৈধ দাবি করে অন্যটিকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, গণভোটটি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনা ও ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয় এবং এর বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

তিনি আরও বলেন, এখনো সময় আছে। সরকারের উচিত বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখানো। জনগণের সামনে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি সরকার পার হয়ে যায় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং সংশোধনের পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, শুধুমাত্র সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করলে তা পরবর্তী সরকার পরিবর্তন করে দিতে পারে। তাই স্থায়ী ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ কোনো সরকার সহজে তা বাতিল করতে না পারে।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমরা দুর্বল কোনো সংশোধন চাই না; বরং আমরা এমন সংস্কার চাই, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর ও স্থায়ী হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলেম-ওলামাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে ইসলামী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

ইসলামপন্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক পক্ষকে আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া এবং পারস্পরিক সংঘাত তৈরি করা হলে ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে ধ্বংস করাই এমন ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোশাররফ হুসাইন লাবীব, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল আহাদ। এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলসহ বগুড়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও উপকূলের জেলেদের মুখে নেই হাসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


দীর্ঘ অপেক্ষার পরও উপকূলের জেলেদের মুখে নেই হাসি

উপকূলের জেলেদের মুখে হাসির অভাব, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও।"অপেক্ষায় ছিলাম কবে সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। দীর্ঘ তিন মাস পর অনুমতি পেলাম, কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টি, মরা কাটাল ও বনদস্যুর চাঁদার টাকা ম্যানেজ করতে না পারাই সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি নিয়েও যেতে পারিনি।

 

ভেবে ছিলাম পরিবারের মুখে হাসি ফোটাব, কিন্তু সেটা আর হলো না।"—এভাবেই খুলনার কয়রা উপজেলার ৬ নং কয়রা এলাকার জেলে আলামিন শেখ তার কষ্টের কথা ব্যক্ত করেন।

আলামিন শেখের মতো অনেক জেলে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে পারেননি। অনেকেই সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি নিতে আগ্রহী হননি।

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞার তিন মাস পর বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুয়ার খুললেও উপকূলীয় বনজীবীদের মুখে স্বস্তির হাসি নেই। সুন্দরবনে যাওয়ার প্রতি তাদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের উপস্থিতিতে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে আসতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ ছিল। এরপর ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন উন্মুক্ত করা হয়।

 

তবে বনজীবীরা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জীবিকার তাগিদে বনে ফেরার আনন্দে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, সৃষ্ট লঘুচাপ, মরা কাটাল ও বেপরোয়া জলদস্যু বাহিনী।

জেলেরা উদ্বেগের সঙ্গে জানান, সুন্দরবনে প্রবেশের পূর্বশর্ত হিসেবে বিপুল অংকের চাঁদা দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার কারণে তাদের পক্ষে ম্যানেজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে উপকূলজুড়ে বনজীবীরা চরম উদ্বেগ ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনসংলগ্ন নদীতে মাছ ধরছিলেন আমজেদ গাজী। সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরেই তার সংসার চলে।

 

তিনি বলেন, "তিন মাস সুন্দরবনে ঢুকতে না পারায় খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন মাছ ধরতে না পারলে সংসার চলবে না, তাই নদীতে আসছি। কয়ডা মাছ পাইনি কি না, বনে যাইনি মরা কাটাল চলছে। সামনের রবিবারে গোনের জোয়ারে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শনিবার পাশ নেব।"

দক্ষিণ বেদকাশির জেলে আব্দুল মজিদ ঢালি জানান, "তিন মাস কোনো আয়ের পথ ছিল না। এবার মাছ-কাঁকড়া ধরার মাধ্যমে দোকানদারের কাছে ধার শোধ করার পরিকল্পনা আছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই আমরা বনাঞ্চলে প্রবেশ করতে অনুমতি নিয়েছি। বনদস্যুর চাঁদা ম্যানেজ করতে কিছু টাকা ঘাটতি আছে ও মরা গোন থাকায় এখনো সুন্দরবনে যেতে পারিনি। শনি-রবিবার আল্লাহ ভালো করলে বনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন যে, অনুমতি নিতে সরকারি রাজস্বের বাইরে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ও কেউ কেউ বন বিভাগের নজর এড়িয়ে এবং কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সুন্দরবনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরেছেন।

