বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২৭ এম
প্রিয়জনের মৃত্যুর শোকের পাশাপাশি রহস্য উদ্ঘাটনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু ঘটনার ১৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। একাধিক অভিযোগ লিখে থানায় জমা দিতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত রাতের বেলায় আশুলিয়া থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। তাদের দাবি, মামলা নিতে হবে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নরসিংহপুরে অবস্থিত শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) নামের এক মার্চেন্ডাইজারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলার দাবি জানিয়ে আশুলিয়া থানার সামনে অবস্থান করছিলেন নিহত জামাল উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। পরে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিতে গেলে নানা অজুহাতে তা গ্রহণ করা হয়নি। এর আগে বুধবার সকাল ৯টার দিকে শারমিন গ্রুপ থেকে জামাল উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় আশুলিয়া থানা পুলিশ।
নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর উপজেলার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
‘সাত-আটবার অভিযোগ লিখেও মামলা দিতে পারিনি’
নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী খানের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের সন্দেহ, কারখানার ভেতরের কেউ কোনো আক্রোশ থেকে তার ভাইকে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইস্কান্দার আলী খান বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যা। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ভেতরের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা প্রথমে থানায় মামলা করতে আসি, তখন মামলা নেয়নি। পরে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করতে চাইলে সেটিও নিতে চায়নি। এখন নাম উল্লেখ করে মামলা দিতে চাচ্ছি, কিন্তু নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। সাত-আটবার অভিযোগ লিখে এনেও জমা দিতে পারিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘থানা থেকে বলা হচ্ছে, নাম ছাড়া মামলা করলে করতে হবে, নয়তো আদালতে গিয়ে মামলা করতে হবে। আমরা আমাদের অভিযোগ অনুযায়ী মামলা করতে না পারলে থানা থেকে যাব না। প্রয়োজনে সারা রাত থানার সামনে অবস্থান করব।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তাদের অভিযোগের গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তারা যেন ন্যায়বিচার পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে নিহতের ভাই একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সেটি মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে স্বজনদের অভিযোগ, মামলা গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
একজন কর্মজীবী মানুষের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে পরিবারে শোক ও অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার সঙ্গে এখন তাদের লড়াই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার। সেই আকুতি নিয়েই রাত গভীর হলেও থানার সামনে অপেক্ষায় রয়েছেন জামাল উদ্দিনের স্বজনরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চীন থেকে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ৪৫ লাখ টাকার ১৭ হাজার ৫৫০ কেজি প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময়, কাঁচামাল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানসহ সিদ্দিক হোসেন (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, পুলিশের চেকপোস্টে থামার সংকেত পেয়ে আরো ৫-৬ জন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান চালানো হয়।
বুধবার জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিদ্দিক হোসেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকার মৃত সামছুল আলমের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানাধীন আব্দুল হামিদ সড়কের মোহাম্মদ আলীর কলোনিতে বাস করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময়, সন্দেহজনক একটি কাভার্ড ভ্যানকে থামার সংকেত দিলে গাড়ি থেকে ৫ থেকে ৬ জন নেমে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তল্লাশি চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান থেকে ৭০২ বস্তা প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে ১৭ হাজার ৫৫০ কেজি কাঁচামাল ছিল।
উদ্ধার করা এসব কাঁচামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ লাখ টাকা। গ্রেপ্তার সিদ্দিক হোসেন উদ্ধার করা কাঁচামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সরকারি শুল্ক ও অন্যান্য বৈধ কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব কাঁচামাল চীন থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার সিদ্দিক হোসেন, পলাতক আনিস রহমান সুলতান (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাতে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির দ্বারা এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলসংলগ্ন সড়কে এই ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পাসে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও এমন ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী সবুজ আহমেদ, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, ঘটনার পর বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে সিসিটিভি ফুটেজসহ একটি পোস্ট করেছেন। তিনি ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপেও ঘটনাটি নিয়ে পোস্ট করেছেন।
ভুক্তভোগীর পোস্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে জরুরি প্রয়োজনে হবিবুর রহমান হল থেকে হেঁটে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের পেছনের সড়ক দিয়ে খালেদা জিয়া হলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি ফোন বের করে এক বন্ধুকে কল করার চেষ্টা করছিলেন, তখন পেছন থেকে মোটরসাইকেলে এসে এক ব্যক্তি তার হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেয়।