এ ছাড়া সারা বছর অভয়ারণ্যগুলোতে মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাছ ধরে থাকেন বিষ দিয়ে। এতে মাছ ও কাঁকড়ার সংখ্যা কমে গেছে বলে তাদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে দস্যুদের চাঁদার ভয়ও বনে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানান, তাদের স্টেশনে ৮৮৪টি নৌযানের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রয়েছে। আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩৪২ জন জেলে অনুমতিপত্র নিয়েছেন। কয়েকদিন বৃষ্টি হচ্ছে। অনুমতি পাওয়ার দিন থেকে নদীতে মরা কাটাল চলছে, এই জন্য অনেকে অনুমতি নেয়নি। অনেকেই নিলেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সামনে গোনে সুন্দরবনে যাবেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে রেজিস্টার্ড বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) রয়েছে ২ হাজার ৭১৭টি। আজ পর্যন্ত অনুমতি নিয়েছেন ৬৮০ জন। সাতক্ষীরা রেঞ্জে রেজিস্টার্ড বিএলসি রয়েছে ২ হাজার ৯০০টি। আজ পর্যন্ত অনুমতি নিয়েছেন ৭৯০ জন। প্রতি নৌকায় দুই থেকে তিনজন করে প্রায় জেলেরা ধাপে ধাপে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-নালায় প্রবেশ করেন।

তবে তিন মাস পর সুন্দরবন খুলে দেওয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (টিওএএস) সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির অধীনে বর্তমানে ৭৫টি নৌযান রয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, "প্রথম দিন থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত খুলনা থেকে ১০টি লঞ্চ ৩১০ জন পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। আবহাওয়া ভালো হলে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে।"

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, "নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়মিত মনিটরিং করা হয়েছে। যার ফলে সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি ও মাছের বংশ বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, "পর্যটক ও বনজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরবনের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনদস্যুর তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন রক্ষায় কোস্ট গার্ড ও বনবিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং চলমান আছে।"

তিনি জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, জেলে ও বননির্ভর মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরের সেই ‘ভিডিও’ নিয়ে আনসার-ভিডিপির ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


শাহজালাল বিমানবন্দরের সেই ‘ভিডিও’ নিয়ে আনসার-ভিডিপির ব্যাখ্যা

শাহজালাল বিমানবন্দরের সেই ‘ভিডিও’ নিয়ে ব্যাখ্যা দিল আনসার-ভিডিপিআনসার-ভিডিপি, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওর বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে, যার শিরোনাম ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ ।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আনসার সদস্যদের সঙ্গে এক দর্শনার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আগমনী গেটের ভেতরে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ক্যাপশন এই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে ভিডিওটি প্রচার করা হয়।ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় একজন যাত্রীর স্বজন নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আনসার সদস্যরা তাকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেন।তবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন এবং আগমনী গেটের অভ্যন্তরে বারবার উঁকি-ঝুঁকি দিতে থাকেন। কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা পুনরায় তাকে সরে যেতে বললে তিনি তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অশোভন মন্তব্য, গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ঘটনাটি দায়িত্ব পালনরত অ্যাভসেকের একজন কর্পোরালের নজরে আসলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে কর্পোরালের বাকবিতণ্ডা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পরবর্তীতে অ্যাভসেকের ওই কর্পোরাল কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের নির্দেশ দেন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগমনী গেটের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাভসেক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই আনসার সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপাক্ষিক ক্যাপশনের মাধ্যমে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি, শৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে থাকে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্ন ভিডিও বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে গেছে। অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি এই দেশের সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের তাদের জন্য ভোট ব্যাংক মনে করতো, সেই ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ আপনারা ভেঙে দিয়েছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না; এ কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের কর্তাদের স্বাধীনতা ও উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শুধু সেটা কিতাবে, সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়টা এখানে কোনো মুখ্য নয়। আমরা নাগরিকের পরিচয় এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সকল নাগরিক মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃগোষ্ঠী যারাই হোক, তারা ধর্মীয়ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন।

কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকবো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি থাকবে। এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। এজন্যই আমরা বলি, আমাদের নেতা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি, তারপরে আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়।

সবার আগে বাংলাদেশী এবং সবার জন্য বাংলাদেশ।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউই যেন নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দেন। সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এই দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে আমরা আজকে থেকে কী বলবো? ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখবো। সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি বজায় রাখবো। কেউ আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। এটা হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহ-অবস্থান এবং সামাজিক শান্তি এবং সম্প্রীতি।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%