সবুজ আহমেদ জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলটির পেছনের লাইট জ্বলে থাকায় নম্বর প্লেট শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ছিনতাইকারী হলুদ গেঞ্জি পরিহিত ছিলেন। ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তিনি মোটরসাইকেলটির পেছনে ধাওয়া করেন এবং চিৎকার করে সাহায্য চান। এ সময় মেয়েদের হলের বাজারের পাশে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিনতাইকারীকে আটকানোর চেষ্টা করলেও মোটরসাইকেলটি দ্রুত চলে যায়।
ভুক্তভোগী আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সংগ্রহ করা আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেলটিকে কাজলা গেট দিয়ে তালাইমারীর দিকে চলে যেতে দেখা গেছে। তিনি এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ছিনতাই হওয়া ফোনে তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সড়কে ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন যখন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তাদের সামনেই মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যান। ক্যাম্পাসে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই শিক্ষার্থী। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলো খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থীর মতে, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলো খোলা থাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। গেটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা মিলতে পারে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হলসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।’
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা নাজিম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। শুধু আশ্বাস নয়, সিসিটিভি নজরদারি ও নিরাপত্তা টহল বাড়িয়ে ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করে মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। এতে ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জারি করা হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২-এর ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে চাকরি করবেন।
৪৫তম বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০২২ সালের নভেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।
২০২৩ সালের মে মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সবশেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
চূড়ান্ত সুপারিশের ১০ মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশিত হলো।
দীর্ঘসূত্রিতার এই ছায়া ৪৬তম ও ৪৭তম বিসিএস প্রার্থীদের জীবনেও দীর্ঘ হচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে ১ হাজার ৪৫৭ প্রার্থীকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল, যারা নিয়োগ গেজেটের অপেক্ষায় ২৩৫ দিন পার করেছেন।
অন্যদিকে এ বছরের ২৮ জুন ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ক্যাডার পদে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনকে সুপারিশ করা হয়। চার মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনো গেজেট প্রকাশ করেনি।
তবে দীর্ঘসূত্রতা নতুন কোনো ঘটনা নয়।
৪১তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছিল ২০২৩ সালের আগস্টে, আর নিয়োগের গেজেট প্রকাশিত হয় ২৩১ দিন পর, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে।
৪৩তম বিসিএস-এর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুপারিশ ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, কিন্তু প্রথম গেজেট প্রকাশে সময় লেগেছিল প্রায় ২৯৪ দিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।
৪৪তম বিসিএসের প্রক্রিয়া কিছুটা দ্রুত ছিল; ২০২৫ সালের নভেম্বরে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া, ৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগ গেজেট হতে সময় লেগেছিল ২১৬ দিন।
অন্যদিকে, চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস (৪৮তম) পরীক্ষার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর গেজেট হতে সময় লেগেছিল প্রায় ১৩৩ দিন। আর শিক্ষকদের জন্য অনুষ্ঠিত ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগ গেজেট প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ‘সহিংসতার’ অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও সুরাহা দাবি করেছে ভারত। নয়াদিল্লি আশা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ সরকার এই উদ্ভূত পরিস্থিতি যথাযথ গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবেলা করবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তাদের সরকারের এই প্রত্যাশার কথা জানান।
ব্রিফিংয়ের সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত তিন মাসে দেশে সংখ্যালঘু জনগণের ওপর খুনসহ ১৪১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখনও একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। একই বিষয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সংগঠনগুলো পূর্বেও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই সাংবাদিক ভারতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের বিষয়গুলোর সুরাহা করবে।”
ব্রিফিংয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক সাংবাদিক দিল্লিতে আয়োজিত আঞ্চলিক জোট ‘বিমসটেক’-এর প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে যে প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নিয়েছে, তা ইতিবাচক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে দিল্লি।”
বৈঠক শেষে যৌথভাবে গৃহীত ‘দিল্লি ঘোষণার’ কথা স্মরণ করিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “বিমসটেকভুক্ত অঞ্চলজুড়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, সীমান্ত দিয়ে মাদকপাচার প্রতিরোধ এবং অর্থ পাচারবিরোধী কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করতে সব দেশ একমত হয়েছে। ঢাকার অংশগ্রহণ আঞ্চলিক এই নিরাপত্তা চুক্তিকে আরো বেগবান করবে বলে ভারতের আশা।”
ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘একদমই অগ্রহণযোগ্য’। বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দিল্লির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। আহতদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